শিরোনাম :

  • বিমানের সিটের হাতলে মিলল ২৪ কেজি স্বর্ণ কবি নজরুলের পুত্রবধূ উমা কাজী মারা গেছেন ২০২১ সালের কলকাতার বইমেলা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে ২ ইরানি কূটনীতিককে আলবেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ
সাতক্ষীরায় শীতকালীন সবজিতে কৃষকের মুখে হাসি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:২৭:২২
প্রিন্টঅ-অ+


চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্ত জুড়ে এখন শুধুই সবুজের সমারোহ, সবজিতে ভরে গেছে মাঠ। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ভালো উৎপাদন ও দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরাও। জেলায় ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, শিম, বরবটি ও টমেটোর আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার ৭ উপজেলায় ৯ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় এক হাজার ৭৩০ হেক্টর, তালায় এক হাজার ৭৬০ হেক্টর, দেবহাটায় ৫৭৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে এক হাজার ৯২০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৬৫০ হেক্টর ও শ্যামনগরে ৭১০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল মোট ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে এ বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ বেশি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাকি জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে জমি থেকে দুই দফা ফুলকপি উত্তোলন করে বাজারে বিক্রিও করেছেন। ভালো দাম পেয়ে বেশ খুশি এই কৃষক।

আব্দুস সাত্তার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর প্রতি কেজি ফুলকপি পাইকারি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করলেও এ বছর ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ বাঁধাকপি ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতি মণ বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছিল ৩০০-৪০০ টাকায়।

তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের ওমর আলী খানের ছেলে কৃষক মুন্না ইসলাম সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ওলকপি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সবজির দাম বেশি রয়েছে। সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এ পর্যন্ত ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছেন, উৎপাদিত ফসল সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

অন্যদিকে, শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগজ্ঞ ইউনিয়নের হরিনগর বাজার এলাকায় সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে শীত মৌসুম তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমে যাবে।

জেলা কাঁচামাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির কোনো ঘটতি নেই। চাহিদা ও সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। ফসলের ভালো দাম পেয়ে কৃষকরাও খুশি।

সবজির আবাদ বেড়েছে জানিয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এ জেলায় বারো মাসই নানা ধরনের সবজি উৎপাদন হয়। গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে ৫৫০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও রোগবালাই কম হওয়ায় ফলনও বেশি হয়েছে। বুলবুলের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সামান্য ক্ষতি হলেও তার প্রভাব বাজারে পড়েনি। সরবরাহ রয়েছে যথেষ্ট।



আমার বার্তা/১২ ডিসেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন