শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
লক্ষ্মীপুরে জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন
কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৯:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

অতিবৃষ্টি আর অব্যাহত জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর উপকুলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলার কয়েক হাজার একর আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।


জানা যায়, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীর পানি ঢুকে ধান ক্ষেত তলিয়ে যায়। দিনে দুই বার এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়। এভাবে দীর্ঘ সময় ধানের চারা পানির নীচে থাকার কারণে পঁচে বিনষ্ট হয়ে গেছে। 


সরেজমিনে কমলনগর-রামগতি উপজেলার বেশ কয়েটি ইউনিয়ন ঘুরে বিনষ্ট ধান ক্ষেত্রে চিত্র দেখা গেছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জোয়ার আসার পর ওইসব এলাকার ধানের ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হতে দেখা যায়।জোয়ারের পানি প্রতিনিয়ত লোকালয় এবং জমিতে প্রবেশ করে। পানি নেমে যাওয়ার সময় ধানের চারাও সাথে নিয়ে যায়। চলতি মৌমুমে এসকল ক্ষেতে আর কোন ধানের চারা লগানো সম্ভব নয় বলে জানান স্থানীয়রা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, সরকারী প্রনোদনা আসলে তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগীতা করা হবে। 


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ৮১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদরে ২২ হাজার ২০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৩ হাজার ৩১০, রামগতিতে ২৪ হাজার ১০, কমলনগর ১৯ হাজার ৭০০, রায়পুরে ১২৬৯৫ হেক্টর। আবাদি জমিতে চারা রোপণের জন্য রামগতিতে ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টর ও কমলনগরে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টরে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়।


কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন এলাকার জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ এলাকার কৃষকরা একেবারে গরীব। ধারদেনা করে তারা জমিতে আমনের চাষ শুরু করেছেন। কেউ এনজিও থেকে ঋণ, আবার কেউ ধানের উপর দাদন (সুদের বিনিময়ে টাকা) নিয়েছেন। ফসল উঠলে ঋণ পরিশোধ করে ঘোলায় ধান উঠানোর স্বপ্ন ছিলো তাদের। কিন্তু মেঘনার জোয়ারের পানির স্রোতের সাথে তাদের সপ্নও বিলীন হয়ে গেছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে জমিতে আমন ধানের চারা লাগিয়েছেন। জমিতে হালচাষ, ধানের চারা এবং চারা লাগানো বাবদ হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু জোয়ারের পানির কারণে তার সে ধানের ক্ষেত পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে রোপণ করার জন্য এখন আমন ধানের চারাও নেই। তা ছাড়া কৃষি বিভাগ থেকেও তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেনা তারা। তারা আরও জানান, কৃষকরা বলছেন, মেঘনা তীর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে প্রতিদিন জোয়ারের পানি ঢুকে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। তা ছাড়া এখন জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার একর জমির আমন ধান পচে যাচ্ছে। অপরদিকে কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বিষয়ে কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। 


চরমমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী বলেন, নদীর উপকূলীয় এলাকায় তীররক্ষা বাঁধ না থাকার কারণে জোয়ারের পানি খুব সহজে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরী করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে।


এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সরকারী প্রনোদনা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী সহযোগীতা করা হবে।  


আমার বার্তা/সি এইচ কে

আরো পড়ুন