শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
নেত্রকোনা সন্তানের নামে মিথ্যা মামলা: অনশনে মা
২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০৯:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নির্বাচনী সহিংসতায় বাড়িঘরে হামলা ও সন্তানদের নামে দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন আনন্দের নেছা (৯০) এক বৃদ্ধা। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার হাসানের মা।


নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাজলা গ্রামে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসী হামলা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাড়ির নারীদের নিয়ে আমরণ অনশনে বসেন ভুক্তভোগীর পরিবার।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে জেলার পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে মোহাম্মদ আলম ফুটবল মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন।


ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই তালা মার্কা নিয়ে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী বাহার উদ্দীন তালুকদার ও সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ আলমের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র সহকারে মিছিল করে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই ঘটনায় পরাজিত মেম্বার প্রার্থী বাহার উদ্দীন তালুকদার, আলমগীর হোসেন, জিয়াউদ্দীন, আবুল কাসেমসহ ১০ জন আহত হন।


এ ঘটনায় পাল্টা মিথ্যা মামলা করায় এবং আসামিদের গ্রেফতার না করায় পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের সাংবাদিক দেলোয়ার হাসানের নিজ বাড়ির আঙিনায় রোববার সকাল থেকে দেলোয়ার হাসানের বৃদ্ধা মা আনন্দের নেছা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আমরণ অনশনে বসেন।


পরে দুপুর ১টার দিকে প্রশাসনের মাধ্যমে হামলাকারীদের যথাযথ বিচার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধা আনন্দের নেছাকে পানি পান করিয়ে অনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন আনন্দের নেছার মেয়ে নাসিমা আক্তার, আব্দুল হামিদের স্ত্রী হেলেনা আক্তার, রিপন মিয়ার স্ত্রী মদিনা আক্তার, মুসলেম উদ্দিনের স্ত্রী নুরুন্নাহার, হারুনুর রশিদের স্ত্রী হাসিদা আক্তার ও সেলিম মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার প্রমুখ।


আনন্দের নেছা বলেন, নির্বাচনের পর আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। আবার মামলা দিয়েছে। পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমার ছেলেরা বাড়িঘরে আসতে পারছে না। আমরা মহিলারা বাড়িতে ভয়ে আতংকে বাস করছি।


ঘটনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।


তবে প্রতিপক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও মামলা করেছি। পুলিশ তদন্ত করছে। যা হয় আইনের মাধ্যমে হবে।


পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিবিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে প্রতিপক্ষও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। দুইটি ঘটনারই তদন্ত চলছে।

আরো পড়ুন