শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ডিএসসিসির একাল-সেকাল পর্ব-৫
পদ নাই চাকরী আছে
হাসান মাহমুদ রিপন
১১ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:৪৪:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


  • বিধিমালা লংঘন করে দেয়া হচ্ছে একের পর এক দায়িত্ব প্রদান


  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ 



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতি। দায়িত্ব পেয়েই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে অনেকে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে নগর ভবন সহ পুরো দশ অঞ্চলের সমন্বয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর এর মাধ্যমে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে আইন বহির্ভুত পদায়নের মাধ্যমে করছে কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ। শীর্ষকর্তা-ব্যক্তিদের পছন্দের কর্মকর্তাদের সুবিধা দিতে ডিএসসিসিতে হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে লুটপাটের অভিযোগে কারো কারো বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) হয়েছে মামলা। এতে সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসসিসিতে চলমান এসব ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশিত হলো ৫ম পর্ব।


অর্গানোগ্রামে পদ না থাকলেও অদৃশ্য কারনে ডিএসসিসি’র বিভিন্ন বিভাগে ভুতুড়ে পদে একের পর এক দেয়া হচ্ছে দায়িত্ব। যা সিটি কর্পোরেশন বিধিমালার লংঘন। আর এ সবই ঘটছে ডিএসসিসিতে বিদ্যমান কথিত একটি সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায়। আর এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে খোদ সংস্থারই ভান্ডার শাখার এক কর্মচারী এবং শীর্ষ অপর এক কর্মকর্তা জড়িত বলে জানা গেছে। ঐ কর্মকর্তার দুপুরের খাবার অফিসে টিফিন ক্যারিয়ারে এবং প্রায়ই রাতের খাবার বাসায় পৌছে দিচ্ছেন ভান্ডার শাখার ঐ কর্মচারী। পাশাপাশি ঐ কর্মকর্তার জন্য অন্যান্য উপাদানেরও আয়োজন করে দিচ্ছেন ঐ ভান্ডার কর্মচারী। তাকে নিয়ে রয়েছে সংস্থায় নানা গুঞ্জন। সংস্থায় পদোন্নতি, পদায়ন, বদলীতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি কর্মচারী হলেও সংস্থার অনেক কর্মকর্তাই তার আতঙ্কে তটস্থ থাকছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তার সাথে পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে তার সাবেক পদে বহাল করতে বড় ধরনের একটি চুক্তি হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুঘলকি এসব কান্ডে ডিএসসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। কিন্তু চাকরিচ্যুতি আর বরখাস্তের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না।


বিষয়টি নিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, পদ সৃষ্টি না করে সিটি কর্পোরেশন সংস্থাটির কর্মী নিয়োগ দিতে পারে না। যদি তারা নিয়োগ দিয়ে থাকে তবে তা কোনোভাবেই বিধিসম্মত হয়নি বলে আমি মনে করি।


অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেতন বা সম্মানী দিবে সিটি কর্পোরেশন এবং চাকরীও সেখানে কিন্তু তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটির চাকুরী বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না এমন আদেশ আত্মঘাতি।


মোহা: রোকনুজ্জামান। সংস্থাপন শাখা-৩ এর সহকারী সচিব (চলতি দায়িত্ব)। তাকে ১৪তম গ্রেডভুক্ত কেয়ারটেকার পদটি ফিডারভুক্ত পদ বিবেচনায় মোহা: রোকনুজ্জামানকে ১০ম গ্রেডভুক্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তিতে আবার ১০ম গ্রেডকে অতিক্রম করে ৯ম গ্রেডভুক্ত সহকারী সচিবের চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়। অথচ তিনি এই পদে পদোন্নতির জন্য ফিডারধারীও নন। যা বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে ঐ ভান্ডার কর্মচারীর মাধ্যমে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও সংস্থাপন শাখা-৩ এর সহকারী সচিব পদটি সংস্থাটির অর্গানোগ্রামে আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই।


সংস্থাপন শাখা-৩ এর সহকারী সচিব মোহা: রোকনুজ্জামান বলেন, এ বিষটি কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমাকে কর্তৃপক্ষ এখানকার দায়িত্বে দিয়েছেন, তবে আমি এ পদের জন্য ফিডারভুক্ত নই। তফসিলে সহকারী সচিব-৩ পদটি নেই তাহলে আপনাকে কিভাবে এ পদে চলতি দায়িত্বে দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিষয় আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা।


এছাড়াও রাজস্ব গবেষনা সেল, কর পুনঃ মূল্যায়ন শাখা, বাজার শাখা বিদ্যুৎ সহ আরো কিছু পদ তফসীল থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। 


এভাবেই পদ না থাকলেও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) একের পর এক বে-আইনীভাবে দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না পদ অনুযায়ী নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদন্ডও। সংস্থার তহবিল থেকে বেতন দেয়া হলেও এদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের চাকুরী বিধি প্রযোজ্য হবেনা বলে জানা গেছে। এভাবেই ডিএসসিসিতে তুঘলকি কান্ডে চলছে ভৌতিক দায়িত্ব প্রদান। আর এসব যাদের দেখার কথা, খোদ সেসব রক্ষকই যেন ভক্ষকের ভ‚মিকায় অবতীর্ন।


অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্তা ব্যাক্তিদের ঘনিষ্টজন খ্যাত একটি বিশেষ গোষ্ঠী এসব দায়িত্ব বাগিয়ে নিচ্ছেন। 


বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়ে ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদকে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলে তিনি ৩ বার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে প্রশ্ন দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তাও সম্ভব হয়নি।


তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহম্মদ বলেন, অর্গানোগ্রামে না থাকা পদে নিয়োগ দেয়া অনিয়ম। প্রয়োজন হলে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দিতে পারে।


এসব নিয়োগের ব্যাপারে ডিএসসিসি’র সচিব আকরামুজ্জামান-এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তিতে উত্তর জানতে চেয়ে প্রশ্ন সম্বলিত ক্ষুদে বার্তা বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে পাঠালে বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।


তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান এ ব্যাপারে বলেন, আগে কখনোই এভাবে পদ নেই সেই পদে চাকরী হচ্ছে এমনটা শুনিনিও তবে এখন তা দেখতে হচ্ছে। শুধু সিটি কর্পোরেশনে নয় অনেক প্রতিষ্ঠানেই এ রকম নজীর রয়েছে। আবার এদের পদোন্নতি হচ্ছে। যা পুরোটাই দুঃখজনক বলা ছাড়া কিছুই করার নেই।


আমার বার্তা/গাজী আক্তার

আরো পড়ুন