শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
অরক্ষিত ভবন নির্মাণে বেড়েই চলেছে হতাহতের ঘটনা
মিজানুর রহমান, উত্তরা (ঢাকা)
২৭ জুলাই, ২০২২ ২০:৪৫:৪২
প্রিন্টঅ-অ+

নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে অহরহ। অথচ ‘সবার আগে নিরাপত্তা’ এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে না কোথাও। নির্মাণকালে নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।


কয়েকদিন আগে টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডে নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে ইট পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই খবর জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার করা হলেও কর্তৃপক্ষের  টনক নড়েনি। গত কয়েকদিন আগে তুরাগের রানাভোলা মেইন রোডে অবস্থিত ৪০নং প্লটে অ্যাসেট বিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক নির্মাণাধীন এবিএল মমতাজ মহল সাত তলা ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ভবনটির উপর থেকে ইট পড়ে পথচারী জফুরা বেগমের (৫৬) মাথায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে তফুরা বাদি হয়ে তুরাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা আমার বার্তাকে জানান, ভবনটির উপরে নির্মাণ কাজ চলছিল। এ সময় উপর থেকে ৫-৬টি ইট জফুরার মাথার উপর পড়লে কাঁপতে কাঁপতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়াও দক্ষিণখান, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও কেন রাজউক ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? আর কত প্রাণ গেলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে।


বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় নির্মাণাধীন ভবনে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবহেলা এবং গাফিলতির কারনেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ জনগণকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ বিষয়ে কথা বলতে রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার প্ল্যান এন্ড ডিজাইন এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌসকে ফোন করলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে ডিরেক্টর ডেভেলপমেন্টের সাথে কথা বলতে বলেন।


মহানগরীতে কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। ফলে এরকম পথচারী ও শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আইনি সুরক্ষা দেয়ারও কেউ নেই। একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়ে জাতীয় বিল্ডিং কোডে বিস্তারিত বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকছে। বিষয়টি তদারক করার দায়িত্ব যাদের তারাও উদাসীন।


মহানগরীতে অসংখ্য সুউচ্চ ভবন তৈরি হচ্ছে। নগর সম্প্রসারিত হচ্ছে, গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভবন। সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন শ্রমিকরা। পুরাতন ভবন ভাঙার ক্ষেত্রেও নেয়া হচ্ছে না যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ সূত্রে জানা যায়, গত দশ বছরে রাজধানীতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১৪ হাজার ৩শ’ ৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে ৭শ’ ৯৩ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই  পঙ্গুত্ববরণ করেছে। 


২০১৪ সালের জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী কাজের সময় শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত তাদের হাতে গ্লাভস পরতে হবে। চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজ যেমন- ড্রিলিং, ওয়েল্ডিং, ঢালাইয়ের সময় শ্রমিকদের চশমা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, এপ্রোন ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে ভবনের উপরে কাজ করার সময় শ্রমিকের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনটিই বাস্তবে দেখা যায় না।


 

আরো পড়ুন