শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
দক্ষিণখানে অফিস ছাড়ার নোটিশ দেয়ায় হামলা
মিজানুর রহমান, উত্তরা
০৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:৩০:০৪
প্রিন্টঅ-অ+

রাজধানীর দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার হাসান মাহমুদ কমপ্লেক্সের এক ভাড়াটিয়াকে অফিস ছাড়ার নোটিশ দেয়ায়  মার্কেট মালিক ও বি-এ্যালার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ মালিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে ওই ঘটনায় লুটপাটসহ আহত হওয়ার ঘটনায় পরস্পর দোষারোপ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।


জানা গেছে, সরকারের এলাকা ভিত্তিক বিদ্যুৎ লোডশেডিং নির্দেশনা থাকায় রাত ৮ টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় নিয়ম অনুযায়ী মার্কেট বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাত ১১ টা পর্যন্ত অফিস করার অভিযোগ পাওয়া গেছে মার্কেটের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বি-এ্যালার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ এর বিরুদ্ধে। তাছাড়া মার্কেট মালিক হাসান মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ি অবৈধ ও প্রতারণামূলক কার্যকলাপ পরিচালনার তথ্য থাকায় তিনি মার্কেটের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বি-এ্যালার্ট সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ এর প্রধানকে অফিস ছেড়ে দেয়ার জন্য নোটিশ দেন। কিন্তু প্রভাব ও জোর খাটিয়ে অফিস না ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানায় বি- এ্যালার্ট সিকিউরিটি কোঃ মালিক রিয়াজুর। পরে নির্দিষ্ট সময়ের পর মার্কেট খোলা রাখা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলায় লোকজন নিয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষের সিকিউরিটি ও মালিক-কর্মচারীদের ওপর হামলা করেন বলে মার্কেট মালিক হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন।


এ বিষয়ে হাসান মাহামুদ কমপ্লেক্স কর্ণধার হাসান মাহামুদ আমার বার্তার প্রতিবেদককে জানান, আমার মার্কেট সিকিউরিটি ব্যবসা আগেও ছিল, তাই আমি তাদের আমার ভবনে অফিস ভাড়া দেই। তারা বিভিন্ন সময় র‍্যাবের হাত আটক হয়েছে বলে আমি জানতে পারি। তারা আমাদের মার্কেটের নিয়ম না মেনে গভীর রাতে লোকজন নিয়ে মার্কেট আসা যাওয়া করত, একদিন আমি এসব দেখে তাদের সর্তক করি। এবং তারা চলতি মাসে অফিস ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারা তা না করে উল্টো দলবল নিয়ে মারামারি বাধিয়ে দেয়। সিকিউরিটি কোম্পানি অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখেন আমার ভাই মার্কেটের বড় ব্যবসায়ী, তার কাপড়ের দোকানে মারামারি সময় আমি ছিলাম না, আমার ভাই সেখানে ছিল। তার সাথে তাদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এক মারামারি বাধে যা মার্কেটের সবাই দেখেছে। আমার ভাইয়ের পটেকে ৯১ হাজার টাকা ছিল, সেখানে কয়েকজনের ফোনও হারিয়েছে, আমি থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মার্কেটের দোকানদার মোঃ ইমাম হোসেন ও মোঃ এমরান হোসেন ঘটনার বিবরনে আমার বার্তাকে জানান,তারা প্রতিদিন এই রকম রাত ১১ পর্যন্ত অফিস খোলা রাখতো। সরকারি নির্দেশনার কিছুই মানতে না। তাছাড়া আমাদের মার্কেটের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন (সোমবার) রাত ১১ টার দিকে মার্কেটের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া বি- এ্যালার্ট সিকিউরিটি কোঃ মালিক রিয়াজুর হকের সাথে অফিসের লোকজন নিয়ে বের হয় গেটে আসলে মার্কেট সিকিউরিটিরা সরকারি নিয়ম আগামী থেকে ভাঙা যাবেনা বলে জানিয়ে দেয়। এসময় বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মার্কেট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করে বসে ভাড়াটিয়া সিকিউরিটি কোম্পানির লোকজন। এতে হাসান মাহমুদের ভাই মোতালেব মৃধা,  রুবেল, রিপন ও নাসির নামে ৪ জন কর্মচারি মারাত্বক আহত হয়েছে। ইমাম হোসেন বলেন, রিয়াজুর রহমান মদপান করেছিলেন তাই হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে মনে হয়। তিনি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় আসেন। 


তবে এই ঘটনা জানতে মার্কেট মালিক হাসান মাহমুদ কথা বলেও বি- এল্যার্ট কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি।


মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতিমধ্যে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ৪ বার র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করেছে। এইসব ঘটনা জানতে পেরে মার্কেট কর্তৃপক্ষ একাধিক নোটিশ করেছেন অফিস ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা অফিস না ছেড়ে জোর জবরদস্তি থাকার জন্য চেষ্টা করছেন। ঘটনার পূর্বে তাহাদের অফিস ছাড়ার নোটিশের কথা বলতেই এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।


এবিষয়ে দক্ষিণখান থানার ওসি তদন্ত আজিজুল হক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আমার বার্তাকে বলেন, আমাদের কাছে দু'পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা তদন্ত করছি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে মামলাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।


এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, প্রতারক প্রতিষ্ঠান বি এলার্ট এর মালিক রিয়াজুল হক ও আনোয়ারা খানম আলো নামে স্বামী স্ত্রী দুই জন। তারা প্রত্যন্ত গ্রামে মার্কেটিং ম্যানাজার নামে নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়ে অল্প বয়সী কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রীদের চাকরির নামে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর ভালো চাকরির নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। পরে ভূক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয় বুঝতে পারলে টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে লালিত সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 


গত রমজানে মনি,পপি,সাদিয়া সোনিয়াসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগি দক্ষিণখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সমঝতা করে তাহাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় বি -এলার্টের মালিক আলোর নিকট মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। চাকরি দেওয়ার নামে ১৫/২০ হাজার টাকা নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা ৩/৪ হাজার টাকা নেই, এর বেশি কিছু কখনই নেইনি। যারা বলছে এসব অভিযোগ বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।


একমাসের থাকা খাওয়া বাবদ ১৫/২০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি প্রভাবশালী লোকজনের নাম বলে প্রতিবেদককে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে বলেন, আমি গ্রামে আছি এসে আপনার সাথে দেখা করবো বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদক হাসান মাহমুদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাত চেয়ে যোগাযোগে ব্যর্থ হন।


এবি/এমআর/এমএম

আরো পড়ুন