শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
‘রেড জোনে’ ফের হকার
নগর প্রতিবেদক, ঢাকা :
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:২৫:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+

ঢাকঢোল পিটিয়ে উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ফের হকারদের দখলে গুলিস্তানসহ আশপাশের ফুটপাত-রাস্তা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঘোষিত ‘রেড জোন’ ফিরেছে সেই আগের চেহারায়।


বঙ্গভবন থেকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারগামী ও ফ্লাইওভার থেকে গুলিস্তান চত্বর পর্যন্ত সড়ককে রেড জোন ঘোষণা করে রোববার হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি। সরিয়ে দেয়া হয় দখলদারদের। ফুটপাত থেকে সহস্রাধিক হকার উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।


দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিশেষ অভিযান সম্পর্কে জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে যান চলাচলের পরিমাণ বেড়েছে। তাই ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল ও জনসাধারণের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হয়ে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স পর্যন্ত এ উচ্ছেদ কার্যক্রম। এ সময় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় ৯ জনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


অভিযানের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সেই রেড জোন আবার হকারদের দখলে চলে গেছে। ব্যবসা করছেন তারা আগের মতোই। উচ্ছেদের পর রোববার বিকেলে যে ফুটপাত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল, তাতে এখন চলাচল করা কষ্টকর।


সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, গুলিস্তান মোড়ে বেশি হকার না থাকলেও হকি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে পাতাল মার্কেট, ঢাকা ট্রেড সেন্টারসহ প্রায় সব ফুটপাত আবার হকারদের দখলে। এমনকি রাস্তা দখল করেও চলছে হকারদের বেচাকেনা। ফুটপাতে পলিথিন দিয়ে ছাউনি বানিয়ে কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা।


গুলিস্তান সাধারণ বিমা করপোরেশন ভবনের সামনের ফুটপাতে একটি চৌকিতে গেঞ্জি বিক্রি করছেন ইমরান হোসেন। উচ্ছেদের পর আবার কেন চৌকি বসিয়েছেন তা জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা কই যাইব? এই হানেই অনেক দিন ধইরা ব্যবসা করতাছি। এইহান ছাড়া আর আমাগো যাওয়ানের জাইগা নাই। হের লাইগা প্রশাসন আমাগো যতবার উঠাইব, আমরা ততবারই এইহানে বসব।’


অভিন্ন সুর গুলিস্তান পাতাল মার্কেট ফুটপাতের নতুন নোটের ব্যবসায়ী লিটন হোসেনের। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের নিয়তি। ব্যবসা না করলে পুলাপাইন নিয়ে কই যাব? আমাদের দেখার কেউ নেই। একদিন ইনকাম না করলে না খেয়ে থাকা লাগবে। তাই ঝড়-তুফান যা-ই আসুক, আমরা এইখানেই বসব। আজ উঠায় দিলে কাল আবার আমরা এইখানেই বসব।’


ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাতে প্যান্টের দোকান বসিয়েছেন সালাম সিকদার। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন আইলে আমরা মাল-সামানা নিয়া মার্কেটের ভেতর চলে যাই। হেরা চলে গেলে আবার বসি। এভাবেই চলছে, এভাবেই চলবে। কেউ আমাগো এইহ্যান থেকে সরাইতে পারব না।’


ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের রাস্তায়ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হকারদের বসতে দেখা গেছে। যার কারণে সামনের রাস্তায় শুরু হয়েছে যানজট।


যানজটে আটকে পড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সিরাজ মিয়া বলেন, ‘এই হকারদের কোনোদিন লজ্জা হবে না। এদের যতই ওঠাবেন, আবার দোকান দিবে। এরা তো নিয়মিত চাঁদা দেয় পুলিশ আর নেতাদের। নিজেদের ইনকামের জন্য তারাই এদের ফের বসাবে। আর ভোগান্তি হবে আমাদের।’


২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দখল নিয়ে জানতে চাইলে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও লক্ষ করেছি। তাই মঙ্গলবার সকালে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালাব। হকাররা যতবার ফুটপাত দখল করবে, আমরা ততবার অভিযান চালাব। মেয়রের কঠোর নির্দেশ আছে, কোনোভাবেই আর ফুটপাত-রাস্তা দখল হতে দেয়া যাবে না।’

আরো পড়ুন