শিরোনাম :

  • খাদ্যসংকটে বানভাসি মানুষ বিচারকদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা : হাইকোর্ট সিভিল সার্ভিসের সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছি : প্রধানমন্ত্রী ট্রেভর বেইলিসকে দলে ভেড়াল কেকেআর পাটুয়াটুলীতে ধসে পড়া ভবন থেকে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে খালেদার আপিল শুনানির জন্য উপস্থাপন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৩ জুন, ২০১৯ ১০:৩৪:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে করা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে আজ রোববার।

হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার এই মামলায় জামিন শুনানির বিষয়টিও উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীদের একজন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বলে নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি করতে চাই। তাই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও এ জে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল আজ সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুছ জামানের বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করতে যাবেন। তারা খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন (মেনশন) করবেন।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) এই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে দেয়া খালেদা জিয়ার সাজার সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। বিচারিক আদালতের কাগজপত্রে ৩৯৩ পৃষ্ঠার রায়সহ মোট ৪ হাজার ৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র রয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য এ মামলার সকল নথিপত্র তলব করে হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ অনুযায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত থেকে এসব নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় হয়। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয় রায়ে।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জামিন আবেদনও করা হয়।

গত ৩০ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে দেয়া দণ্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে দেয়া অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশে স্থিতাবস্থা দেন আদালত। তবে, এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি শুনানি করেনি আদালত।

ওই দিন জামিনের আবেদন নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করা হয়। নথি পাওয়ার পর জামিনের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে বলেও সেদিন জানান আদালত। শুনানিতে জামিনের বিষয়ে আদালত বলেন, ‘সাত বছরের সাজার মামলায় আমরা জামিন দেই না, তা না। যেহেতু অন্য একটি মামলায় উচ্চতর আদালত সাজা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওই মামলায় জামিন না হলে তিনি মুক্তি পাবেন না। ফলে বিষয়টি জরুরি দেখছি না। নথি আসুক, তখন জামিনের আবেদনটি দেখা হবে। এ মামলায় রেকর্ড না দেখে বেইল (জামিন) দিচ্ছি না।’

সেদিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন, ‘আবেদনটি একটু শোনেন মাই লর্ড, না শুনলে আমরা হতাশ হবো।’ তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘না, এখন শুনতে পারব না। শুনলে আদেশ দিতে হবে।’

এর আগে ২৩ এপ্রিল বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ৩০ এপ্রিল আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় ওইদিন বিষয়টি শুনানি করা হয়।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ওই মামলায় রায় ঘোষণা করেন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক। রায়ে ওই মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অপর তিন আসামিকেও সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। খালেদা জিয়াকেও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত।

ওই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করলে গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং নিম্ন আদালতের নথি তলব করে দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করা হয়। এ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে দুদক এ মামলা করে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিসহ ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায় হয়েছে।

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে অসুস্থতাজনিত কারণে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।



আমার বার্তা/২৩ জুন ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন