শিরোনাম :

  • আজ প্রধানমন্ত্রী ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন তিনটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন বিমানে এল ২২৫টি অস্ট্রেলিয়ান গরু সৌদি থেকে ফিরছেন নির্যাতনের শিকার সেই সুমি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি ওয়াটসন
তদন্ত কর্মকর্তাকে আজ জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা
ফেনী প্রতিনিধি :
২৮ আগস্ট, ২০১৯ ১০:৩৬:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


ফেনীর চাঞ্চল্যকর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে করা মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার আদালতে মামলার আলামত জমা দেয়া হয় ও অডিও, ভিডিও ক্লিপ পরিবেশন করা হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ মামলার শুনানি চলছে।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, গত চার কর্মদিবসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আদালত জেরা শুরুর অনুমতি দেন। আসমিপক্ষে ঢাকা থেকে আগত আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জেরা শুরু করেন। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতের সময় শেষ হলে বিচারক বুধবার সকাল পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন।

সে মতে আজ বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান হাফেজ আহাম্মদ। এ পর্যন্ত মামলার মোট ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

আদালতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে বিচারক দুটি ভিডিও ক্লিপ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে প্রদর্শন ও দুটি অডিও ক্লিপ অডিও সাউন্ড সিস্টেমে পরিবেশনের নির্দেশ দেন। এ সময় প্রথমে নুসরাতের দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হয়। এর একটি মৃত্যুকালীন জবানবন্দি হিসেবে মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের মোবাইল ফোনে ধারণ করা। অপরটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের একজন চিকিৎসকের মোবাইল ফোনে ধারণ করা।

এসব ক্লিপে নুসরাত বলেন, ‘আমাকে যে মেয়েটি ছাদে ডেকে নেয় তার মুখ নিকাব দিয়ে ঢাকা ছিল। হাত ছিল ফর্সা। তাকে অপর একজন ‘শম্পা’ বলে ডাকে।’

আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত আসামি ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সামনে দুটি অডিও ক্লিপও বাজিয়ে শোনা হয়। এর একটি আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও তার বন্ধু জীবনের টেলিফোনে কথোপকথন। অপরটি আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও রুহুল আমিনের।

জীবনের সঙ্গে কথা বলার সময় জীবন জানতে চায়, ‘কিরে, ওকে শেষ করে দিয়েছিস নাকি?’ শামীম বলে, ‘হ্যাঁ, আগুনে শেষ করেছি।’ জীবন বলে, ‘কি দিয়ে পোড়ালি?’ শামীম জানায়, ‘কেরোসিন দিয়ে’। ‘কেরোসিন কোন স্থান থেকে সংগ্রহ করলি?’ ‘একটি মুদি দোকান থেকে সংগ্রহ করেছি’।

অপর অডিওতে শামীম রুহুলকে ফোন করে বলে, ‘ভাইয়া ঘটনা শুনেছেন?’ রুহুল বলেন, ‘হ্যাঁ শুনেছি।’ শামীম বলেন, ‘আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই, আসব কি? কোথায় আসব?’ জবাবে রুহুল বলেন, ‘না, এখন আসিস না, এখন না।’

এ পর্যায়ে বিচারক রুহুলকে প্রশ্ন করেন, আসামি শামীম আপনাকে কেন ফোন করেছিলেন? রুহুল বলেন, ‘উপজেলা নির্বচন বিষয়ে কথা বলার জন্য।’

বিকেলে জেরাকালে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, মামলার কোনো কাগজপত্রে এই কথিত জীবনের নাম নেই। এমনকি তাকে সাক্ষীও করা হয়নি। তাহলে এই ক্লিপ কোথা থেকে এলো। তদন্ত কর্মকর্তা এর জবাব দেয়ার আগেই আদালতের সময় শেষ হয়ে যায়।

এক প্রসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচারক বলেন, এসব ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ আপনারা যতবার চাইবেন, ততবার প্রদর্শন করা হবে। দিন শেষে মামলার আলামতসমূহ আদালতে হস্তান্তর করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম।



আমার বার্তা/২৮ আগস্ট ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন