শিরোনাম :

  • খাদ্যসংকটে বানভাসি মানুষ বিচারকদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা : হাইকোর্ট সিভিল সার্ভিসের সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছি : প্রধানমন্ত্রী ট্রেভর বেইলিসকে দলে ভেড়াল কেকেআর পাটুয়াটুলীতে ধসে পড়া ভবন থেকে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যানসহ ১২ পরিচালককে দুদকের তলব
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩১:১৯
প্রিন্টঅ-অ+


সিটিসেলের নামে ৩৮৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হকসহ ১২ জন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার প্রধান কার্যালয়ে থেকে দুদকের উপ-পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম তাদেরকে আগামী ১ থেকে ৩ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে হাজির হতে বলেছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য এসব তথ্য জানিয়েছেন।

১ অক্টোবর তলব করা হয়েছে এবি ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও পরিচালক এম ওয়াহিদুল হক, পরিচালক মো. ফিরোজ আহমেদ, প্রাক্তন পরিচালক এম এ আউয়াল ও অধ্যাপক মো. ইমতিয়াজ হোসেনকে।

২ অক্টোবর পরিচালক শিশির রঞ্জন বোস, সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন, প্রাক্তন পরিচালক মিশাল কবির ও ফাহিমুল হককে তলব করা হয়েছে।

এছাড়া, ৩ অক্টোবর প্রাক্তন পরিচালক মো. মেজবাহুল হক, আনোয়ার জামিল সিদ্দিকী, বি বি সাহা রায় এবং রুনা জাকিয়া শাহরুদ খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার আসামি প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান ও তার স্ত্রী নাছরিন খানকে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা সামসুল আলম।

গত বছরের ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় করা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, তার স্ত্রী, সিটিসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের মূল কোম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। এম মোরশেদ খান এর চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী নাছরিন খান পিবিটিএলের পরিচালক।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

দেনার দায়ে ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের হাত ধরেই দেড় যুগ আগে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সেবার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (বিটিএল) নামে টেলিকম সেবা পরিচালনার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। পরের বছর হংকং হাচিসন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে বিটিএল নাম বদলে হয় হাচসন বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (এইচবিটিএল)।

১৯৯৩ সালে মোরশেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক মোটরস ও ফারইস্ট টেলিকম মিলে এইচবিটিএলের শেয়ার কিনে নিলে এ কোম্পানির মালিকানায় পরিবর্তন আসে। কোম্পানির নাম বদলে হয় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

প্যাসিফিক মোটরস যখন সিটিসেলের মালিকানায় আসে, মোরশেদ খান তখন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সময়ে সিটিসেল যখন লাইসেন্স পায়, মোরশেদ খান তখন ছিলেন জাতীয় পার্টির কোষাধ্যক্ষ।

একমাত্র অপারেটর হওয়ার সুযোগে সিটিসেল বিএনপি সরকারের সময়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর আরো কোম্পানিকে মোবাইল ফোন সেবার লাইসেন্স দেওয়া হলে সেই একচেটিয়া ব্যবসার অবসান ঘটে।

এরপর ধুঁকতে থাকা এই কোম্পানিতে ২০০৪ সালে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরের সিংটেল। কিন্তু ব্যবসার আর প্রসার ঘটেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক মোরশেদ খানের প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেড।

 



আমার বার্তা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮/জহির


আরো পড়ুন