শিরোনাম :

  • ঢাকায় বাড়তে পারে তাপমাত্রা করোনার ছোবলে এবার চলে গেলেন এসআই মোশাররফ সপ্তাহে তিন দিন ছুটির বিধান আসছে নিউজিল্যান্ডে পেরুতে একদিনেই আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার
পাওনা টাকা আদায়ের জের
৪ যুবককে ফাঁসানো হলো মিথ্যা মামলায়
রফিকুল ইসলাম পিন্টু :
০১ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:০৩:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ফেঁসে গেল ৪ যুবক প্রতারণার মিথ্যা মামলায়। আর ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায়। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার গোটিয়া গ্রামের মৃত ওসমান আলীর পুত্র বুলবুল আহম্মেদ পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট সরদারপাড়া গ্রামের মন্টু সরদারের ছেলে ফারুককে সিঙ্গাপুরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিতে হাতিয়ে নেন ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঠিক একই কায়দায় প্রতারক বুলবুল পঞ্চগড়ের যতনপুকুরি এলাকার জহির উদ্দীনের ছেলে সাইফুলের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে ১৩ লাখ টাকা। ঘটনার দীর্ঘসূত্রিতার পর কোন ফল না পেয়ে ভুক্তভোগী ফারুক এবং সাইফুল সিংড়ার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের সবুজকে (তাদের পূর্ব পরিচিত) এ বিষয়ে অভিযোগ জানায়। সবুজ পাওনাদারদের পক্ষ থেকে বুলবুলের কাছে টাকা চাইতে গেলে ঘটে বিপত্তি। বুলবুল মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়াসহ হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে সবুজকে এবং সিংড়া ও নাটোর সদর থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে সবুজ, জলিলসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে।

প্রতারক বুলবুল সিংড়ার গুটিয়া গ্রামের মৃত রহমতের পুত্র ডিস ব্যবসায়ী প্রভাবশালী রফিকের ঘনিষ্টজন হওয়ায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। অভিযোগের সূত্র ধরে অতি তৎপর হয়ে ওঠে থানা পুলিশ।

গত ২০শে মার্চ ২০২০ তারিখে নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আফসার আলীর পুত্র আব্দুল জলিলকে রাত ৮টায় আটক করে সিংড়া থানা পুলিশ। সারারাত আটকে রেখে পরদিন বিকেল ৪-৩০ মিনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আমি সাংবাদিক পরিচয়ে সিংড়া থানার ওসিকে (০১৭১৩৩৭৩৮৫৮) ফোন দিয়ে আটকের কারণ জানতে চাইলে উনি জিজ্ঞাসাবাদের পরে বলতে পারবেন বলে জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে কোন কিছু না পেয়ে সেইদিনই হস্তান্তর করা হয় নাটোর সদর থানায়। অনেক নাটকীয়তার পর প্রতারক বুলবুল সদর থানা পুলিশকে প্রভাবিত করে গভীর রাত্রিতে মা হামিদা বেগমকে দিয়ে ২১শে মার্চ ২০২০ তারিখে মিথ্যা প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ১০১ এবং ধারা ১৪৩/৩৪৫/৩২৩/৩৮৬/৪৬৫। আসামী করা হয়েছে জলিল, সবুজ, ফারুক, সাইফুলসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে।

মামলার কারণ সম্পর্কে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার লিটন কুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে উনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছি।

ঘটনা সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ই ডিসেম্বর বুলবুল আহমেদ নাটোর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সবুজকে আসামী করে ৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৮৬/৩৪১ ধারায় মামলা দায়ের করেন যা ২রা মার্চ ২০২০ তারিখে কোর্টে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। ভুক্তভোগী আসামীগণ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রতারক বুলবুলের যথাযথ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।



আমার বার্তা/০১ এপ্রিল ২০২০/জহির

 


আরো পড়ুন