শিরোনাম :

  • করোনায় মোট মৃত্যুর চেয়ে এক মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি জাপানে ফ্রান্সে পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সহিংসতা ৪৩ শ্রমিককে নাইজেরিয়ায় গলা কেটে হত্যা হালাল ভালোবাসা এত সুন্দর আগে ভাবিনি : সানা খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রপ্তানি পণ্য লুট-৫
গজারিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী চোরাকারবারী রিটু প্রধান অবশেষে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার! বন্ধ হয়নি সহযোগীদের চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা
সফিউর রহমান সফিক :
২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:২৬:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


রিটু প্রধান ওরফে রিটো মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। যার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চোরাচালানি বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা ও মহাসড়কে রপ্তানী পণ্য গার্মেন্টস এর গাড়ী আটকিয়ে লুট করার অভিযোগ বহুদিন থেকে। এই দুর্ধর্ষ চোরাকারবারী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী, রপ্তানি পণ্য লুট সিন্ডিকেট গডফাদার রিটু প্রধান অবশেষে র‌্যাবের অভিযানে তার ২ সহযোগীসহ গ্রেফতার হন অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে। গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে র‌্যাবের একটি টিম গজারিয়ার মেঘনাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিটু প্রধান ও এই চক্রটির আরো ২ জনকে গ্রেফতার করে। রিটু প্রধানের সাথে গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- আল আমীন প্রধান ও আলমগীর হোসেন। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার মেঘনাঘাট এলাকায় তথাকথিত শ্রমিক নেতা পরিচয়ে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, গার্মেন্টস এর রপ্তানি পণ্য লুটের বাণিজ্য, আন্তজেলা ট্রাক সমিতির নামে চাঁদাবাজি ও ভ‚মি দস্যুতা করে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক এমন হাজারো অভিযোগ থাকার পর থানা পুলিশ এই উক্ত দূর্ধর্ষ অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় রিটু প্রধান ছিল বেপরোয়া, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মেঘনাঘাট ও তার আশপাশ এলাকায় প্রকাশ্যে চলতো তার অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এমন শত শত গুরুতর অভিযোগ ছিল উক্ত চোরাকারবারী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে ছিল রিটু প্রধান বাহিনী ও তার সহযোগীদের কাছে বহু বছর ধরে। তাদের এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেতে এলাকার নির্যাতিত -নিপিরীত লোকজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন দপ্তরে জানান উক্ত সন্ত্রাসীর অপকর্মের বিরুদ্ধে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর র‌্যাব-৪ এর একটি (বিশেষ দল) পুরাতন মেঘনাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত সন্ত্রাসী চোরাকারবারিকে তার দুই সহযোগীসহ অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। উক্ত চোরাবারীকে আটকের খবর পেয়ে তার সহযোগীরা র‌্যাবের উপর আক্রমণ করে সন্ত্রাসী চোরাকারবারী রিটুকে প্রধানকে জোড় পূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে র‌্যাবের গাড়ী ভাংচুর করে হামলা চালায়। এর সাথে সন্ত্রাসী রিটুর সহযোগীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে গজারিয়া থানায় গ্রেফতারকৃত রিটু প্রধান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেন র‌্যাব। এদিকে বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে গজারিয়ার মেঘনাঘাট ও তার আশ পাশের এলাকার দূর্দর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী ও রিটু প্রধানকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতার করলেও তার  সহযোগী বরকি জুয়েল, তুহিন, মুক্তার (ভবেরচর), সাইদী, বিপ্লব (তেতৈতলা), দেওয়ান জুয়েল ও টুন্ডা রহিম এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে। বন্ধ হয়নি তাদের চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য ও অবৈধ ব্যবসা। এদিকে সূত্রে আরো জানা গেছে গডফাদার রিটু প্রধান, তুহিন ও ভবেরচর এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুক্তার হোসেনসহ তাদের আরো বেশ কয়েকজন সহযোগী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাড়ী আটকিয়ে গার্মেন্টেস এর রপ্তানি পণ্য লুট করে আসছে এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত ঐ চক্রটির বিরুদ্ধে। এই চোরাকারবারী ব্যবসা করে চক্রটি আজ কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানান ভবের চরের মুক্তার রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস এর পণ্য লুট ব্যবসার পাশাপাশি ফিদা গ্যাস পাম্পের আড়ালে করছে চোরাই গ্যাসের ব্যবসা এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে বহুদিন থেকে। চোরাই গ্যাস ব্যবসার অভিযোগে ফিদা গ্যাস পামটি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ চেরাই লাইন চালানোর অভিযোগে বেশ কয়েকবার জরিমানা ও পাম্পটি সিলগালা করে দেয়। এই পামটির পিছনে খালি জায়গায় গার্মেন্টস এর রপ্তানী পণ্য গাড়ী ঢুকিয়ে মালামাল লুট করে চক্রটি। এ বিষয়ে জানতে মুক্তার হোসেনের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে মুক্তার হোসেন বলেন- তিনি কোন অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত নন। তিনি বলেন- আমি ছোট-খাট কোন ব্যবসা করি না। বড় বড় ব্যবসা নিয়ে আমি ভাবি। তিনি আরো বলেন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার ২৫টি গাড়ী চলে। বালু ব্যবসা, বলগেট ও ড্রেজার ব্যবসার সাথে ঝড়িত। এত অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক কি করে হলেন জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে অন্য প্রসঙ্গে এড়িয়ে যান। পাশাপাশি এই চক্রের কয়েকজন করছে মাদক, ইয়াবা বাণিজ্য। এদের মধ্যে অন্যতম তেতৈতলার তুহিন। সম্প্রতি আশুলিয়া এলাকার রপ্তানীমুখী একটি গার্মেন্টস এর বিদেশে শিপমেন্টের জন্য পাঠানা মাল গাড়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া এলাকায় আটকিয়ে রিটু প্রধান চক্রের কয়েকজন সহযোগী রপ্তানী পণ্য লুট করার সময় গাড়ী ও মালামালসহ হাতে নাতে গ্রেফতার হন থানা ছাত্র লীগের সেক্রেটারি আহমেদ রুবেলসহ বেশ কজন। আহমদ রুবেল গ্রেফতার হওয়ার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় মহা সড়কের রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস পণ্যের গাড়ী আটকিয়ে মালামাল লুট সিন্ডিকেডের পরিচয় ও তাদের অবৈধ ব্যবসার রহস্য। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার হন এই চক্রের মূল হোতা  রিটু প্রধান  ও তার সহযোগীরা। একাধিক সূত্রে আরো জানা গেছে গ্রেফতারকৃত রিটু প্রধান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজী, ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, পুলিশের উপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে গজারিয়া ও সোনারগাঁও থানায় প্রায় দেড় ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। সুত্রে আরো জানা গেছে রিটু প্রধান ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার হওয়ার পর  রিটুর অন্য সহযোগী বরকি জুয়েল, বিপ্লব, সাইদী, টুন্ডা রহিম ও চোরাই তেল ব্যবসায়ী দেওয়ান জুয়েল রিটু প্রধানের নামে মেঘনাঘাট এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ঘাটে ও নৌযানে ব্যাপক চাঁদাবাজি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকদিন আগে বরকি জুয়েল চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো শুরু করেছে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্য। অন্য সূত্রে আরো জানা গেছে তেতৈতলার তুহিন চাঁদের আলো হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট এর আড়ালে করছে ইয়াবা ব্যবসা। গজারিয়ার শীর্ষ মাদকের ডিলার তুহিন। এই অবৈধ মাদক ব্যবসা করে তুহিন আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। কদিন আগে ১২টি বাস নামিয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের জন্য। যে লোকটি নুন আনতে পানতা ফুরাত সে কিসের ব্যবসার বদলৌতে এত সম্পদের মালিক। গার্মেন্টস পণ্য লুট সিন্ডিকেট প্রধান চাঁদাবাজ রিটু প্রধান ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে তাদের অবৈধ ব্যবসার রহস্য উদঘাটন করতে র‌্যাব তিন দিনের রিমান্ড নেন। রিমান্ড শেষে আসামীদের আদালতে প্রেরণ করলে আদালত রিটু প্রধান ও তার সহযোগীদের আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন।



আমার বার্তা/২৭ অক্টোবর ২০২০/জহির


আরো পড়ুন