শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বিতর্কিত উপসচিব মাসুদুল হক নতুন বিতর্কে
মুনিরুল তারেক
১৭ অক্টোবর, ২০২১ ২২:৩০:১০
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যক্তিজীবন কিংবা কর্মস্থল; সবখানেই বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্ম দিয়ে আসছেন উপসচিব মো. মাসুদুল হক। বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাতিসংঘ উইংয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত কর্মস্থলে তার বিরুদ্ধে সহকর্মী ও জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে অসদাচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে। দেশের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বিভাগীয় মামলা ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যক্তিজীবনেও তিনি উচ্ছৃঙ্খলতার দরুন একাধিক বিয়ে করেছেন। কোনো স্ত্রীর সঙ্গেই সংসার টেকেনি। চলছে মামলা। এছাড়া বাসায় ও বিভিন্ন বারে নিয়মিত মদ্যপান, বিয়েবহিভর্‚ত সম্পর্কসহ বহু নৈতিক স্খলনের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নানা কান্ডে বিতর্কিত এ উপসচিবকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এক জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেত্রী অপকর্মে জর্জরিত মাসুদুল হককে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পত্র দিয়েছেন। যদিও সত্যিই ওই নেত্রী পত্রটি দিয়েছেন, নাকি তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।





সূত্র মতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের যোগ্যতা নিয়ে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন মাসুদুল হক। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে যদি বুলগেরিয়ার মতো অপরাধের জন্য মন্ত্রীদের বহিষ্কারের রীতি প্রচলন করা হয়, তবে কোনো মন্ত্রী এক সপ্তাহের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’ এ পোস্টকে কেন্দ্র করে তখন বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে তিরস্কারের সাজা দেয়া হয়। এছাড়া তার রয়েছে পাকিস্তানপ্রেম। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কর্মকান্ড ও সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করে ফেসবুক পোস্ট দেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদুল হকের ব্যক্তিজীবন বিশৃঙ্খলতায় পূর্ণ। নিয়মিত মদ্যপান করেন। তার বাসায় রয়েছে মিনিবার। এছাড়া ঢাকার অভিজাত বিভিন্ন মদের বারেও তার যাতায়াত রয়েছে। এখন পর্যন্ত তার তিনটি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব কারণে একটি সংসারও টেকেনি। তিন স্ত্রীর সঙ্গেই তার মামলা চলমান। সূত্রের দাবি, মাসুদুল হককে যেখানেই বদলি করা হয়, কোথাও ৬ মাসের বেশি টিকতে পারেন না। নানা অনৈতিক কান্ডের কারণে তাকে বদলি করা হয় কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমে যায়। শেষ পর্যন্ত খামখেয়ালি করে তিনি টিকে থাকেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদধারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাসুদুল হক। সেসময় তিনি স্পিকারের সঙ্গে বেয়াদবি করায় সংসদের সব কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, মাসুদুল হক প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে, অযোগ্যতার কারণে ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জেনারেল ম্যানেজারের পদ থেকে তাকে বদলি করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও বেশ কয়েক মাস তিনি ওই পদ দখলে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা, সৃজনশীলতার অভাব এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যর্থতাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। তার পরিবর্তে উপসচিব মো. মমতাজ উদ্দিনকে বিটিভির জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান করলেও জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে বিটিভির দায়িত্ব বুঝে নিতে পারছিলেন না। খামখেয়ালি করে তিনি ওই পদটি আঁকড়ে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, বিশৃঙ্খল জীবনাচরণের জন্য তিনি একাধিক বিয়ে করলেও কোনোটিই বেশি দিন টেকেনি। বিটিভিতে সংবাদ পাঠসহ নানা কাজের সুযোগ দিয়ে তিনি কম বয়সী নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেনি কখনো। তবে বিটিভির নিয়মিত শিল্পী-কলাকুশলীরা তখন মাসুদুল হকের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বিটিভি থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

দৈনিক আমার বার্তার হাতে মাসুদুল হককে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রীর দেয়া সুপারিশপত্রটি হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, চলমান পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় মাসুদুল হককে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অনুরোধ জানান ওই জ্যেষ্ঠ নেত্রী। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নেত্রী বর্তমানে শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। তিনি কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকেও বিরত আছেন। প্রশ্ন উঠেছে শারীরিক এমন অবস্থার মধ্যে ওই নেত্রী আসলেই কি সুপারিশপত্র দিয়েছেন, নাকি তার স্বাক্ষর জাল করে মাসুদুল হক এ ভুয়া সুপারিশপত্র তৈরি করেছেন? আর যদি তিনি সুপারিশ করেও থাকেন, ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে বহু বিতর্কের জন্ম দেয়া এমন একজন নীতিবিবর্জিত কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলে সরকার ও রাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মত সচেতন নাগরিকদের।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপসচিব মাসুদুল হককে ফোন করলে তিনি দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, ‘আমার পদোন্নতির জন্য কেউ চিঠি দিয়েছে কিনা, আমার জানা নেই। কেউ সুপারিশ করলে তার ইচ্ছে অনুযায়ী করেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ঘুষ খাই না, মিথ্যা কথাও বলি না। কারা এগুলো করছে, আমি ভালো করে বুঝি। এগুলো করে যদি কেউ আনন্দ পায়, পাক। আমি আমার জায়গায় স্বচ্ছ আছি।’





 


আরো পড়ুন