শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
সিঙ্গারের ফাঁকিবাজি
বশির হোসেন খান ও মুনিরুল তারেক
২৬ অক্টোবর, ২০২১ ২১:০৬:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


ইলেক্ট্রনিক্স জগতের হাতেগোনা কয়েকটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন দু’জন বিদেশি নাগরিক। এদের তত্ত্বাবধানে বিগত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যে নানা বৈচিত্র্য এসেছে, ভোক্তাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি করোনা-পূর্ববর্তী ২০১৯ সালে রেকর্ড অংকের মুনাফা অর্জন করেছে। তবে দৃশ্যমান সকল উন্নতি বা সফলতাই যে ইতিবাচক, এর অন্তরালেও যে থাকতে পারে জালিয়াতি-প্রতারণা, তার প্রমাণ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। 


প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে ঠকিয়েছে। বিদেশি দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পুকুর চুরি দেশি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসা করে তোয়াক্কা করছে না প্রচলিত আইন-কানুনের। বছরের পর বছর বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট) গভীর তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য-উপাত্ত্ব বেরিয়ে এসেছে। এনবিআর’র দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


সূত্র জানিয়েছে, মার্জ (একীভূত) হওয়া প্রতিষ্ঠানের নামে জমা দেয়া হয় ভ্যাট রিটার্ন। অবৈধ রেয়াত নেয়ার জন্য এই রিটার্ন জমা দেয়া হয়। কোম্পানি মার্জ হলেও ভ্যাট কমিশনারেটকে জানানো হয়নি। কোম্পানির সারাদেশে বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৪২৪টি। এর মধ্যে ৩১৪টি কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের বাইরে। ১৯টি ওয়্যারহাউসের একটিরও ভ্যাট নিবন্ধন নেই। দীর্ঘ সময় ধরে নিবন্ধনহীন বিক্রয় কেন্দ্র ও ওয়্যারহাউসের ভ্যাট আত্মসাৎ করে আসছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার দেড় হাজার কোটি টাকা হলেও তারা ভ্যাট দিয়েছে মাত্র ৩৩ কোটি টাকা। মাত্র চার মাসে প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকি ও অবৈধ রেয়াত নেয়া হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা! সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের এমন অনিয়ম-ফাঁকিবাজির প্রমাণ পেয়েছে এলটিইউ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও তল্লাশি করে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এলটিইউ ভ্যাট ফাঁকির যে মামলা করেছে, সে সম্পর্কে জানি না। আমরা কোনো চিঠি বা নোটিস পাইনি। ৩১৪টি বিক্রয় কেন্দ্রের নিবন্ধনের বাইরে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের একটি নিবন্ধন এলটিইউতে, অপরটি ভ্যাট দক্ষিণের অধীন মতিঝিল বিভাগে। সব বিক্রয় কেন্দ্রের নিবন্ধন মতিঝিল বিভাগে রয়েছে; এলটিইউ এ বিষয়ে জানে না। মতিঝিল বিভাগে গিয়ে দেখতে পারেন।


ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেড মার্জ হওয়ার পরও কীভাবে রিটার্ন দেয়? অবৈধভাবে রেয়াত নেয়া ও ভ্যাট ফাঁকি দিতে মার্জ হওয়া প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি এলটিইউয়ের অধীনে নয়, সেজন্য তারা জানে না। সব জানানো হয়েছে। এলটিইউ বললে তো হবে না। এলটিইউকে বলতে চাই, অন্য কমিশনারেট থেকে আমরা এলটিইউতে চলে আসার জন্য। কিন্তু আমাদের  তো অনেক সমস্যা আছে। ১৯টি ওয়্যারহাউসের নিবন্ধন  নেই, এ বিষয়ে তিনি বলেন, এলটিইউতে আমাদের ফ্যাক্টরি নিবন্ধিত। আমাদের তো ট্রেডিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট রয়েছে। সব জায়গায় ভ্যাট কাটা হয়। এটা বললে তো হবে না। এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভার হলেও এলটিইউ ও দুটি কমিশনারেটে গত বছর মাত্র ৩৩ কোটি টাকা ভ্যাট দিয়েছে সিঙ্গার- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা হলে তো সরকার বসে থাকত না। জালিয়াতি করলে কি এনবিআর ছেড়ে দিত। এলটিইউ সিঙ্গারকে বাটা, অ্যাপেক্সের মতো করে চিন্তা করে। আমরা তো পোর্ট স্টেজে ভ্যাট দিই। বিক্রিতে ভ্যাট দিই। এলটিইউ আমাদের বলেছে পণ্যের দাম বাড়াতে। সেটা কি সম্ভব? ভ্যাট ও রেয়াত ফাঁকি হবে  কেন? তাদের ক্যালকুলেশনে কোনো প্রবলেম হয়েছে।


এনবিআর সূত্রমতে, ১৯০৫ সাল থেকে বর্তমান বাংলাদেশে ব্যবসা করছে বহুজাতিক আমেরিকান কোম্পানি সিঙ্গার। সিঙ্গার বাংলাদেশ কিছু পণ্য এখানে উৎপাদন করে বাজারজাত করে। আর কিছু পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে। সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের তিনটি মূসক নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির একটি কারখানা এলটিইউতে নিবন্ধিত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেড নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত। 


এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কেন্দ্র ঢাকা (দক্ষিণ) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত। তিন জায়গায় তিনটি মূসক নিবন্ধন থাকায় সিঙ্গার তিন জায়গায় রিটার্ন দাখিল করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ও রেয়াত জালিয়াতি, নিবন্ধনহীন বিক্রয় কেন্দ্র ও ওয়্যারহাউস পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় এলটিইউ। এরই অংশ হিসেবে দুটি দল গঠন করা হয়। 


২৫ মে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির সাভারের  গেন্ডা এলাকার গেন্ডা ওয়্যারহাউস এবং অপর একটি দল ঢাকার ফুলবাড়িয়া ওয়্যারহাউসে অভিযান পরিচালনা করেন। দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তল্লাশি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব দলিলাদি যাচাই করে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক জায়গায় অবৈধ রেয়াত গ্রহণ, বিক্রির বিপরীতের ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ১৪ জুন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে এলটিইউ, যাতে ভ্যাট ফাঁকি ও অবৈধ রেয়াত গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৯৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের  ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে এই চার মাসে বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট ও অবৈধ রেয়াত নেয়ার মাধ্যমে এই ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


অন্যদিকে এলটিইউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গার বাংলাদেশের তিনটি মূসক নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি কারখানা (জামুর, রাজফুলবাড়িয়া, সাভার) এলটিইউয়ের অধিক্ষেত্রাধীন। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেড নামে অন্য একটি কারখানা ঢাকা (পশ্চিম) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত। কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির ১১০টি বিক্রয় কেন্দ্র ঢাকা (দক্ষিণ) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত। তবে পরিদর্শনে জব্দ করা দলিলাদিতে সিঙ্গার বাংলাদেশের ওয়্যারহাউস ও বিক্রয় কেন্দ্রের তালিকা পান ভ্যাট কর্মকর্তারা, যাতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিক্রয়  কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২৪টি। কিন্তু ঢাকা (দক্ষিণ) কমিশনারেটের আওতাধীন মতিঝিল বিভাগে কেন্দ্রীয় নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১১০টি। বাকি ৩১৪টি বিক্রয় কেন্দ্র মূসক নিবন্ধনের আওতাবহির্ভূত। 


অর্থাৎ এসব বিক্রয় কেন্দ্রে ভ্যাট আদায় করা হলেও তা সরকার পায় না। এছাড়া পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১৯টি ওয়্যারহাউস রয়েছে, যার দুটি ভ্যাট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এই ১৯টি ওয়্যারহাউসও মূসক নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। সিঙ্গার বাংলাদেশ বাংলাদেশে কিছু পণ্য উৎপাদন করে, কিছু পণ্য সিঙ্গারের অন্য দেশের কারখানা আমদানি করে। উৎপাদন ও আমদানির পর পণ্যগুলো এসব ওয়্যারহাউসে রাখা হয়। এসব পণ্য ওয়্যারহাউস থেকে বিক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করা হয়। আবার ওয়্যারহাউস থেকে ডিলার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি ও সরবরাহ করা হয়। এই ওয়্যারহাউস  থেকে পণ্য সরবরাহে কোনো ভ্যাট দেয় না সিঙ্গার বাংলাদেশ। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, যেহেতু এসব বিক্রয়  কেন্দ্র ও ওয়্যারহাউস কোনো নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত নেই,  সেহেতু এসব ওয়্যারহাউস ও বিক্রয়ে কেন্দ্র এলটিইউয়ের অধিক্ষেত্রাধীন এবং ভ্যাট আদায়সহ ন্যায় নির্ণয়ন কার্যক্রম এলটিইউয়ের এখতিয়ারাধীন। এসব বিক্রয়  কেন্দ্র ও ওয়্যারহাউস মূসক আইন লঙ্ঘন করে পরিচালনা করা হচ্ছে। এলটিইউ এসব বিক্রয় কেন্দ্র ও ওয়্যারহাউসের অনিয়মের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি মূসক আইন অনুযায়ী পরিচালনার বিষয়ে ২৩ আগস্ট এলটিইউয়ের কমিশনারের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিঙ্গারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২৫ আগস্ট সিঙ্গার বাংলাদেশ এলটিইউকে এক চিঠিতে জানায়, উচ্চ আদালতের ১  ফেব্রুয়ারির এক নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেডকে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে মার্জ (একীভূত) করা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এলটিইউয়ের সভায় এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। এলটিইউ জানতে পারে, একীভূত হওয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সিঙ্গার প্রতিমাসে রিটার্ন দাখিল করে। বিষয়টি ঢাকা (পশ্চিম) ভ্যাট কমিশনারেটকেও জানানো হয়নি।


উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেডের বর্তমানে আইনগত কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করায় বর্তমানে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড  কেবল একটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গণ্য হবে। সিঙ্গার বাংলাদেশ-এর বিদ্যমান কারখানা এলটিইউয়ের অধিক্ষেত্রাধীন হওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপর একটি লিমিটেড কোম্পানির মালিকানাধীন কারখানা একীভূত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, প্রকৃতি, পরিধি, মালিকানা ও অধিক্ষেত্র-সংক্রান্ত তথ্য মূসক আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী এলটিইউ তত্ত্বাবধান করবে। কিন্তু সিঙ্গার এলটিইউকে কোনো বিষয়ে অবহিত করেনি। কবে, কীভাবে একীভূত হয়েছে, আরজেএসসিতে তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ এলটিইউকে এখনও  দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সেহেতু কত তারিখে স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ এলটিইউকে দেয়নি। এছাড়া ভ্যাট পশ্চিমকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কি না, তার  কোনো প্রমাণও দেয়নি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এলটিইউ থেকে ঢাকা (পশ্চিম) ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন সাভার ভ্যাট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যাতে দেখা যায়, সিঙ্গার বাংলাদেশ আদালতের নির্দেশনা ভঙ্গ ও মূসক আইন লঙ্ঘন করে তথ্য গোপন করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্সের নামে আগস্টেও ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একীভূত হওয়ার পর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপ্লায়েন্সের সব কার্যক্রম সিঙ্গার বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে এলটিইউতে পরিচালিত হবে। কিন্তু সিঙ্গার বাংলাদেশ মূলত ভ্যাট ফাঁকি দিতে এবং অবৈধ রেয়াত নিতে এ ধরনের অনিয়ম করে আসছে। মূসক আইন মেনে চলতে সিঙ্গারকে নির্দেশনা দেয়া হয়।


এ বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার যে অনিয়ম করেছে, তাতে মূসক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত। এনবিআর বিবেচনা করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে। টার্নওভার অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বছরে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে আসছে।


উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটি এ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এই কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে ৫৭ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, বিদেশি ছয় দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। গতকাল সর্বশেষ এই কোম্পানির শেয়ার ১৭২ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়।



 

আরো পড়ুন