শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
এমপিদের বলয়ে ইউপি নির্বাচন
বশির হোসেন খান
০২ নভেম্বর, ২০২১ ২০:৩৮:০৬
প্রিন্টঅ-অ+


ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে আরো পাকাপোক্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের (এমপি) অবস্থান। তৃণমূল পর্যায়ে নিজের পছন্দের লোককে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে নির্বাচনি এলাকায় নিজেদের শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে চাচ্ছেন তারা। দলীয় নিয়মানুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী প্যানেল পাঠানোর কথা থাকলেও সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে এমপিদের চাওয়া। অনেকে নিজেদের স্বজনদের দলীয় প্রার্থী বানাচ্ছেন। আবার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এমপির বিরোধ থাকলে তারা কেন্দ্রে পাঠাচ্ছেন আলাদা তালিকা। নিজের পছন্দের প্রার্থীর হাতে নৌকা না উঠলে বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড় করিয়ে মদদ দিচ্ছেন। নিজে নিরাপদ থাকতে অনেক এমপি নিজের এলাকায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেয়ার সুপারিশও করছেন দলের হাইকমান্ডের কাছে।







পছন্দের প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেও সহযোগিতা করছেন সংসদ সদস্যরা। বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইউপি নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ১৫৩ চেয়ারম্যান। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেখা যায়, এ ধাপে ৮১ চেয়ারম্যানসহ ৩৬০ জনপ্রতিনিধি বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ প্রার্থী। বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয়ীদের মধ্যে সংরক্ষিত সদস্য ৭৬ ও সাধারণ সদস্য ২০৩ জন রয়েছেন। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর ও ২১ জুন প্রথম ধাপের ৩৬৪টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ওই ধাপে ৭২ চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ প্রার্থী। তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ২৮ নভেম্বর। সে ধাপেও অনেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে জানা গেছে। নিজেদের দলীয় কোন্দলের বাইরে রাখতে অনেক এমপি প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন বোর্ড সভাপতি শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন তাদের এলাকায় প্রতীক বরাদ্দ না দিতে। মূলত আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকার কিছু এমপি এমন চিঠি দিয়েছেন।

শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের ছয় দলীয় এমপির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই জেলার ইউনিয়নগুলোয় দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এসব ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ করে দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছেন এমপিরা। তারা হলেন- মাদারীপুর-১ আসনের নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান, মাদারীপুর-৩ আসনের ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শরীয়তপুর-১ আসনের ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-২ আসনের একেএম এনামুল হক শামীম ও শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শরীয়তপুর জেলায় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় ৫৫টি ইউপিতে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাদারীপুর জেলায়ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় ২৬টি ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকবে না। আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে গোপালগঞ্জ-২ নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন কাশিয়ানী উপজেলাভুক্ত সাতটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ ইউনিয়নগুলো দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্বাচনি এলাকা।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশে এমপিদের ঘনিষ্ঠজনরাই ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন। তৃণমূল থেকে যে প্রার্থী তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সেটা এমপির পছন্দের তালিকা। যেখানে এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের বনিবনা হয় না, সেখানে এমপি আলাদা তালিকা পাঠান। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড এমপিদের পছন্দকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কোথাও বেশি কোন্দল থাকলে উপ-গ্রুপগুলোর মধ্যে সমঝোাতার জন্য কেন্দ্র থেকে চেষ্টা করা হয়। কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এমনটি ঘটেছে। সেখানে এমপি ও স্থানীয় নেতাদের আলাদা তালিকা আসে। পরে হাইকমান্ড থেকে দুই পক্ষের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়। যশোর, রাজশাহী, শেরপুরসহ কিছু এলাকায় এমপিদের স্বজনদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আবার দলীয় পদধারী অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, যাদের পেছনে রয়েছে এমপিদের প্রত্যক্ষ মদদ। ইউপি নির্বাচন ঘিরে এমপিদের এমন প্রভাব বলয় তৈরির বিষয়ে আওয়ামী লীগের



সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব, তাদের স্বজন বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পার্টির নিজস্ব ওয়েতে, নিজস্ব সেল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। যেখানে যেখানে অভিযোগ আসছে, সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সেখানকার বিষয়গুলো দেখছেন।

 


আরো পড়ুন