শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ডিপিডিসিতে কর্মী নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য
মুনিরুল তারেক
০৩ নভেম্বর, ২০২১ ২২:২৭:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১২টি এনওসিএস’র আওতায় কমার্সিয়াল সাপোর্ট সার্ভিস (সিএসএস) দেওয়ার জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে মিটার রিডার, সুপারভাইজার ও লাইনম্যান পদে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে- ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী বাছাই, সিভির সফট ও হার্ড কপি সংশ্লিষ্ট এনওসিএস-এ প্রেরণ ও ইন্টারভিউ শেষে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার জন্য। গতকাল ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এনওসিএসগুলোয় প্রার্থীদের ইন্টারভিউ গ্রহণ ও নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে- অধিকাংশ নিয়োগেই অবৈধ লেনদেন হয়েছে।





পদ, প্রার্থীদের ক্রুটি ও সুপারিশকারীর ক্ষমতা ভেদে চাকরিপ্রাপ্তরা এক থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েছে বলে ডিপিডিসি’র একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও ঘুষ বাণিজ্য গোপন বিষয় ও অবৈধ লেনদেন হওয়ায় এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়নি। চাকরিপ্রাপ্ত অনেকেও সাংবাদিক পরিচয় না জেনে অসাবধানতাবশত অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানান, নানা কারণে অযোগ্য-অদক্ষ প্রার্থীরাও চাকরি পেয়েছেন। টাকা দিলেই মিলেছে চাকরি।

সূত্র মতে, ১২ টি এনওসিএস’র মধ্যে গতকাল বনশ্রীর চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হয় খিলগাঁও তালতলাতে অবস্থিত এসি (তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী) নাসির উদ্দিনের কার্যালয়ে। তিনিই এই সার্কেলের নিয়োগ কার্যক্রমের প্রধান। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছে ইন্টারভিউ। এই জোনে জনবল সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এম.আই এসাসিয়েটস। সেখানে সুপারভাইজার পদে চারজন, ২৮/২৯ জন মিটার রিডার ও বেশ কয়েকজন লাইনম্যান দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- চাকরিপ্রাপ্ত প্রায় প্রত্যেককেই টাকা দিতে হয়েছে। সিংহভাগেরই চাকরি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। আর যারা ঘুষ না দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাদের উচ্চ পর্যায়ের সুপারিশ ছিল। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। আর এই ঘুষ বাণিজ্যে ঘুরেফিরে নাম আসছে এসি নাসির উদ্দিন ও বনশ্রী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামানের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যাখ্যাত প্রার্থী জানান, ইন্টারভিউ দিতে আসার আগেই সিভিতে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে চাকরি পেতে হলে ঘুষ দিতে হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল। আজ (গতকাল) ইন্টারভিউ দিতে এসে দেখলাম চাকরি পেতে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা না থাকলেও অনেকেই চাকরি পেয়েছেন। এটা শুধুমাত্র লোকদেখানো ইন্টারভিউ। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। চাকরিপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন তাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই। অর্থের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন তারা।

সরেজমিনে খিলগাঁওতে এসি নাসির হোসেনের কার্যালয় এলাকায় গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। নিয়োগ নিশ্চিত হওয়া মিটার রিডার পদে এক প্রার্থী সাংবাদিক পরিচয় না জেনে প্রকাশ্যেই বলেন, তিন লাখ দিয়ে চাকরি নিয়েছি। এই টাকা উঠাতে কত দিন লাগে জানি না। যোগদান করেই উপার্জন শুরু করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য হচ্ছে- প্রত্যেক নিয়োগের বিপরীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও টাকা নিয়েছে। আবার ডিপিডিসির কর্মকর্তাদেরও টাকা দিতে হয়েছে। এতে করে একেকজনের তিন থেকে চার লাখ টাকা ঘুষ বাবদ খরচ হয়েছে। অথচ একজন মিটার রিডারের বেতন সর্বসাকুল্যে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা হবে। দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মী চাকরি করে মোট আয় করবে দেড় লাখ টাকার মত। চাকরিতে উপার্জনের চেয়ে চাকরি পেতেই খরচ বেশি হওয়ায় এসব কর্মীরা নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতি করতে বাধ্য হবেন। ফলে গ্রাহক হয়রানি বাড়বে, বদনাম হবে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের।

সূত্র আরো জানায়, যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসিতে জনবল সরবরাহের কাজ পেয়েছেন, সেক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। একটি সিন্ডিকেট ডিপিডিসির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দর বেশি থাকা সত্তে¡ও কাজ পেয়েছেন।

বনশ্রী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, এখানে ঘুষ দিয়ে কারো নিয়োগ হচ্ছে না। যার হবে, তার নিয়োগ বাতিল করা হবে। যদি ঠিকাদারও কারো কাছ থেকে অর্থ নিয়ে থাকে, তাকেও বাদ দেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বনশ্রী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন অভিযোগ নেই। আপনারা যদি কোন অভিযোগ পান সেটা খুঁজে বের করেন। আমিতো জড়িত না। এরকম কিছু হচ্ছেও না। অযোগ্য যদি কেউ নিয়োগ পায় সেটা আপনারা খুঁজে বের করেন।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিকাশ দেওয়ান দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, এটা ডিপিডিসির নিয়োগ নয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে জনবল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোন অনিয়ম হয়েছে বলে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে এর সত্যতা যাচাই করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 


আরো পড়ুন