শিরোনাম :

  • রেল দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহারের দাবি চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা-সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ আজ চার দিনের সফরে রাষ্ট্রপতি নেপাল যাচ্ছেন ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
বিসিকে চালু হচ্ছে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৫:২২
প্রিন্টঅ-অ+


বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরনের সেবা এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নিজস্ব কার্যালয়ে ‘এসএমই খাতের উন্নয়ন ও টেকসইকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। ইআরএফ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং প্রিজম বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ইআরএফের সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শিল্পসচিব মো. আব্দুল হালিম, বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হোসাইন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং ফুড, নিউট্রিশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের টিম লিডার ম্যানফ্রে ফ্রেনহোলস প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশেদুল ইসলাম।

সালমান এফ রহমান বলেন, একটা দেশের মোট শিল্পকারখানার ৯০ শতাংশ এসএমই খাতের হওয়া উচিত। বাংলাদেশেও এ অনুপাত বিরাজমান। আগামীতে এখাতে বিনিয়োগ আরও সহজ করার জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’চালু করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) সূচকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে অনেক সংস্কার করেছি। কিন্তু কীভাবে বিশ্বব্যাংক স্কোরিং করে র্যাংকিং করে এসব বিষয়গুলো, আমরা ভালোভাবে বুঝিনি। যার ফলে আমরা রিফর্ম করলেও নম্বরটা পাই না।’

তিনি বলেন, ‘গত মার্চে বিশ্বব্যাংক বলল, এ বছরের র্যাংকিং এপ্রিল মাসের ভিত্তিতে হবে। আর এটা অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে। আমরা ক্ষমতায় এসেছি জানুয়ারিতে, বুঝতে বুঝতে ফেব্রুয়ারি চলে গেল। তখন বিশ্বব্যাংক বলল, এবার আমাদেরই কিছুটা এগোতে হবে। কাজ শুরু করলাম।’

এ কাজ করার উদাহরণ দিতে গিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নিতে গেলে ১৪-১৮ ধাপে অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এটাকে আমরা কমিয়ে চার ধাপে নামিয়ে আনলাম। ভূমি সংশ্লিষ্ট নানা সংস্কার করা হলেও এগুলো ওয়েবসাইটে না দেয়ার কারণে আমরা নম্বর পাই না। পরে এসব তথ্য ওয়েবসাইটে দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো।’

তিনি বলেন, ‘রাজউকের সংস্কারের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক জারিপ চালালে রাজউক চেয়ারম্যান বলে, এটা সংস্কার হয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে যে অফিসার অনুমোদন দেন, তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সেখানেও আমার নম্বর হয়ে গেল শূন্য। তারপরও এবার আমরা ছয় না আট ধাপ এগিয়েছি। কিন্তু এটাতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। আগামী বছর আমরা ডাবল ডিজিটে আসতে চাই।’

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়মকানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা কঠিন তার ওপর বিশ্বব্যাংক এই সূচক তৈরি করে থাকে। সর্বশেষ তালিকায় এবার আগের চেয়ে অনেকটা উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। আগামী মাসে ইজ ডুয়িং বিজনেস-২০২০ রিপোর্ট প্রকাশ করবে বিশ্বব্যাংক।

অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুল হালিম, ‘আমাদের সরকারের পলিসি হলো দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিসিকের অবদান ৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এর মধ্যে এসএমইর অবদান ২৮ শতাংশ। যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। দিন দিন জাতীয় অর্থনীতিতে এসএসইর অবদান বাড়ছে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি। ফলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হোসাইন বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার দেশে তিন কোটি লোকে কর্মসংস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। ওই সময়ে আমরা ২০ হাজার একর জমিতে ৫০টি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তুলে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারব। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বর্তমানে বিসিক শিল্পনগরীতে সর্বোচ্চ এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে উদ্যোক্তারা।

তিনি বলেন, ‘এসএমই উদ্যোক্তাদের সুযোগ না দিলে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প গড়ে উঠবে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য দেশের আনাচে কানাচে যে শিল্প নগরী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সেখানে উদ্যোক্তাদের প্লট দেয়া, ঋণের ব্যবস্থাসহ ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।’

গত ৬২ বছরে দেশে ৭৬টি শিল্পনগরীতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার উদ্যোক্তাকে প্লট দেয়া হয়েছে। এতে সাড়ে আট লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের রফতানি বাজারে বিসিকের অবদান ১০ শতাংশ। প্রায় ৬ বিলিয়ন মূল্যের পণ্য উৎপাদন করা হয়। এটা অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই সংগ্রহ করা হয়। এর সিংহভাগ রফতানি করা হয় বলে জানান বিসিক চেয়ারম্যান।



আমার বার্তা/২৬ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন