শিরোনাম :

  • ‘রেড জোন’ ওয়ারীতে লকডাউন শুরু যেসব অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে আজ পিআরএলে থাকা যুগ্মসচিবের করোনায় মৃত্যু ইইউ রেমডেসিভির ব্যবহারের ছাড়পত্র দিল
রেস্তোরাঁ খোলা রাখাসহ বরাদ্দ ও সার্ভিস চার্জে ঋণের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি:
২৯ জুন, ২০২০ ১৯:২৫:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+




চলমান করোনা ভইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির মধ্যেও রাত ১২টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে চায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। একইসঙ্গে রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য নামমাত্র সুদ বা সার্ভিস চার্জে ঋণ এবং বাজেটে এই খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ চায় সংগঠনটি। পাশাপাশি এখন বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারলেও যেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয়, সে দাবিও রয়েছে রেস্তোরাঁ মালিকদের এই সংগঠনের।

গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব আর কে সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দেশে রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতা কমতে থাকে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ সরকার দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এসময় ঢাকাসহ জেলা শহরগুলোর হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা নিজ নিজ গ্রামে চলে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়। তবে সরকার বা সমিতির পক্ষ থেকে বন্ধ ঘোষণা না করা হলেও ক্রেতা-ভোক্তা ও শ্রমিক-কর্মচারী না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু রাখা ও এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসন সে নির্দেশনা মানছে না। ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা যাচ্ছে না এবং এই খাতে নিযুক্ত সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো :

১. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৮ মে’র প্রজ্ঞাপন সংশোধন ধরে জরুরি সেবার পাশাপাশি ‘হোটেল-রেস্তোরাঁ’ খাতের নামটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে;



২. করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রথম সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দই-মিষ্টির দোকানের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিলের চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিল বকেয়া হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। আগামী বছরের শুরু থেকে প্রতি মাসে এ বছরের বকেয়া বিলের ১০ শতাংশ করে আদায় করতে হবে;



৩. রেস্তোরাঁ মালিকদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। তাই নামমাত্র সুদ বা সার্ভিস চার্জে ব্যাংকের ঋণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে;



৪. সরকার নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য যে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, তার আওতায় কর্মহীন হয়ে পড়া হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মচারী-শ্রমিকদের পরিবারগুলোর জন্য ঈদুল আজহার আগেই অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে;



৫. বাজেটে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দই-মিষ্টি খাতকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দিতে হবে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন খন্দকার, সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব ইমরান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও কয়েকজন রেস্তোরাঁ মালিক সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন।



আমার বার্তা/ ২৯জুন,২০২০/এসএফসি


আরো পড়ুন