শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
কোভিডকালে কর্মসংস্থানে ফেরার গতিতে পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে নারীরা
১৩ আগস্ট, ২০২১ ১৫:৪৬:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


কোভিড-১৯ মহামারীতে বিধ্বস্ত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হারিয়েছেন জীবিকা ও কর্মসংস্থান। তাদের মধ্যে একাংশ এরই মধ্যে আবার কর্মসংস্থানে ফিরেছেন। কেউ নতুনভাবে চাকরিতে ঢুকেছেন। আবার পেশা পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবিকার পরিবর্তনও করেছেন অনেকে। তবে কোভিডকালে কর্মসংস্থানে ফেরার গতিতে পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছেন নারীরা।

বিশ্বব্যাংকের ‘কোভিড-১৯ মনিটরিং সার্ভে ইন পুওর অ্যান্ড স্লাম এরিয়াস অব ঢাকা অ্যান্ড চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ লেবার মার্কেট সিচুয়েশন অ্যাজ অব রাউন্ড-২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

কভিড-১৯ মহামারীর অভিঘাতে দেশের শ্রমবাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন অনেকেই। জীবিকা টিকিয়ে রাখা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগে ভুগছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মী ও শ্রমিকরা। বিশ্বব্যাংকের জরিপে দেখা গেছে, মজুরি ও বেতন পান এমন ৩৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন পরবর্তী মাসে তাদের চাকরি না-ও থাকতে পারে। এমনকি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও ১৫ শতাংশ পরবর্তী এক মাস ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। স্বনিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে ৪ শতাংশ এ আশঙ্কায় ভুগছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২০ সালের জুনে কর্মহীনতা ছিল ১০ শতাংশ। কর্মে নিয়োজিত ছিল ৫০ শতাংশ। অনুপস্থিত ছিলেন ৮ শতাংশ ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন ৩২ শতাংশ শ্রমিক ও কর্মী। অন্যদিকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। এ সময়ে কর্মহীনতা ছিল ৬০শতাংশ এবং কর্মে নিয়োজিত ছিল ৬০ শতাংশ। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ শতাংশ ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন ৩২ শতাংশ শ্রমিক ও কর্মী।

ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামের শ্রমবাজার দ্রুততার সঙ্গে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, কাজে ফেরার হার দ্রুত বাড়ছে চট্টগ্রামে। ঢাকায় জুনে কর্মহীনতা ছিল ১২ শতাংশ ও কর্মে নিয়োজিত ছিল ৫১ শতাংশ। আবার অনুপস্থিত ছিলেন ৬ শতাংশ ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন ৩১ শতাংশ শ্রমিক ও কর্মী। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ঢাকায় কর্মহীনতা কমে দাঁড়ায় ৮ শতাংশ এবং কর্মে নিয়োজিত বেড়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়। অনুপস্থিতির হার নেমেছে ২ শতাংশে। নিষ্ক্রিয়তার হার ২৯ শতাংশে নেমে আসে। চট্টগ্রামে জুনে কর্মহীনতা ছিল ৯ শতাংশ এবং কর্মে নিয়োজিত ছিল ৪৮ শতাংশ। অনুপস্থিত ছিলেন ১০ শতাংশ ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন ৩৪ শতাংশ শ্রমিক ও কর্মী। কিন্তু সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে কর্মহীনতা কমে দাঁড়ায় ৩ শতাংশ এবং কর্মে নিয়োজিত বেড়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়। অন্যদিকে অনুপস্থিতির হার নেমে ৩ শতাংশে এবং নিষ্ক্রিয়তার হার ২৯ শতাংশেই থেকে যায়।

নারীর তুলনায় পুরুষের কর্মে ফিরে আসার গতি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দেখা গেছে, জুনে ৭৪ শতাংশ পুরুষ কর্মে নিয়োজিত থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়। ফলে ১২ শতাংশ বাড়ে। এ সময়ে নারীদের কর্মে নিয়োজনের হার ২১ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়। ফলে নিয়োজনের হার মাত্র ৭ শতাংশ বাড়ে। আবার কর্মহীনতার হার পুরুষের দ্রুত কমছে। সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে নারীরা।

জুনে পুরুষদের কর্মহীনতার হার ছিল ১১ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ শতাংশে। অন্যদিকে নারীদের এ সময়ে কর্মহীনতার হার ৯ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে এ সময়ে নারীদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তার হার বেড়েছে। জুনে ৬২ শতাংশ নারী নিষ্ক্রিয় থাকলে সেপ্টেম্বরে তা ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যদিও এ সময়ে পুরুষদের নিষ্ক্রিয়তার হার কমেছে। জুনের তুলনায় ৭ শতাংশ থেকে এটি ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

আমার বার্তা/খালেকুজ্জামান



 



 


আরো পড়ুন