শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ই-কমার্সের পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে আছে গ্রাহকের ২১৪ কোটি টাকা
২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১১:০৪:১৮
প্রিন্টঅ-অ+


ই-কমার্স লেনদেনে এস্ক্রো সার্ভিস চালুর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোতে ক্রেতাদের আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা আগামী তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

গত ১ জুলাই এস্ক্রো সার্ভিস চালুর পর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ক্রেতারা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোতে অর্ডার করে এই ২১৪ কোটি টাকা টাকা পরিশোধ করলেও কোন পণ্য বা রিফান্ড পাননি।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কীভাবে পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেবে, তা চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইসিটি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন।

তবে ১ জুলাই এর আগে বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানিগুলোতে অর্ডার করে অগ্রিম মূল্য পরিশোধের পরও যেসব ক্রেতা পণ্য বা রিফান্ড পাননি, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

তিনি বলেন, এস্ক্রো সার্ভিস চালুর পর যেসব ক্রেতা অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেও পণ্য পাননি, তাদের দেওয়া অর্থ পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর কাছে রয়েছে। সেখান থেকেই ক্রেতাদের কাছে তা ফেরত পাঠানো হবে।

'১ জুলাই এর আগে যেসব ক্রেতা অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেছেন, তাদের টাকা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর কাছে চলে গেছে। সেসব টাকা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে উদ্ধার করা বেশ জটিল। ফলে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়'- জানান বাণিজ্য সচিব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ইভ্যালির গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি আদালতের উপর নির্ভর করছে। আদালত একটি পরিচালনা পর্ষদও গঠন করে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু হবে। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় নেই।

তিনি বলেন, যুবক ও ডেসটিনির অনেক সম্পদ রয়েছে। সেসব সম্পদ অনেকে দখল করে ভাড়া দিচ্ছে। সম্পদগুলোর দামও এখন বেড়েছে।

সেখানেও গ্রাহকদের অনেক পাওনা আছে। এই দুই কোম্পানি নিয়েও আদালতে মামলা রয়েছে। আদালত নির্দেশনা দিলে তাদের সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় সকল ই-কমার্স কোম্পানিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর নিতে হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব ই-কমার্স কোম্পানি এই নম্বর নেবে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এছাড়া, ই-কমার্সগুলোর জন্য সেন্ট্রাল লগইন ট্র্যাকিং প্লাটফর্ম তৈরির পাশাপাশি অনলাইন সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এসব কাজে আইসিটি ডিভিশন সহায়তা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, আইসিটি ডিভিশন কতোদিনের মধ্যে এসব সিস্টেম তৈরি করে দেবে, তা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানাবে। আশা করছি, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এসব কাজ পুরোদমে শুরু হবে।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বিশ্বব্যাপী ১০% স্টার্টআপ টিকে থাকে, বাকিরা বিলীন হয়ে যায়। বাংলাদেশেও চালডালডটকমসহ ৫ বছর আগে অনেক স্টার্টআপ কয়েক লাখ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, এখন তারা কয়েক হাজার কোটি টাকার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

'ইভ্যালি বাংলার অ্যামাজন হয়তো এখন সমস্যায় আছে, কিন্তু চালডাল ৩০০গুণ গ্রোথ করেছে। তাই পাঁচ বছর আগে ইভ্যালিকে বাংলার অ্যামাজন বলার পর তারা ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশে ১০% এর বেশি স্টার্টআপ টিকে আছে'- যোগ করেন তিনি।

পলক বলেন, গত ৫ বছরে বাংলাদেশে ২৫০০টি স্টার্টআপ যাত্রা শুরু করেছে। এসব কোম্পানিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এইখাতে কর্মসংস্থানের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ।

ই-কমার্স সেক্টর নিয়ন্ত্রণে আপাতত কোন নতুন আইন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে না বলেও জানান তিনি। বিদ্যমান আইন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সেক্টরে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে।


আরো পড়ুন