শিরোনাম :

  • এডিস মশা নিধনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ আজ বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসআকাশ মেঘলা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে সংসদে এরশাদের জানাজা সম্পন্ন মঈন-রশিদ ধর্মীয় কারণে শিরোপা উদযাপন করলেন না
‘যে ভিসি ছাত্রলীগের সে ভিসি চাই না’
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১১ মার্চ, ২০১৯ ১৭:০৭:৫১
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ডাকসু নির্বাচন বাতিল, পুনঃতফসিল ঘোষণা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যর্থতা দায় নিয়ে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন— প্রহসনের নির্বাচন ছাত্রসমাজ মানে না। এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলীগের সেই ভিসি চাই না।

সেখানে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আরও স্লোগান দিচ্ছেন। ‘ব্যালট চুরির নির্বাচন ছাত্র সমাজ মানে না’, ‘বাটপারির নির্বাচন ছাত্র সমাজ মানে না’, এ জাতীয় বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত ক্যাম্পাস।

এর আগে দুপুর দেড়টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। প্রশাসন শুরু থেকেই ভোট কারচুপিতে যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। আমরা এ নির্বাচন বর্জন করছি।

এর আগে দুপুর ১টায় প্রহসনের ভোট আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে চারটি প্যানেল। ওই চারটি প্যানেলের পক্ষে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোটে অনিয়ম, কারচুপি, জালভোট ও ছাত্রলীগের অধিপত্য সর্বত্র। এই ভোট বর্জন করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

পরে এসব দাবি নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যান। সেখানে ভিসিকে না পেয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন ছাত্রনেতারা।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। গোটা ক্যাম্পাসে থেমে থেমে চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মিছিল-স্লোগানে উত্তাল রেখেছে।

প্রসঙ্গত ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় সকাল ৮টায়। বেলা ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এতে ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৯৪৪ এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৩১২ জন।

ডাকসুতে ২৫ পদে নির্বাচন হচ্ছে। বিভিন্ন পদের মধ্যে আছে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে ৩টি। আরও আছে- সম্পাদকীয় ৯টি এবং ১৩টি সদস্যপদ। এসব পদের জন্য বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ২২৯ জন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ ভিপি ২১, জিএস ১৪ জন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৩টি প্যানেল। অন্যদিকে প্রত্যেক হল সংসদে ১৩টি পদে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস একটি করে তিনটি। আরও আছে সম্পাদকীয় ৬, সদস্য ৪টি। হল সংসদ (১৮টি হল, ২৩৪ পদে) প্রার্থী ৫০৯ জন। হল সংসদ ও ডাকসু মিলিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গড়ে ৩৮টি করে ভোট দিতে হয়। সুষ্ঠুভাবে ভোটের কাজ শেষ করতে রিটার্নিং অফিসারসহ (আরও) ৪২ জন কাজ করেন।





আমার বার্তা/১১ মার্চ ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন