শিরোনাম :

  • ডি মারিয়া উড়িয়ে দিলেন রিয়ালকে তিন সপ্তাহ পরিকল্পনা, অতঃপর অভিযানের গ্রিন সিগন্যাল কোহলির ব্যাটে সহজ জয় ভারতের বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বাড়িতে হামলা জাবি উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য আল্টেমেটাম
বেসরকারি মেডিকেল কলেজে কর না রাখার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:৩৩:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো লাভ করতে পারবে না। লাভ করলে সেটা হবে অবৈধ। এসব প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হয়। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তাদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ কর এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় কর না রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে এক বৈঠকে সংগঠনটি এ দাবি জানায়। এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। সরকারি রয়েছে ৩৬টি এবং আরও চারটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সংগঠনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সেবার ৬৫ শতাংশ দিয়ে থাকে বেসরকারি চিকিৎসা খাত। প্রতিবছর বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে ৬ হাজার চিকিৎসক বের হন। আর সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বের হন সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক-১ প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, ‘পাগলামি থেকে (ভালো লাগার জায়গা থেকে) এবং দেশে ভালো চিকিৎসক তৈরি করার জন্য আমরা এই হাসপাতালগুলো তৈরি করেছি। এসব থেকে তো আমরা লাভ পাই না। যেসব আয় হয়, তা ভর্তুকিতেই চলে যায়। তাছাড়া বেসরকারি মেডিকেলে যেসব সুবিধা দেয়া হবে, এর সুবিধা পাবেন রোগীরা।’

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অলাভজনক আবার তাদেরকে কর দিতে হয়, এটা দ্বৈত নীতি বলে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য জমি কেনা, অ্যাম্বুলেন্সসহ গাড়ি কেনা, চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনাসহ সব ধরনের কর প্রত্যাহার করতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের কথার প্রেক্ষিতে এনবিআরের কর নীতির সদস্য কানন কুমার রায় বলেন, ‘চিকিৎসক হতে গেলে একজন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীকে কত খরচ করতে হয়, আর সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কত খরচ, তা এ দেশের মানুষ জানে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে কী হয়, তা এ দেশের মানুষ হিসেবে আমরাও জানি।’

অলাভজনক আবার কর নেয়া– এই দ্বৈত নীতির বিষয়ে কানন কুমরা রায় বলেন, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে লাভ নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। নিলে সেটা ব্ল্যাক (অবৈধ)। এখান থেকে লাভ হলে আপনারা কূল পাবেন না। কারণ ওই টাকা খুঁজে বের করা হবে। তাই এখানে কর না কমানোর চিন্তা করাই ভালো।’

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ৩৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হয়। সেখানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো দিতে হয় মাত্র ১৫ শতাংশ কর। অলাভজনক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলেই তাদেরকে এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলেও এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হবে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে জানিয়ে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিবছর বাজেটের আগে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করি। সবগুলো আলোচনার মধ্যে একটা সহানুভূতি থাকে। তারা কষ্ট করছে, তাদেরকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া উচিৎ। কিন্তু আমরা কিছু কিছু করতে পারি, আবার পারি না। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যেসব চাওয়া-পাওয়া সেগুলো আপনারা তুলে ধরেছেন। এগুলো আমাদের কর্মকর্তারা শুনেছেন। যতটুকু সম্ভব আমরা আপনাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। তবে যেটুকু দেশের নাগরিক হিসেবে সরকারকে দেয়া প্রয়োজন, সেটুকু আমরা যেন করি।’

এ সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, অ্যাসোসিয়শনের দেয়া তথ্য মতে, দেশে প্রায় ৮০ হাজার চিকিৎসক রয়েছে। তাদের মধ্যে কতজন ট্যাক্স দেন? যেসব চিকিৎসক ট্যাক্স দেন না, তাদেরকে ট্যাক্সের আওতায় আনতে আগামী বাজেটে কী পদক্ষেপ থাকছে?

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সব পেশাজীবীদের জন্য যে রকম, ট্যাক্স দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্যও সে রকম নীতিই আছে। এর জন্য আলাদা নীতির দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, চিকিৎসকরা যে বাইরে প্র্যাক্টিস করেন কিংবা ভোর-রাত পর্যন্ত রোগী দেখেন অনেকে, এগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স আদায় করি কি না? ট্যাক্স যারা দেয়, তারা আমাদের স্ব-নির্ধারণী নীতিতেই দেয়। এগুলো অনেক সময় উনার নীতি-নৈতিকতার ওপরে নির্ভর করে। অনেক চিকিৎসক আছেন, যারা তার পুরো আয় দেখান। আবার অনেকেই আছেন, পুরো আয়ের চার ভাগের এক ভাগও দেখান না। কাউকে আমরা ধরতে পারি, কাউকে পারি না। আমরা সবার কাছেই একটা অনুরোধ রাখব, চিকিৎসক, আইনজীবী বা অন্যান্য পেশাজীবী যারা আছেন, তারা যেন নৈতিকতা মেনে চলেন।’

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এটা যোগ করতে বলব যে, নৈতিকভাবে সবাই যেন ট্যাক্স দেয়। ডাইরেক্ট ট্যাক্স (প্রত্যক্ষ কর) আমরা বাড়াতে পারি, তাহলে ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স (বেসকার মেডিকেল কলেজের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরোপিত কর) আমরা কমাতে পারব।’



আমার বার্তা/০৩ এপ্রিল ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন