শিরোনাম :

  • ৩০ হাজার ৩৫৪ জন হাজি দেশে ফিরেছেন মক্কায় আরও এক বাংলাদেশি হাজির মুত্যু এবার হজ করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ মুসল্লি মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ইশান্তের তোপে দিশেহারা ক্যারিবীয়রা
মধ্যরাতে ইবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:০৪:০১
প্রিন্টঅ-অ+


বেশ কয়েকদিনের লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট হয়ে মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী সেখানে অবস্থান নিয়ে বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এর কিছু সময় আগে উপাচার্য ঢাকা থেকে বাসভবনে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছেলেন বলে জানিয়েছেন তার এক ব্যক্তিগত সহকারী।

একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক নাছিরুদ্দীন আজহারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন। আন্দোলনের ভিডিও করার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা তাকে আন্দোলনের স্থান ত্যাগ করতে বলেন এবং ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সেখানে উপস্থিত হন প্রাধ্যাক্ষ পরিষদের সভাপতি ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক আকরাম হোসাইন মজুমদার, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া রহমান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ত ম লোকমান হাকিম, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক কে এম শরফুদ্দীন এবং সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। পরে তারা বিভিন্নভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করলে এবং তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরিবহন বৃদ্ধির দাবিও জানান। একই সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিও করেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেল থেকেই বিশ্বিবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হলেও সাদ্দাম হোসেন হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে যায়। এ দুটি হলে একমাসেরও অধিক সময় ধরে জেনারেটর সংযোগ বিচ্ছিন্ন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

পরে রাত ৭টার দিকে তারা বিষয়টি প্রকৌশল দফতরে জানানোর পরেও বিদ্যুৎ না আসায় রাত পৌনে ১১টার দিকে জিয়া হল মোড় এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের টিএসসিসি, ডায়না চত্বর, প্রশাসন ভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারীর বাস ভবনের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও তাও ঠিকমত কাজ করে না এ দুই হলে। ফলে প্রায়শ পুরো হল অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে গরমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের হঠাৎ যাওয়া আসায় ল্যাপটপ ও ডেক্সটপের মত মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যা খুব দ্রুত সমাধানের জন্য আশ্বস্থ করেছি। একই সঙ্গে শনিবার সকাল ৯টায় তাদের সকল সমস্যা লিখিত আকারে নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে আসতে বলছি। জেনারেটর সমস্যার কথা জানা ছিল না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রকৌশল দফতরে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন, আমরা যেখান থেকে বিদ্যুৎ নেই ওই ফিডারে আগুন লেগেছিল। যে কারণে সাময়িক এই গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন ওই ফিডারে রিপ্লেসমেন্টের কাজ চলছে। আশাকরি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

হলে জেনারেটরের ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, জেনারেটর লোড টানতে পারছে না। অত্যাধিক চাপ পড়ার কারণে বার বার সুইচ পড়ে যাচ্ছে। ফলে হয় লোড বাড়াতে হবে, নয়তো রুমে রুমে নেয়া লাইনগুলো খুলে দিতে হবে। তাহলেই এক টানা পাওয়ার সাপ্লাই দিতে পারবে।



আমার বার্তা/১৩ এপ্রিল ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন