শিরোনাম :

  • জলবায়ু তহবিল গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন আজ নতুন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন শচিন লারা মুরালিরা বিমানের সিবিএ নির্বাচন আজ ক্যারিবীয় দলে সুযোগ পেলেন ওয়ালশ-কিং
আবরার হত্যার দায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না : শিক্ষক সমিতি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪২:২৪
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। বুয়েট শিক্ষকরা বলেছেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার ফলে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। যার ফলশ্রুতিতে আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যার দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

সংগঠনের সভাপতি ড. এ কে এম মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মোস্তফা আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।

বুয়েট শিক্ষকদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের স্বীকার হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলসহ গোটা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। আবরার হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদ ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি।

রোববার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতাররা হচ্ছেন-বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাসির আলম জেমি (২১), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির (২১), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (২১), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান রবিন (২২)।

নিহত আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় নিজ বাসার সামনে আবরারের তৃতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।



আমার বার্তা/০৮ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন