শিরোনাম :

  • ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ১৭০৬ ডেঙ্গু রোগী দেশে ফিরেছেন ৭৯৮২ হাজি আরও এক বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু নিষিদ্ধই হলেন শাহজাদ জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহ’র দলের ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ আটক ৪
শাকিব খানের ২০ বছর
বিনোদন ডেস্ক :
২৮ মে, ২০১৯ ১৪:৩৮:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


অভিনয় ক্যারিয়ারে ২০ বছরে পূর্ণ করলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ১৯৯৯ সালের আজকের এ দিনে মুক্তি পেয়েছিল সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রটি। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় পা রেখেছিলেন শাকিব খান। সিনেমায় আসলেন আর জয় করলেন এমন ক্যারিয়ার নয় তার। ক্যারিয়ারে প্রথম ১০ বছর প্রচুর কাঠ খড় পুড়াতে হয়েছে তাকে। তারপর সফলতা ধরা দেয় হাতে।

সিনেমায় আসার প্রথম ১০ বছরে পরিশ্রম তাকে বানিয়েছে আজকের শাকিব খান। ১০ বছর ধরে ঢাকাই সিনেমায় একক রাজত্ব তার। বছরের পর বছর ধরে দেখা যাচ্ছে সারা বছরের সেরা ব্যবসা সফল ছবির তালিকায় অধিকাংশ ছবিই থাকে শাকিব খান অভিনীত। চোখবন্ধ করে প্রযোজকরা বাজি ধরেন তার উপর।

২০ বছর আগের চোখে স্বপ্ন মাখা সেই হ্যাংলা পাতলা মাসুদ রানা নামের ছেলেটিই আজকের শাকিব খান। এই নামের বাইরেও ঢালিউডের কিং খান ও বস নাম্বার ওয়ান নামে তাকে ডেকে থাকেন তার ভক্তরা। ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ এই নায়ক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী।

সুদর্শন এই নায়কের উচ্চতা ৬ ফুট। ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। ছাত্রও ছিলেন সাইন্সের। কিন্তু এইচএসসি পড়ার সময়ই সিনেমার প্রতি ঝোঁক তৈরী হয়। শেষে ঝুঁকলেন সিনেমাতেই। শাকিব ১৯৯৯ সালে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ চলচ্চিত্রে। আফতাব খান টুলু পরিচালিত এ ছায়াছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন আরেক নবাগতা কারিশমা শেখ।

তবে এই ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগেই তার অন্য একটি সিনেমা মুক্তি পায়। এই দিক থেকে শাকিব খান অভিনীত প্রথম ছবি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের আজকের দিনে ২৮ মে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক অভিনয়শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান। দু'জনেরই এটি ছিল প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।

ছবি হিসেবে অনন্ত ভালোবাসা খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরের বছর ২০০০ সালে অভিনয় করেন গোলাম, আজকের দাপট, দুজন দুজনার, বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে। এজে রানা পরিচালিত ‘আজকের দাপট’ চলচ্চিত্রে প্রথম পূর্ণিমার বিপরীতে, আবু সাঈদ খান পরিচালিত ‘দুজন দুজনার’ চলচ্চিত্রে প্রথম পপির বিপরীতে ও দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘বিষে ভরা নাগিন’ চলচ্চিত্রে প্রথম মুনমুনের বিপরীতে অভিনয় করেন।

২০০১ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারী, স্বপ্নের বাসর, মায়ের জেহাদ, রাঙ্গা মাস্তান, হিংসার পতন, বন্ধু যখন শত্রু ছায়াছবিগুলো। এফআই মানিক পরিচালিত স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও শাবনূরের পাশাপাশি তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

২০০২ সালে মুক্তি পায় এফআই মানিক পরিচালিত ফুল নেবনা অশ্রু নেব, ও স্ত্রীর মর্যাদা, শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায়, জিল্লুর রহমানের নাচনেওয়ালী এবং বাদল খন্দকারের বিশ্ব বাটপার। স্ত্রীর মর্যাদা ছায়াছবিতে তিনি প্রথম মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন।

২০০৩ সালে অভিনয় করেন সাহসী মানুষ চাই, প্রাণের মানুষ, ক্ষমতার দাপট, ও সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে। এ বছর তার অভিনীত মহম্মদ হাননান পরিচালিত সাহসী মানুষ চাই চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়। ২০০৪ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো মধ্যে নয়ন ভরা জল, আজকের সমাজ, বস্তির রানী সুরিয়া, রুখে দাঁড়াও উল্লেখযোগ্য।

২০০৫ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত এমএ রহিম পরিচালিত সিটি টেরর। এ চলচ্চিত্রে তিনি আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মান্নার সাথে অভিনয় করেন। এছাড়া শাহীন-সুমন পরিচালিত বাঁধা চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও পূর্ণিমার সাথে অভিনয় করেন। এই সময় ছিলো অশ্লিল সিনেমার দাপট। আলেক জান্ডার বো, মেহেদী, ময়ূরী, মুনমুনরা চলচ্চিত্রের এই অন্ধকার সময়ের ধারক ছিলেন। শাকিব খানও তাতে গা ভাসাননি তা নয়। অশ্লীল যুগেও শাকিব খান সেই সময়কার দাপুটে নায়িকা মুনমুন,ময়ুরি দের সাথে কিছু অশ্লীল ছবিতে অভিনয় করেন। সেখানেও সফলও হয়েছিলেন।

চলচ্চিত্রে ১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে পাঁচ বছর মোটামুটি চলেছে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা। এরই মধ্যে সেই সময়ের চলচ্চিত্রের স্বনামধন্যদের সঙ্গে অভিনয় করে ফেলেন শাকিব। নায়ক রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, মান্না, রিয়াজ, আমিন খান, আলমগীর, বাপ্পারাজসহ আরো অনেকের সঙ্গে অভিনয় করেন। সেই সময়ে তার নায়িকার ভূমিকাতে দেখা গেছে মৌসুমী, পূর্ণিমা, পপি, মুনমুনের মতো নায়িকাদের।

২০০৬ সাল থেকে শাকিব খানের অভিনয় জীবনে নতুন বাঁক নেয়। এ বছর এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন সিনেমাটি শাকিবকে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা এনে দেয়। শাকিব-অপু জুটির প্রথম সিনেমা ছিল এটি। এরপর থেকে একের পর এক সিনেমায় জুটি হয়েছেন শাকিব-অপু। যার মধ্যে অধিকাংশ সিনেমায় ব্যবসা সফল।

এই বছর তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আরো ছিল—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সুভা অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ও নাম চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। একই বছর আরো মুক্তি পায় পিতার আসন, দাদিমা, চাচ্চু ও দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত মায়ের মর্যাদা।

২০০৭ সালে মা আমার স্বর্গ, আমার প্রাণের স্বামী, কাবিনামা, স্বামীর সংসার, ডাক্তার বাড়ি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৬ ও ২০০৭ শাকিবের টার্নিং হয় ভালোভাবেই। এ সময়ের নাম্বার ওয়ান হিরো ছিলেন চিত্রনায়ক মান্না। মান্নার সিনেমার পাশাপাশি শাকিবের সিনেমাও দেখতে শুরু করে দর্শক। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মান্না। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়।

মান্নার শূন্যস্থানে শাকিব তার অবস্থান তৈরি করে নেন ভালোভাবেই। এরপর থেকে বলা যায় একক রাজত্ব করে আসছেন শাকিব খান। ২০০৮ সালে তার অভিনীত সিনেমাগুলো হলো— তোমাকে বউ বানাবো, আমার জান আমার প্রাণ, সমাধি, ১ টাকার বউ, ভালোবাসার দুশমন, প্রিয়া আমার প্রিয়া, টিপ টিপ বৃষ্টি, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, আমাদের ছোট সাহেব, সন্তান আমার অহংকার, যদি বউ সাজো গো, মনে প্রাণে আছ তুমি।

২০০৯ সালে তিনি অভিনয় করেন আমার প্রাণের প্রিয়া, স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা, ভালোবাসা দিবি কি না বল, মন যেখানে হৃদয় সেখানে, বলো না কবুল, বিয়ের প্রস্তাব, জন্ম তোমার জন্য, প্রেম কয়েদী, সাহেব নামের গোলাম, ও সাথী রে চলচ্চিত্রে। ২০১০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত বলো না তুমি আমার, প্রেম মানে না বাধা, টপ হিরো, পরান যায় জ্বলিয়া রে, ভালোবাসলেই ঘর বাধা যায় না, টাকার চেয়ে প্রেম বড়, জীবন মরনের সাথী, প্রেমে পড়েছি, চেহারা : ভণ্ড-২, প্রেমিক পুরুষ, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা।

জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না চলচ্চিত্রে একজন স্বাধীনচেতা যুবক সূর্য চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন অপু বিশ্বাস ও রুমানা খান। এ ছাড়া ওই বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান, চাচ্চু আমার চাচ্চু ও নিঃশ্বাস আমার তুমি।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। শাহাদাৎ হোসেন লিটনের জীবন মরণের সাথী, পি এ কাজলের চাচ্চু আমার চাচ্চু এবং বদিউল আলম খোকনের নিঃশ্বাস আমার তুমি তিনটি চলচ্চিত্রেই তার বিপরীতে অভিনয় করে অপু বিশ্বাস এবং চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার অর্জন করে।

অনেক ঘাত­প্রতিঘাত পেরিয়ে ততোদিনে শাকিব খান প্রমাণ করেছেন তার অভিনীত সিনেমা মানেই ব্যবসায়িকভাবে সফল। ৩৫-৪০ লাখ টাকা সম্মানী হাঁকলেও নির্মাতারা নায়ক হিসেবে তাকেই চান। সেই ধারাবাহিকতায় ছুটে চলতে থাকে নাম্বার ওয়ান নায়কের ক্যারিয়ার। এক শ্রেণির দর্শকের মাথার মুকুট হয়ে যান শাকিব খান।

২০১১ সালে শাকিব খান অভিনীত কোটি টাকার প্রেম, মাটির ঠিকানা, কিং খান, মনের জ্বালা, আদরের জামাই, বস নাম্বার ওয়ান, টাইগার নাম্বার ওয়ান চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পায়। মালেক আফসারি পরিচালিত মনের জ্বালা চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস। এই ছায়াছবিতে তিনি প্রথম নেপথ্য শিল্পী হিসেবে ‘আমি চোখ তুলে তাকালেই সূর্য লুকায়’ গানে কণ্ঠ দেন।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কোটি টাকার প্রেম ও পরিচালক জুটি শাহীন-সুমন পরিচালিত টাইগার নাম্বার ওয়ান ছবিও ব্যবসা সফল হয়। মোহাম্মদ হোসেন জেমী পরিচালিত কিং খান চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস ও লামিয়া মিমো।

২০১২ সালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন করেন শাকিব। মিজু আহমেদকে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার সাথে সাধারণ সম্পাদক হন মিশা সওদাগর। পরের নির্বাচন হয় ২০১৫ সালে। সেবারও সভাপতি হন শাকিব। মিশা হেরে যান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সাধারণ সম্পাদক হন অমিত হাসান। টানা পাঁচ বছর শিল্পী সমিতির সভাপতি ছিলেন শাকিব।

তবে শিল্পী সমিতির চেয়ে তার মনোযোগ ছিল অভিনয়েই বেশী। শাকিব ২০১২ সালে অভিনয় করেন সে আমার মন কেড়েছে, বুক ফাটে তো মুখ ফুটেনা, এক টাকার দেনমোহর, মাই নেম ইজ সুলতান, ডন নাম্বার ওয়ান, খোদার পরে মা, ঢাকার কিং চলচ্চিত্রে।শাহীন-সুমন পরিচালিত খোদার পরে মা মুন্না চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন সাহারা এবং তার মায়ের ভূমিকায় ছিলেন ববিতা।

২০১৩ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ঢাকা টু বোম্বে, ফুল এন্ড ফাইনাল, জোর করে ভালবাসা হয় না, ভালবাসা আজকাল, নিষ্পাপ মুন্না, জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, দেবদাস, মাই নেম ইজ খান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী। এফআই মানিক পরিচালিত জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিলেন পূর্ণিমা। এছাড়াও এই ছায়াছবিতে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একসাথে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সোহেল রানা ও আলমগীর। ছায়াছবিটি ব্যবসা সফল হয়।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত মাই নেম ইজ খান চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিল অপু বিশ্বাস। সিনেমাটি ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে নির্মিত দেবদাস চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। শাকিব খানের বিপরীতে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস ও চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী।

চলচ্চিত্রটি একই পরিচালকের ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেবদাস চলচ্চিত্রের পুনঃনির্মাণ। পিএ কাজলের ‘ভালবাসা আজকাল’ ছবিতে তিনি প্রথম মাহিয়া মাহীর বিপরীতে অভিনয় করেন। সাফি উদ্দীন সাফি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ছায়াছবিতে তার সাথে অভিনয় করেন জয়া আহসান ও আরিফিন শুভ। এই ছায়াছবিতে তিনি দ্বিতীয়বার নেপথ্য শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দেন ‘ও প্রিয় আমি তোমার হতে চাই’ গানে। ছবিটিতে জয় শিকদার চরিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেন ২০১৪ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার।

শাকিব খান ২০১৪ সালে অভিনয় করেন রাজত্ব, ফাঁদ - দ্য ট্র্যাপ, সেরা নায়ক, ডেয়ারিং লাভার, কঠিন প্রতিশোধ, হিটম্যান, হিরো: দ্য সুপারস্টার ছায়াছবিতে। এস কে ফিল্মসের ব্যানারে হিরো: দ্য সুপারস্টার ছায়াছবিটি প্রযোজনা করেন শাকিব খান নিজেই।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার সাথে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস, ইয়ামিন হক ববি, ববিতা ও নূতন। ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবিটি ব্যবসা সফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি ২০১৫ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে পুরস্কৃত হন।

এছাড়া চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ প্রযোজিত এক কাপ চা ছায়াছবিতে একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৫ সালে তার অভিনীত এইতো প্রেম, আরো ভালবাসবো তোমায়, দুই পৃথিবী, লাভ ম্যারেজ, রাজা বাবু মুক্তি পায়। সোহেল আরমান পরিচালিত এইতো প্রেম তার অভিনীত প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। এতে তার বিপরীতে প্রথমবার অভিনয় করেন আফসানা আরা বিন্দু। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০১৬ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে মনোনীত হন।

এসএ হক অলিক পরিচালিত আরো ভালবাসবো তোমায়-এ তিনি প্রথম অভিনয় করেন পরীমনির বিপরীতে। ২০১৬ সালে উত্তম আকাশ পরিচালিত রাজা ৪২০ এবং সাফি উদ্দীন সাফি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ মুক্তি পায়। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনীর সিক্যুয়াল। দুই ক্রিকেটারের দ্বন্দ্ব নিয়ে নির্মিত এই ছায়াছবিতে তার সাথে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও মামনুন হাসান ইমন। এই বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারি, রানা পাগলা, সম্রাট।

যৌথ প্রযোজনার শিকারি পরিচালনা করেন বাংলাদেশি জাকির হোসেন সীমান্ত ও ভারতীয় জয়দেব মুখার্জি। এতে টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে প্রথম জুটি বেঁধে বেশ সুনাম অর্জন করেন।

শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত রানা পাগলা-এ তার বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সম্রাট পরিচালনা করেন মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এতে তার সাথে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস ও কলকাতার ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ঈদুল আযহায় মুক্তি পায় তার অভিনীত বসগিরি। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন নবাগত শবনম বুবলি।

সবকিছু ভালই চলছিলো। ২০১৬ সালের মার্চের দিকে গর্ভে সন্তান আব্রাহামকে নিয়ে আড়ালে থাকতে শুরু করেন অপু বিশ্বাস। সন্তানের খবর প্রকাশ পেলেও সন্তানের বাবার পরিচয় মেলে পরে। অপু নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক বছর পরে ফিরে আসেন। শাকিবের সঙ্গে তার বিয়ের খবর ফাঁস করেন। শাকিব খানও সব স্বীকার করে নেন। সন্তানকে মেনে নেন। আট বছরের শাকিব-অপুর বিবাহিত জীবন গোপন থেকে প্রকাশ্য হয়।

শাকিব খান ২০০৮ সালে ১৮ এপ্রিল অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে গোপন রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বিয়ে করার কথা অপু বিশ্বাস জানান। বিয়ের পর ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় আব্রাহাম খান জয়। পরে অবস্য তাদের সংসার আর টেকেনি।

বর্তমানে শাকিব খান সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। দেশীও চলচ্চিত্র যখন অনেক বেশী নির্ভর করছে শাকিবের উপর ঠিক তখন যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে ঝুঁকেছেন তিনি। অথচ এক সময় যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের বিপক্ষে কথা বলেছেন শাকিব নিজেও।

২০১৬ সালের ঈদে মুক্তি পায় শাকিব অভিনীত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘শিকারী’। কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্কটেসের সাথে তিন বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ২০১৭ ও ২০১৮ এই দুই বছর কলকাতার সিনেমা নিয়ে বেশি মনযোগী হয়েছেন। কিন্তু কলকাতার যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শাকিব কাজ করতেন তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। আবারও দেশমুখী হন এই নায়ক। চলছে ২০১৯ সাল। এবারের ঈদেও নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ছবি দর্শকদের উপহার দিতে যাচ্ছেন শাকিব। এসকে ফিল্মস থেকে আসছে ঈদে আসবে তার নতুন ছবি ‘পাসওয়ার্ড’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মালেক আফসারী। এ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে বুবলী অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন নায়ক ইমন।

 



আমার বার্তা/২৮ মে ২০১৯/রিফাত


আরো পড়ুন