শিরোনাম :

  • দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে ভাসানীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন ভাসানী : রাষ্ট্রপতি রাজধানীতে দরজা ভেঙে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার
আবেদন করলেই চাকরি!
২৪ জুন, ২০১৮ ১৭:২১:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


শরিফুল ইসলাম সুমন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরি খুঁজছিলেন। পত্রিকা আর বিভিন্ন জব সাইট থেকে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। কিন্তু চাকরি মিলছে না তার। ছয় মাসে তিনি অসংখ্য আবেদন করলেও চাকরির কোনো ইন্টারভিউর কার্ড আসে না।

একদিন বিকালে মালিবাগের বাসার বারান্দায় বসে আছেন সুমন। তার মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে। তিনি চেক করে দেখেন বাংলায় লেখা রয়েছে ‘অভিনন্দন’। চাকরির আবেদনের জবাব। আপনার ইমেইল চেক করুন। এমন এসএমএস দেখে সুমন অবাক।

ডেনমার্কে একটি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আগের দিনই অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এক দিনেই জবাব পাওয়া গেল! ভাবেন সুমন, বিদেশিদের প্রতিষ্ঠান। তারা খুব সিনসিয়ার। যে কারণে তাড়াতাড়ি জবাব দিয়েছে। সুমন এমন ভাবতে ভাবতে নিজেদের ফ্ল্যাটে যান। দ্রুত তার মেইল খোলেন। মেইল খুলে যেন আকাশ থেকে পড়েন। এত চাকরির অফার লেটার!

তাতে লেখা আছে, ‘ডেনমার্কের “লিডশা রিয়েল এস্টেট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী মার্চেন্ডাইজার পদে আপনি মনোনীত হয়েছেন। মাসিক বেতন ২০০০ মার্কিন ডলার।’ অফার লেটারে একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত বনানীর একটি মেডিকেল সেন্টারে যেতে বলা হয়। ঠিকানা অনুযায়ী সুমন তত্ক্ষণাৎ সেখানে যান। একটি বাড়ির দোতলায় মেডিকেল সেন্টার। যাওয়া মাত্র কয়েকজন দ্রুত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা বাবদ তারা ৪ হাজার ৯৪৫ টাকা নেন।

ওই দিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। তাতে সবকিছু ঠিকঠাক আছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনার জন্য ওই মেডিকেল সেন্টার থেকে বেরিয়ে সেই নম্বরে কল করেন সুমন। কিন্তু নম্বর বন্ধ। সুমন বাসায় ফিরে যান। ইমেইল চেক করেন। নাঃ সেখানেও কোনো জবাব নেই। সুমনের অফার লেটারে ডেনমার্কের এই কথিত কোম্পানির বাংলাদেশ এজেন্ট হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবে তারও কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পান না। সুমন বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। জানা গেছে, এ ধরনের প্রতারক চক্র রাজধানীসহ সারা দেশে সক্রিয়।

চাকরির সন্ধানদাতা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিদেশে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতছে প্রতারক চক্র। আবেদন করলেই ইমেইলে মিলছে ‘অফার লেটার’ বা প্রাথমিক নিয়োগপত্র। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতারক চক্র ইন্টারনেটে চাকরির সন্ধানদাতা বিভিন্ন সাইটে (জব সাইটে) বিদেশে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। অনলাইনে আবেদন করার পর চাকরিপ্রার্থীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে বলা হয়, তাকে চাকরির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এরপর ওই ব্যক্তির ইমেইলেও পাঠানো হয় ‘অফার লেটার’।

তাতে চাকরিস্থল, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা লিখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বলা হয়। এজন্য কয়েক ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে একটি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে একটি মেডিকেল সেন্টারের ঠিকানা দেওয়া হয়। এরপর সেখানে গেলে টাকা নিয়ে তাত্ক্ষণিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দ্রুত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চাকরির নিয়োগদাতা ইমেইল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং ওই ফোনও বন্ধ থাকে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার কয়েক দিন পর তারা বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন।

এতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খোয়া যায়। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ একটু সচেতন হলেই যে কোনো ধরনের প্রতারণা থেকে মুক্ত হতে পারে। সরকারের নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান কাউকে চাকরি দিয়ে বিদেশে পাঠাতে পারে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরির কথা বলে, তখনই ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নম্বর জানতে চাওয়া উচিত।

যদি মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কেউ এ রকম চাকরির অফার লেটার পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা; থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি অনুমোদনসহ বিভিন্ন বৈধতা যাচাই করতে হবে।

     আমার বার্তা/২৪জুন ২০১৮/জাকিয়া


আরো পড়ুন