শিরোনাম :

  • সন্ধ্যার মধ্যেই আঘাত হানবে ‘গুলাব’, সতর্কতা জারিকরোনা পরীক্ষায় শাহজালালে বসল পিসিআর ল্যাবট্রেনের ছাদে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫চার অপহরণকারীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখল তালেবান
শিয়ালের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব
২৮ আগস্ট, ২০২১ ১৬:১৮:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+


লোকালয়ের কাছাকাছি বসবাস করা শিয়ালের সঙ্গে অন্য প্রাণীদের মত মানুষের তেমন সখ্যতা নেই। অরণ্য কেটে লোকালয় বাড়ার কারণে ক্রমেই এদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে।

তবে প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়ে খেঁকশিয়ালের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন নওগাঁর বদলগাছীতে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে ডাকবাংলার সামনে সন্ধ্যার পর প্রতিদিন অপেক্ষায় করে ১৫ থেকে ২০টি খেঁকশিয়াল। পুরো বিহারজুড়ে প্রায় অর্ধশত খেঁকশিয়ালের বসবাস। মাটিতে গর্ত করে বসবাস করে থাকে এরা।

গত বছর মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনের কারণে শিয়ালগুলো অভুক্ত হয়ে পড়ে। খাবারের কারণে তাদের চিৎকারগুলো চরমভাবে ব্যথিত করে কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুকে। তখন থেকেই শিয়ালগুলোর জন্য প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা শুরু করেন। সন্ধ্যা নামলেই এখানে শিয়ালের দল গর্ত থেকে দল বেঁধে বেরিয়ে আসে।

জড়ো হয় পাহাড়পুরের ডাকবাংলোর সামনে। অপেক্ষা কখন আসবে খাবার দিতে ফজলুল করিম আরজু। কারণ প্রতিদিনই রাতে শিয়ালের জন্য খাবার নিয়ে হাজির হন তিনি। এভাবেই ধীরে ধীরে শিয়ালের সঙ্গে গড়ে উঠেছে সখ্যতা। হাতে অনেক পাউরুটি ও রান্না করা খাবার নিয়ে ডাকবাংলোর সামনে আসেন পাহাড়পুর বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু। সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালের ডাকাডাকি। ডাক শুনে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে সারি সারি শিয়ালগুলো। প্রায় প্রতিদিনের চিত্র এটি। মানুষের ভালোবাসায় এভাবেই তৈরি হয় প্রায় অসম্ভব এক সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। যেন চোখ জুড়ানো দেখার মতো এক দৃশ্য। খেঁকশিয়াল এখন খুব কমই দেখা যায়। প্রায় বিলুপ্তির দিকে এই প্রাণি।

প্রতিদিন শিয়ালগুলোর রান্না করা হয় ভাত ও খিচুড়ি। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে আসছেন বিহারের সাইট পরিচালক মো: সারোয়ার হোসেন ও কেয়ারটেকার মো: মাসুম হোসেনসহ বিহারের কর্মচারীরা।

সাইট পরিচালক সারোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গতবছর মার্চ থেকে লকডাউনের কারণে খাবার সংকটে পড়ে খেঁকশিয়ালগুলো। তখন সন্ধ্যা নামলেই খাবারের কারণে ডাকচিৎকার করতো। তখন কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু স্যার বললেন কি সমস্যা শিয়ালগুলোর এত ডাকচিৎকার করে কেন। তখন আমরা স্যারকে বললাম খাবারের জন্য মনে হয় তারা এমন করছে। তারপর স্যার বললেন এখন থেকে প্রতিদিন তাদের খাবার দেয়া হবে। চাল, ডাল, মাংসসহ যা খায় সেগুলোর ব্যবস্থা করো টাকা আমি দিবো। তারপর থেকেই প্রতিদিন খাবার স্যার নিজ হাতে তাদের খাবার দেয়। আমরা স্যারকে সহযোগিতা করে থাকি।

বিহারের কেয়ারটেকার মাসুম হোসেন  জানিয়েছেন, আমি প্রতিদিন শিয়ালগুলোর জন্য ভাত ও খিচুড়ি রান্না করি। তারপর স্যার তাদের খাবারের জন্য ডাক দিলেই কাছে চলে আসে। প্রথম দিকে একটু ভয় লাগছিল যদি কামড় দেয় বা আক্রমণ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। ডাকলেই খুব কাছে চলে আসে খাবারের জন্য।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহাররের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন, শিয়ালগুলোকে সচরাচর লোকালয়ে জনসম্মুখে দেখা যায় না। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে দীর্ঘদিন পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘর বন্ধ ছিল। যার কারণে দর্শনার্থীদের আগমন ছিল না।

অন্যদিকে লকডাউনের কারণে বাহিরের খাবারও তারা ঠিকমত পায়নি। ফলে চরম খাবার সংকটে পড়েছিল খেকশিয়ালগুলো। ক্ষুধার্ত শিয়ালগুলোর জন্য আলাদা করে চাল কিনে রান্না করা ভাত, খিচুড়ি, পাউরুটিসহ নানা রকমের খাবার খেতে দেয়া হয় প্রতিদিন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের খাবারের জন্য সরকারি কোনো বাজেট নেই। আমার ব্যক্তিগত অর্থ থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকি। এছাড়া বদলগাছী উপজেলার ইউএনও , এলিল্যান্ড এবং জয়পুরহাটে থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিমও কিছু খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তবে আমি যতদিন এখানে দায়িত্ব পালন করবো তাদের খাবারের কোন সংকট হবে না। আমি চলে যাবার পর নতুন করে যিনি দায়িত্বে আসবেন এখানে তাকেও অনুরোধ করে যাবে যাতে এই প্রাণিগুলোর প্রতি খেয়াল রাখেন। সকল প্রাণিকূলের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাদের প্রতি এমন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করতে পেরে আমি নিজেও খুব আনন্দিত ও প্রশান্তি অনুভব করছি।

সূত্র: আরটিভি

আমার বার্তা/ এইচ এইচ এন


আরো পড়ুন