শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
বাল্যবিবাহের অবসান হোক
২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৪৯:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+

জেসমিন আক্তার 


বাল্যবিবাহ কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয় বরং,বাল্যবিবাহ হলো একটা শিশুর সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাল্যবিবাহের জন্য একজন শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না, নিজের মতো সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে না। যুগে যুগে সামাজিক কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হলেও এটি বন্ধ হয়নি। বাল্যবিবাহ দু-চার দিন আলোচনা করে থেমে যাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি এমন এক সমস্যা যে ক্ষেত্রে শুধু আইন প্রণয়ন করে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আইন প্রয়োগে কঠোর নজরদারি করা। তুলনামূলকভাবে গ্রামে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্যনীয়। বাল্যবিবাহ রোধে স্থায়ী সমাধান বের করা আজও সম্ভব হয়নি। কেননা বাল্যবিবাহের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-দরিদ্র্যতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন,ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা বিভিন্ন কারণেই বাল্যবিবাহের প্রচলন  অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। লক্ষ্য করলে এখনও দেখা যায় উন্নয়নশীল দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত, বাল্যবিবাহের হার সবচাইতে বেশি, যা প্রায় ৬০% এর উপরে। ২০০৩-২০০৯ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর উপরে। ২০০৯ সালে ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের দেশে ৫১ শতাংশ শিশুর বাল্যবিবাহ হচ্ছে। এই কোভিডের সময় এটা আরও বেড়েছে। গত এক বছরের  তথ্য অনুযায়ী ৪৮৬টি শিশুর বাল্যবিবাহ হয়েছে। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ১৫৯। সে হিসাবে কোভিডের সময় বাল্যবিবাহ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্য, যৌন হয়রানি,নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। তবে আমি মনে করি, এসবই একমাত্র কারণ নয়।বাল্যবিবাহ আমাদের একটা সংস্কৃতিতেও পরিণত হয়েছে বলে আমি মনে করি। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে সম্পর্কে ধারণা অর্জনের আগেই পারিবারিক চাপের কাছে পরাজিত হচ্ছে। নিজে কী হারাচ্ছে, পরিবার কী বলি দিচ্ছে কিংবা ঝরে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের থেকে কী পেতে পারত, তার হিসাব অসমাপ্তই থেকে যায়। নানা ক্ষতিকর দিক থাকার পরও বাল্যবিবাহের চর্চা আজও সমাজ থেকে দূর হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে মা-বাবা সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে থাকেন। এর সমাধান খুঁজে নেন বাল্যবিবাহের মাধ্যমে। বাল্যবিবাহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সুখের হয় না। অপরিণত বয়সে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া মায়ের কিংবা নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। একই সঙ্গে বাল্যবিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যাও কম নয়। কিছু ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের পর ছেলে-মেয়ে ও তাদের পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হয়। কখনো এর প্রভাব আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। মানবসৃষ্ট এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ সচেতন মানুষের খুঁজে বের করা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। পরিশেষে এটাই বলতে চাই, যেকোনো উপায়ে বাল্যবিবাহ রোধ করা দরকার। সরকারি পদক্ষেপ ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে বাল্যবিবাহ রোধ কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো প্রয়োজন। সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাল্যবিবাহের অবসান হবে।


লেখক : শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বি.বি.এ (সম্মান)তৃতীয় বর্ষ


জয়নাল হাজারী কলেজ, ফেনী


ইনসার্ট


যেকোনো উপায়ে বাল্যবিবাহ রোধ করা দরকার। সরকারি পদক্ষেপ ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে বাল্যবিবাহ রোধ কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো প্রয়োজন। সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাল্যবিবাহের অবসান হবে

আরো পড়ুন