শিরোনাম :

  • করোনা আক্রান্ত দুজনসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী'র মৃত্যু দেশের অর্ধেক অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে আজ ব্রাজিলে করোনায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু চেক প্রজাতন্ত্রে ‘করোনা ফেয়ারওয়েল পার্টি’
ঘর খুঁজতে ৩৭ হাজার কিলোমিটার পাড়ি!
আমার বার্তা ডেস্ক :
১৫ মার্চ, ২০২০ ১১:৪৯:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+


ইয়োশি এখন পরিবেশপ্রেমী নেটিজেনদের কাছে আলোচনা ও প্রশংসার পাত্রী। ইয়োশি ১৮০ কেজির ওজনের একটি স্ত্রী কচ্ছপ। সম্প্রতি ডিম পাড়ার জন্য সে আফ্রিকা থেকে প্রায় ৩৭ হাজার কিলোমিটার সমুদ্র পথ সাঁতরে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেছে।

ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের কর্মী পারভিন কাসওয়ান বুধবার একটি টুইট করেন। সেখানে তিনি ইয়োশির কাহিনি বলেছেন। ইয়োশি একটি লগারহেড (বড় মাথার) কচ্ছপ।

পারভিন জানিয়েছেন, ‘বাসার খোঁজে (ডিম পাড়তে) ইয়োশি আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত পাড়ি দেয়’। সেই সঙ্গে পারভিন লিখেছেন, ‘এদের বাসা বাঁধার জায়গা সংরক্ষণ করা দরকার’।

একটি কচ্ছপ সমুদ্রে সাঁতরে এত দূর গেল, সেটা জানা গেল কী করে এক ইউজার পারভিনের পোস্টে কমেন্ট করেন। তার উত্তরে পারভিন জানিয়েছেন, ২০ বছর আগে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইয়োশিকে। তার পর তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যোদ্ধারের কাজ চলে। সুস্থ হলে তাকে ফের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগে ইয়োশির শরীরের একটি জিও ট্র্যাকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। তা থেকেই ইয়োশির গতিবিধির রেকর্ড পাওয়া হিয়েছে।

পারভিনের পোস্ট করা দু’টি ছবির মধ্যে একটিতে দেখা যাচ্ছে, জিও ট্র্যাকারের ধরা পড়া ইয়োশির গতিপথ। তাতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্রতট থেকে উত্তরের দিকে নামিবিয়ার তট হয়ে অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত গিয়েছিল ইয়োশি। কিন্তু সম্ভবত সেখানেও তার বাসা বাঁধার জায়গা খুঁজে পায়নি। ফের তাকে প্রায় সেই পথেই ফিরতে হয়েছে। শেষে ফের একবার দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ছুঁয়ে অস্ট্রেলিয়ার দিকে পাড়ি দিতে হয় ইয়োশিকে।

কচ্ছপরা সাধারণত একবার যেখানে ডিম পাড়ে, বার বার সেখানেই ফিরে যায় ডিম পাড়তে। সে জন্যই দক্ষিণ আফ্রিকা উত্তরে নামিবিয়া হয়ে অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত ইয়োশি গিয়েছিল কিনা তা পরিষ্কার নয় পারভিনের পোস্ট থেকে। আবার আফ্রিকা থেকে তাকে অস্ট্রেলিয়া কেন পাড়ি দিতে হল, তা-ও উল্লেখ করেননি তিনি। তবে কমেন্টে পারভিন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

সেখানে লিখেছেন, গত বছর মালদ্বীপের মাফারু বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি কচ্ছপকে ডিম পাড়তে দেখা যায়, তার ছবিও পোস্ট করেছেন পারভিন। পারভিন লিখেছেন, এর আগে ওই জায়গায়তেই ডিম পেড়ে গিয়েছিল এই সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপটি। কিন্তু পরে সেখানে রানওয়ে তৈরি হয়েছে। ফলে কচ্ছপটি বুঝতে না পেরে তার পুরনো জায়গাতেই ডিম পাড়তে চলে আসে। প্রাকৃতিক বাসার বদলে মানুষের তৈরি কংক্রিটের রানওয়ের উপরেই পড়ে থাকে তার ডিমগুলো।

পারভিনের পোস্টে তার এই মতকে সমর্থন করে প্রচুর মন্তব্য করা হয়েছে। সেখানে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে, বিশেষ করে প্লাস্টিক দূষণের ফলে কীভাবে বন্যপ্রাণ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, তা উল্লেখ করেছেন নেটিজেনরা। প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করে এই প্রাণীদের বাঁচতে দেওয়ার আবেদন করেছেন অনেকেই। আর ইয়োশির এই 'অ্যাডভেঞ্চার'-কে প্রশংসা করে পোস্ট চলেছে সমানেই। সূত্র: আনন্দবাজার।



আমার বার্তা/১৫ মার্চ ২০২০/জহির


আরো পড়ুন