শিরোনাম :

  • জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য বিষয়ক কমিশনের সদস্য হলো বাংলাদেশখালেদা জিয়ার সঙ্গে বাবুনগরীর কোনোদিন দেখা হয়নি : হেফাজত চট্টগ্রামে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৮৭মধ্যরাতে হেফাজতের সহকারী মহাসচিব আতাউল্লাহ গ্রেফতারহেফাজত নেতাদের মুক্তি দাবি মান্নার
যেভাবে সুয়েজ খাল থেকে দানবাকৃতির সেই জাহাজ মুক্তি পেল
৩১ মার্চ, ২০২১ ১১:২৫:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+

দীর্ঘ এক সপ্তাহের বেশি সময় সুয়েজ খালে আটকে থাকার পর দুই লাখ টন ওজনের কন্টেইনারবাহী জাহাজ এভার গিভেনকে শেষ পর্যন্ত মুক্ত করা হয়েছে। জাহাজটি এখন তার গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথে এভার গিভেন বেশ কয়েক দিন যাবত আড়াআড়িভাবে আটকে ছিল। এর ফলে অন্যান্য জাহাজকে ভিন্ন পথ ব্যবহার করতে হয়। চলুন দেখে আসা যাক কিভাবে ডিগার, ড্রেজার আর টাগবোট ব্যবহার করে জাহাজটিকে মুক্ত করা হলো।


গত ২১ মার্চ মিসরের মরুভূমিতে যে ঝড় হয়েছিল সেই ঝড়ের প্রবল বাতাস আর খালের পানিতে জোয়ারের চাপে ৪০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি তার যাত্রাপথ থেকে সরে যায়। ঘুরে গিয়ে এটি আড়াআড়িভাবে খালের পথ আটকে ফেলে।


প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০টি জাহাজ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথটি ব্যবহার করে। কিন্তু এই ঘটনার পর সুয়েজ খালের দুই মুখে তৈরি হয় বিশাল যানজট।


রবিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০টি মালবাহী জাহাজ ১২০ মাইল লম্বা এই খালের দুই দিকে সাগরে এবং পার্শ্ববর্তী পোর্ট সাঈদে আটকা পড়েছিল। অনেক জাহাজ ঘুরপথে চলে যেতে বাধ্য হয়।


খালটি এখন চালু হলেও এই জট ছাড়তে আরও চার দিন সময় লেগে যাবে বলে জানিয়েছেন মিশরের কর্মকর্তারা।


খালটির তদারকি করে সুয়েজ ক্যানেল অথরিটি। এভার গিভেনকে মুক্ত করতে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রথমে ব্যবহার করেন টাগ-বোট। জাহাজ থেকে মোটা মোটা রশি ফেলে টাগ-বোট দিয়ে টেনে জাহাজটির মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়।


টাগ-বোটগুলো যখন দানবাকৃতির এই জাহাজটিকে ঠেলে সরাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল তখন আনা হয় মাটি খোঁড়ার ডিগার ও ড্রেজার। ডিগার দিয়ে জাহাজের যে অংশটি তীরে ঠেকে গিয়েছিল সেই জায়গার মাটি কেটে ফেলা হয়। আর ড্রেজার দিয়ে জাহাজের তলা এবং আশেপাশের কাদা ও বালি সরিয়ে ফেলা হয়।


ম্যারিটাইম বিশেষজ্ঞ স্যাল মার্কোগ্লিয়ানো বলছেন, এই ধরনের ড্রেজার সুয়েজ খালে হরদম ব্যবহার করা হয়। এদের কাজ খালের নাব্যতা বজায় রাখা। তিনি বলেন, ড্রেজারগুলো থেকে লম্বা পাইপগুলো পানির তলায় গিয়ে মূলত কাদা আর বালি তুলে বাইরে ফেলে দেয়।


মিশরের অর্থনীতি সুয়েজ খালের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। করোনা মহামারির আগে দেশটির জিডিপির প্রায় দুই শতাংশ আসতো সুয়েজ খাল থেকে পাওয়া মাশুল থেকে।


সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাল বন্ধ থাকায় তাদের প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার লোকসান হয়েছে। অন্য দিকে লয়েডস লিস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শত শত মালভর্তি জাহাজ আটকে থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৬০ কোটি ডলারের ব্যবসা বন্ধ ছিল।


টাগ-বোট আর ড্রেজার ব্যবহার করেই শেষ পর্যন্ত এভার গিভেনকে মুক্ত করা হয়। এটা ব্যর্থ হলে তৃতীয় একটি উপায়ও বিবেচনার মধ্যে ছিল। তা হলো সব মালামাল ও জ্বালানি তেল সরিয়ে ফেলে জাহাজটিকে হালকা করে ফেলা।


সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আটকে পড়া জাহাজটিকে সরিয়ে নেওয়া পর খাল দিয়ে শতাধিক জাহাজ চলাচল করেছে।

আরো পড়ুন