শিরোনাম :

  • এসএসসির ফল প্রকাশ আজ ‘ঐতিহাসিক’ যাত্রায় মহাকাশের পথে স্পেসএক্স-নাসার রকেট করোনার ‘নতুন কেন্দ্র’ লাতিন আমেরিকায় মৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়াল আক্রান্ত সন্দেহে মাকে বাড়িতে ঢুকতে দিল না ছেলে
বাজার করার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন
আমার বার্তা ডেস্ক :
১২ এপ্রিল, ২০২০ ১১:৩২:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+


এটা তো সবাই জানি যে বাড়ি থেকে বের না হওয়াই ভালো। কিন্তু খাবার? কিনে রাখা খাবার জিনিসপত্রে টান পড়লে বাইরে বের হতেই হবে। বাজারটা যে না করলেই নয়। এরপর আছে জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ কেনার বিষয়টিও। তবে এমনভাবে বাজার করুন যেন অন্তত চার-পাঁচদিন আর ঘরের বাইরে বের হতে না হয়। কোন সময়ে বাজারে গেলে ভিড় তুলনামূলক কম হবে, তা খেয়াল করে যান। এবং অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।

বাজার করতে যে দিন যাবেন বলে ঠিক করেছেন, তার আগের দিন রাতেই বাড়িতে সবজি, মশলাসহ প্রয়োজনীয় জিনিস কতটা আছে তা দেখে নিন। বুঝে নিন কোনটা একেবারেই ফুরিয়ে গিয়েছে আর কোনটা এক-দু’দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। আর কোনটা আনাই হয়নি এর আগে।

কাঁচা বাজার আর দোকান থেকে জিনিসপত্র আনার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে দু’টি ফর্দ তৈরি করে নিন। কোন কাঁচাবাজার কী পরিমাণে আনা দরকার, মাছ, মাংস কত দিনের জন্য কতটা পরিমাণে আনা উচিত, সেসব জেনে-বুঝে নেয়ার জন্য বাড়ির লোকজনের পরামর্শ নেয়াই সবচেয়ে ভালো।

মাথায় রাখবেন, বাজার ও দোকানে আবার যাবেন চার কি পাঁচ দিন পর। তাই এমন ভাবে ফর্দ বানাবেন, যাতে আগামী চার-পাঁচ দিনের বাজার আর দোকান থেকে আনার জিনিসপত্র ঘরে মজুত করে রাখতে পারেন। বাজার, দোকানে গিয়েসেই ফর্দ মিলিয়ে জিনিসপত্র কিনে নিন।

এতে আপনি দু’ভাবে উপকৃত হবেন। এক, যেকোনো জিনিসই বাজার ও দোকান থেকে একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে কিনছেন বলে দামও কিছুটা কম হচ্ছে। দুই, বাজার ও দোকানে কম যাওয়ার জন্য কমে যাচ্ছে আপনার সংক্রমণের আশঙ্কাও।

শাকসবজি, ফলমূল কিনতে খুব ভোরে বা একটু বেলার দিকে বাজারে যেতে পারেন। তাতে ভিড়টা এড়াতে পারবেন। তবে মাছ, মাংসের জন্য সকালের দিকেই বাজারে যাওয়া উচিত। বেলা বাড়লে মাছ, মাংসের কাঙ্ক্ষিত গুণমান না-ও থাকতে পারে। দোকানে একটু সকালের দিকে যান। তাতে ভিড়টা এড়াতে পারবেন। কারণ, সকালে বাজারে যাওয়ার পর চাল, ডাল, মশলাপাতির জন্য একটু বেলার দিকে দোকানে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের। তাই খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দোকানে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

বাজার বা দোকানে যেতে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় মাস্ক পরে নেওয়াটা একেবারে বাধ্যতামূলক। বাজার বা দোকানে জিনিসপত্র কিনবেন লাইনে দাঁড়িয়ে। দেখে নেবেন সেই লাইনে আপনার আগে ও পরে যারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তারা মাস্ক পরে আছেন কি না। তারা অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখছেন কি না। না থাকলে তাদের মাস্ক পরে ফেলতে বলুন। অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বলুন।

বাজার, দোকানে যাদের কাছ থেকে জিনিসপত্র কিনছেন, দেখে নিন, তারাও মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে আছেন কি না। বিক্রেতাদের থেকেও অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

বাজার, দোকান থেকে ফিরে দু’টি হাত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজারে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেয়ার পর কাঁচাবাজার, শাকসবজিও খুব ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। গরম পানিহলে আরও ভালো।

খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে মাছের থলে। মাছের বাজারে গিয়ে যদি হাত, পা, গায়ে রক্তের ছিটে লাগে, তা হলে বাড়িতে ফিরে খুব ভালোভাবে গোসল করে নেয়া উচিত।

ওষুধের দোকানে গেলেও বাড়ির কার কোন ধরনের ওষুধ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লাগবে, জেনে নিন। একটা ফর্দ করে নিন। এছাড়াও মাথাব্যথা, পেটের অসুখ, জ্বর, সর্দি, কাশি, বমি, হজমের সমস্যার কিছু ওষুধ বাড়িতে আগেভাগে মজুত করে রাখা ভালো।

ডায়াবেটিস, অন্যান্য জটিল রোগ বা নানা ধরনের হার্টের অসুখে যারা ভোগেন, তাদের জন্য অনেক দিনের ওষুধ মজুত করে রাখা দরকার। কারণ, তাদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন। কোনো কারণে দোকানে গিয়ে সেই ওষুধ যদি কখনো না পান, তাহলে সেসব রোগীর খুব অসুবিধা হবে।



আমার বার্তা/১২ এপ্রিল ২০২০/জহির


আরো পড়ুন