শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
করোনায় গরম পানির ভাপ ও গার্গল
২৪ জুলাই, ২০২১ ২০:৩২:১৯
প্রিন্টঅ-অ+


করোনায় সংক্রমিত হলে, কেউ বলছেন গরম পানির ভাপ নিতে। কেউ বা নুন জলে গার্গল করতে বলছেন। আবার কেউ বলছেন কুলকুচি করা সেই পানি কোথাও ফেললে তার থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে ঘরে। ফলে এসব না করাই ভাল। এমনকি, এক পাত্রের জলে ভাপ নিলেও একজনের থেকে আর একজনের শরীরে ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ। কিন্তু এত আলোচনা কীসের জন্য? ভাপ নিলে আর গার্গল করলে কি আদৌ করোনা সেরে যায়?

সব বিষয়ে বির্তকের আগে জেনে নেওয়া দরকার, গার্গল করলে যে সেরে যাবে করোনা, এখনও পর্যন্ত এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকেদের বক্তব্য, গলা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে শরীরে প্রবেশ করে করোনা ভাইরাস। রক্তে মিশে যাওয়ার আগে গরম পানির ভাপ খানিকটা সাহায্য করতে পারে গলাতেই তা নষ্ট করে দিতে। ভারতের চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলছেন, করোনায় সংক্রমিত মানুষের শরীর দুর্বল থাকে। এ সময়ে শুধু করোনাভাইরাস নয়, অন্যান্য ব্যাক্টিরিয়া-ভাইরাসও অনেক সময়ে সুযোগ বুঝে শরীরে ঢোকার চেষ্টা করে। গরম পানির ভাপ নিলে এবং গার্গল করলে সে সব থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া যায়। ফলে করোনায় অনেকটাই কাজ দেয় গরম পানির ভাপ আর গাগর্ল।

তবে সব সময়ে যে এই এ কাজ করবে, এমনও নয়। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের বক্তব্য, সকাল আর বিকেলে হয়তো গার্গল করলেন। সকালে গার্গল করার পরেই যদি জীবাণু ঢোকে, তা বিকেল পর্যন্ত গলায় অপেক্ষা না-ও করতে পারে। তার আগেই হয়তো শরীরে মিশে গিয়েছে ভাইরাস। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ভাপ নিয়ে আর গার্গল করেও হয়তো আর আটকানো যাবে না সংক্রমণ।

তবে শুধু ভাইরাসমুক্ত হওয়ার আশায় গরম পানির ভাপ নিতে বা গার্গল করতে বলা হচ্ছে না। সুবর্ণবাবু বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে গলায় যদি প্রদাহ সৃষ্টি হয়, তবে তা অনেক কমে যায় গরম পানির তাপে। অরুণাংশুবাবুও এ বিষয়ে একমত। তাঁর বক্তব্য বারবার গার্গল করলে এবং ভাপ নিলে আরাম পাবেন রোগী।

কিন্তু গার্গল করলে যদি অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ায়, তবে কি তা করা উচিত? চিকিৎসকদের বক্তব্য, সংক্রমিত ব্যক্তি নানা ভাবেই ভাইরাস ছড়াতে পারেন। তাঁর কাছে যাওয়া ঠিক নয়। ফলে গার্গল করলে আলাদা ভাবে তা আতঙ্কের হবে না। অর্থাৎ, গার্গল করে বা ভাপ নিয়ে শরীর ভাইরাসমুক্ত হয়ে যাওয়ার প্রমাণ না থাকলেও, তা করা জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। কারণ, তা ভাল থাকতে সাহায্য করবে রোগীকে। আর তা ঘিরে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ এখনই দেখা যাচ্ছে না।



 


আরো পড়ুন