শিরোনাম :

  • একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ বছিলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ নভেম্বর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত পাক-ভারতের গোলাগুলি, নিহত ৪
পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’র প্রস্তাব বাতিলে হতাশ বিশিষ্টজনরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
০৪ জুলাই, ২০১৯ ১০:৫৪:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


ভারতের ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশের নাম বদলে ‘বাংলা’ রাখার প্রস্তাব আবারও নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের নামের প্রথম অংশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নাম মিলে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়। রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন করছে না বলে জানান এই মন্ত্রী। সংসদে এই তথ্য জানার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম বদলের এ প্রস্তাব আবারো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর আভাস দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ভারতের বিশিষ্টজনরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, এতে আমি খুব হতাশ হয়েছি। হতাশা এ কারণে আমাদের ‘বাংলা’ নামটাই অরিজিনাল নাম ছিল। দেশভাগের পর তা হয় পশ্চিমবঙ্গ। হয়তো তখনও নামের পরিবর্তনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। আমি আশা করেছিলাম, এবারের এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কেন্দ্র হয়তো আনুকূল্যের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এ প্রস্তাব কেন্দ্র থেকে খারিজ করে দেয়ার হয়তো বিশেষ কিছু কারণ আছে। যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বাংলা’ নামের সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের নাম বঙ্গদেশ হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যারা দেশ বিভাজনের আগে বাংলায় জন্মেছি, তাদের সেন্টিমেন্ট অনেকটাই জড়িয়ে আছে এ নামের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে ‘বাংলা’র বদলে ‘বঙ্গদেশ’ হলে হয়তো কেন্দ্র তা গ্রহণ করতেও পারে।

অভিনেতা কৌশিক সেন বলেন, খবরটা আমি খুব ভালো করে জানি না। জানলে হয়তো বলতে পারব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিক কী যুক্তি, এই প্রস্তাব খারিজ করা নিয়ে, তা আগে জানা প্রয়োজন। এখানে কোনও পক্ষের ব্যাপার নেই, দুই পক্ষের যুক্তি জানতে হবে। বাংলা নামটা কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার চেয়েছিল, সেই যুক্তি আমার কাছে পরিষ্কার। যারা এটাকে খারিজ করল, তাদের যুক্তিও জানা প্রয়োজন। আমি সত্যিটা না জেনে কোনও সঠিক মন্তব্য করতে পারব না।

নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের দেশ অনেকগুলো প্রদেশের সমাহার। সুতরাং এর কেন্দ্রে যারা আছেন, তাদের খেয়াল রাখা উচিত যে, যতগুলো প্রদেশ আছে এই মহাদেশের মধ্যে, তাদের নিজস্ব কতগুলো স্বাতন্ত্র আছে। প্রদেশগুলোর নিজস্বতা ও সক্রিয়তা আছে, তাদের খাদ্য, সংস্কৃতি ও স্বপ্ন দেখাতেও। বাংলার মানুষ যদি ‘বাংলা’ নামটা চায় কেন্দ্রের কাছে, কেন্দ্রের তো এখানে বলার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু এটা ঠিক করছেন না। শাসকের জায়গায় বসে থাকলে যদি জায়গাটা ভেতর থেকে নড়বড়ে হয়, তখন শাসককে সোচ্চার হয়ে বলতে হয়, আমি কিন্তু শাসক, আমি না বলতে পারি। কেন্দ্র এখন ঠিক তাই করছে। বাঙালিরা যদি নন কো-অপারেট মুভমেন্ট করেন, যদি তারা সব জায়গায় বলতে শুরু করেন, বাংলায় থাকি-বাংলায় বলি-বাংলায় স্বপ্ন দেখি। এমনকি যদি তারা পোস্ট কার্ড এবং সব জায়গাতে বাংলা লিখতে শুরু করেন, তাহলেই হয়তো এ সমস্যার সমাধান হবে।

বাচিক শিল্পী জগন্নাথ বসু বলেন, আমার মতে এসব নিয়ে বেশি না ভেবে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে হিংসা-বিদ্বেষ চলছে, সেটা বন্ধ করা জরুরি। নাম পরিবর্তন হবে, সেটা আজ না হয় কাল। তবে রাজনৈতিক যে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে, তা বন্ধ করা জরুরি। এই রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হলে, নাম একদিন ঠিক পরিবর্তন হবেই। তবে আমি এই নাম পরিবর্তন নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। যে রাজনৈতিক বিদ্বেষ চলছে, তা বন্ধ করা খুবই জরুরি।

অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। এ বিষয়ে সেরকম কিছু জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই।

উল্লেখ্য, বাম আমলেই শুরু হয়েছিল রাজ্যের নাম বদলের উদ্যোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষমতায় আসার পর চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলাতে। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়াতে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে রাজ্য মন্ত্রিসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম বদলে ফেলার প্রস্তাব পাস করিয়ে নেন তিনি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বিধানসভা থেকে রাজ্যের নাম পাল্টে বাংলা করার প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছিল।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের ডাক পড়ে একদম শেষে। কারণ ইংরেজি বর্ণমালা অনুযায়ী, রাজ্যগুলোর নাম ধরে ধরে বলার সুযোগ দেয়া হয়। এ রাজ্যের ইংরেজি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’। শুরু ডব্লিউ অক্ষর দিয়ে। ফলে প্রথম দিকের বক্তারা বেশি সময় নিয়ে ফেলায় শেষের বক্তাদের নির্ধারিত সময় কমে যায়। তাছাড়া শেষ দিকে অনেকটা শিথিলও হয়ে আসে সভার মনোভাব।



আমার বার্তা/ ৪ জুলাই ২০১৯/রিফাত



 


আরো পড়ুন