শিরোনাম :

  • ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস আজ কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নাইজারে সেনা ক্যাম্পে হামলায় নিহত ৭১
‘ধর্ষণ ও খুনে দোষী হলে আমার ছেলেকেও পুড়িয়ে মারুন’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
০২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৫:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


ভারতের তেলেঙ্গানা প্রদেশের হায়দরাবাদের চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ধর্ষকের মা বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে ছেলে জড়িত থাকলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। হায়দরাবাদে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিকে, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্র শেখর রাও বলেছেন, দ্রুত বিচার আদালতে ওই মামলার বিচার হবে।

হায়দরাবাদের ঘটনায় নিহত তরুণীর মা আগেই হত্যাকারীদের পুড়িয়ে মারা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে এক অভিযুক্তের মাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। নিহত তরুণীও তো কারও মেয়ে। এখন আমি কষ্ট পাচ্ছি। বুঝতে পারছি, ওই তরুণীর মা কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।’

অন্য এক অভিযুক্ত চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলুর মা বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে উপযুক্ত শাস্তি দিন। আমারও মেয়ে আছে।’ আর এক অভিযুক্ত জল্লু শিবার মা বলেন, ‘যা করা প্রয়োজন বলে মনে হয়, তা-ই করুন। ঈশ্বর জানেন কী হবে।’

হায়দরাবাদের পুলিশ বলছে, চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে দু’জন পেশায় ট্রাকচালক। বাকি দু’জন খালাসি।

চেন্নাকেশভুলুর মা জানিয়েছেন, তার ছেলে অসুস্থ। তাই ছয় মাস ধরে সে কাজ করছে না। এদিকে, এ ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার হায়দরাবাদের শামশাবাদে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ধর্ষকদের রিমান্ডে দেয়া জবানবন্দির একটি কপি হাতে পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে হায়দরাবাদের একটি টোল বুথের কাছে যে চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে ধর্ষকদের জবানবন্দিতে। অভিযুক্ত ধর্ষকদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৬ এর মধ্যে। তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ডে দেয়া চার ধর্ষকের জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই টোল বুথের কাছে পৌঁছানোর পর এক চর্ম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করার জন্য সেখানে নিজের স্কুটারটি রেখে যান তিনি। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নিজের স্কুটার রেখে ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। সেখান থেকে রাত সোয়া ৯টার দিকে ফেরার পর দেখতে পান স্কুটারটির চাকা পাংচার।

এ সময় মোহাম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু নামের চার ট্রাক চালক ও চালকের সহকারী মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণীর ওপর হামলে পড়েন।

সোয়া ৯টার দিকে ফেরার পর ওই তরুণীকে সাহায্য করার ভান করেন তারা। পরে তাদের মধ্যে থেকে তিনজন ওই তরুণীকে জোরপূর্বক টোল বুথের পাশের একটি ঝোপ-ঝাড়ে নিয়ে যান। ওই নারী সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করলে তার মুখে হুইস্কি ঢেলে থামানোর চেষ্টা করে তারা। তারা ওই নারীকে নগ্ন করে সংজ্ঞা হারিয়ে না ফেলা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। চেতনা ফিরে আসায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ধর্ষকরা।

পরে তার মরদেহ একটি কম্বলে মুড়িয়ে পাশের সেতুর নিচে ফেলে দেয়। সেখানে ডিজেল ও পেট্রল ঢেলে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা।



আমার বার্তা/০২ ডিসেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন