শিরোনাম :

  • আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী কারওয়ান বাজারের কলার আড়তের আগুন নিয়ন্ত্রণে করোনা মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২৩ কোটি টাকার বরাদ্দ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রেকর্ড, একদিনে প্রাণ গেল ১২২৪ জনের
নির্ভয়া ধর্ষণ : আবারও পিছিয়ে গেল ৪ আসামির ফাঁসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
০৩ মার্চ, ২০২০ ১৪:৩৩:৪১
প্রিন্টঅ-অ+


ভারতের বহুল আলোচিত মেডিকেল শিক্ষার্থী নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত চার আসামির ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে। আজ ভোর ৬টায় তাদের ফাঁসি কার্যকরের পরোয়ানা ছিল।

শেষ মুহূর্তে এক আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করায় সোমবার দিন শেষে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট ফাঁসি স্থগিত করে দেন। এ নিয়ে পরপর তিনবার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও ফাঁসি পেছাল।

এদিন আদালতের বিচারক বলেন, ‘আমার মতে, প্রাণভিক্ষার আর্জির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা যায় না। ৩ মার্চ সকাল ৬টায় নির্ধারিত মৃত্যু পরোয়ানা চারজনের জন্যই পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হলো।’

এই রায়ের পর নির্ভয়ার মা আশাদেবী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি সাত বছর ধরে লড়াই করছি। কিন্তু সরকার, সুপ্রিম কোর্ট, পাতিয়ালা কোর্ট তামাশা দেখছে।’

ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় তিনি বলেন, ‘যখন সকালে কোর্ট প্রশ্ন করেছিল, কোনো প্রাণভিক্ষার আবেদন বকেয়া রয়েছে কি না, তখন এরা কিছু বলেনি। এখন বলছে, প্রাণভিক্ষার আবেদন জমা পড়েছে।’

আজ ভোর ৬টায় দিল্লির তিহার জেলে নির্ভয়া মামলার চার আসামি- মুকেশ সিংহ, অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত ও বিনয় শর্মার ফাঁসির পরোয়ানা জারি করেছিলেন পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মৃত্যু পরোয়ানা জারি হলেও তা ১৭ জানুয়ারি ও ৩১ জানুয়ারি, দুবার পিছিয়ে যায়। প্রথমবার ফাঁসির দিন ঠিক হয়েছিল ১১ জানুয়ারি। পরে তা পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি হয়। কিন্তু ৩১ জানুয়ারি তা ফের পিছিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর দিল্লির একটি হলে সিনেমা দেখে বন্ধুর সঙ্গে বাসে করে ফিরছিলেন প্যারামেডিকেলের ওই ছাত্রী। যাত্রী কম থাকায় বাসের চালক-সহকারীসহ অন্তত ছয়জন মিলে নির্ভয়ার বন্ধুকে পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে বাসের পেছনের দিকে ফেলে রাখে। মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। পরে দুজনকে দিল্লির একটি সড়কের পাশে বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হয়।

আহতাবস্থায় দেশটির সরকার মেডিকেলের এই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠায়। সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। নির্ভয়ার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে দেশটির লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দিনের পর দিন বিক্ষোভ করতে থাকে।

নির্ভয়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান। এছাড়া দোষী সাব্যস্ত আরেক ধর্ষক অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাকে তিন বছরের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

২০১৫ সালে সাজার মেয়াদ শেষে এই তরুণ মুক্তি পাওয়ার পর আবারও ভারতে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে দেশটির ধর্ষণের সাজার আইন পরিবর্তন করে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদেরও ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান করা হয়।

২০১৩ সালে দেশটির দ্রুত বিচার আদালত বাকি চার ধর্ষকের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করে। পরে দেশটির হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগও ওই সাজা বহাল রাখে।



আমার বার্তা/০৩ মার্চ ২০২০/জহির


আরো পড়ুন