শিরোনাম :

  • আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী কারওয়ান বাজারের কলার আড়তের আগুন নিয়ন্ত্রণে করোনা মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২৩ কোটি টাকার বরাদ্দ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রেকর্ড, একদিনে প্রাণ গেল ১২২৪ জনের
ভ্যাকসিন পেতে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
০৯ মার্চ, ২০২০ ১০:৪১:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির কাজে নেতৃত্ব দেয়া কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনের (সিইপিআই) প্রধান জেইন হলটন বলেছেন, ভ্যাকসিন তৈরির কাজ ঠিকঠাকভাবে এগিয়ে চললেও কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে অন্তত এক বছর সময় লেগে যাবে।

হেলটন অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক প্রধান। করোনার এই ভ্যাকসিন তৈরিতে অন্তত ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দরকার হবে বলেও মনে করছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৫৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৮২৮ জন। বিশ্বের ১০৯টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৩৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১১৯ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৮২ এবং মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।

সোমবার এবিসি রেডিওকে হলটন বলেছেন, ‘গবেষণারে যখন কোনো কিছু নিয়ে কাজ করা হয় তখন সেখানে সেটা (গবেষণার ফল বা ভ্যাকসিন) আপাত দৃষ্টিতে ভালো মনে হতে পারে; যতক্ষণ না আপনি যেভাবে চান সেভাবে এটি মানবশরীরে প্রয়োগ করছেন এবং ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। এমনও হতে পারে সেটা নিরাপদ না। এমনকি এটা তৈরি করা কষ্টসাধ্যও হতে পারে।’

‘শেষ পর্যন্ত প্রকৃত ভ্যাকসিন পেতে আপনাকে ভ্যাকসিনের কয়েকটি সিরিজ নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে কার্যকর সে ভ্যাকসিন এখনও আমাদের থেকে ১২ মাস দূরে রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে সব কিছু ঠিকঠাক চলুক না কেন। তারপর ভ্যাকসিনের শত শত মিলিয়ন ডোজ তৈরি করতে অনেক, অনেক মাস সময় লেগে যাবে’-বলেন সিইপিআই প্রধান।

অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত ৮৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ভাইরাসের কারণে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিন জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এরপর ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১০৯টি দেশ ও অঞ্চলে।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ জনে। এদিকে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৭৫ জনে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইতালি সরকার। ইরানে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৬৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৯৪ জন।

জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। জার্মানিতে এই ভাইরাসে ১ হাজার ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে। ফ্রান্সে ১ হাজার ২০৯ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৯ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছে ৫০২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের।

স্পেনে আক্রান্ত ৬৭৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৫৪০, মৃত্যু ২২। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩৩২ এবং মারা গেছে ২ জন, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২৭৮ মৃত্যু ৩। ইরাকে আক্রান্ত ৬০, মৃত্যু ৬। ভারতে ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটেনি।

সুইডেন আক্রান্ত ২০৩, সিঙ্গাপুরে ১৫০, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ২৬৫ এবং মৃত্যু ৩, নরওয়েতে আক্রান্ত ১৭৬, বেলজিয়ামে ২০০, হংকংয়ে আক্রান্ত ১১৫ এবং মৃত্যু ৩, মালয়েশিয়ায় ৯৯, অস্ট্রিয়ায় ১০৪, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ৮০, মৃত্যু ৩, বাহরাইনে ৮৫, কুয়েতে ৬১, কানাডায় ৬৪, থাইল্যান্ডে ৫০ এবং মৃত্যু ১, তাইওয়ানে আক্রান্ত ৪৫ এবং মৃত্যু ১, গ্রিসে ৭৩, আমিরাতে ৪৫, আইসল্যান্ডে ৫৮, সান মারিনোতে ৩৬ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু ১, ডেনমার্কে আক্রান্ত ৩৫, লেবাননে ৩২, ইসরাইলে ৩৯, চেক রিপাবলিকে ৩২, আয়ারল্যান্ডে ২১, আলজেরিয়াতে ২০ এবং ভিয়েতনামে ৩০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ওমানে ১৬, ফিলিস্তিনে ১৯, মিসরে ১৫, ফিনল্যান্ডে ২৫, ব্রাজিলে ২৫, ইকুয়েডরে ১৪, পর্তুগালে ৩০, রাশিয়াতে ১৭, ক্রোয়েশিয়ায় ১২, কাতারে ১৫, ম্যাকাউতে ১০, এস্তোনিয়ায় ১০, জর্জিয়ায় ১৩, রোমানিয়ায় ১৫, আর্জেন্টিনায় ১২, স্লোভেনিয়ায় ১৬, আজারবাইজানে ৯, বেলারুশে ৬, মেক্সিকোতে ৭, পাকিস্তানে ৭, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ১০ এবং মৃত্যু ১, সৌদি আরবে ১৫, চিলিতে ১০, পোল্যান্ডে ১১, স্লোভাকিয়ায় ৫, পেরু ৭, ইন্দোনেশিয়ায় ৬, নিউজিল্যান্ডে ৫, সেনেগালে ৪ ও হাঙ্গেরিতে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

লুক্সেমবার্গে ৫, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ৩, বসনিয়ায় ৩, ডোমিনিক প্রজাতন্ত্রে ৫, মরক্কোতে ২, আফগানিস্তান ৪, কম্বোডিয়া ২, বুলগেরিয়া ৪, ক্যামেরুন ২, মালদ্বীপ ৪, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩, লাটভিয়ায় ৩, বাংলাদেশে ৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অপরদিকে, আন্দোরা, আর্মেনিয়া, জর্ডান, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কোস্টারিকা, ভ্যাটিকান সিটি, গিব্রালটার, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টোগোতে একজন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।



আমার বার্তা/০৯ মার্চ ২০২০/জহির


আরো পড়ুন