শিরোনাম :

  • তাপমাত্রা বাড়বে ঢাকায়, কমবে কুয়াশা স্যামসাং চীন থেকে ভারতে ডিসপ্লে কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, সম্পর্ক ভাঙলেই বলে ধর্ষণ : কিরন্ময়ী নায়েক দুই গাড়ির সংঘর্ষে রাজস্থানে নিহত ১০
টাইগ্রের দখল নেয়ার ঘোষণা ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১৩:২২:৪২
প্রিন্টঅ-অ+


ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে শহরে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং সেনাবাহিনী আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ওই অঞ্চলে সংঘাত চলছিল।

সাম্প্রতিক সময়ের এই সংঘর্ষে শত শত মানুষ মারা গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে সুদানে আশ্রয় নিয়েছে। এক টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আবে বলেন, আমি এটা আপনাদের জানাতে পেরে আনন্দিত যে টাইগ্রে অঞ্চলে সামরিক অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ফেডারেল সরকার এখন মেকেলে শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

তবে টাইগ্রের পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতা জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা এখনও লড়াই থামায়নি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে টিপিএলএফের ওই নেতা বলেছেন, তারা আত্ম-সংকল্প বজায় রাখার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন এবং শেষ পর্যন্ত আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান। চলতি মাসের শুরুতেই ওই অঞ্চলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী আবি জানিয়েছেন, টিপিএলএফের হাতে আটক হওয়া কয়েক হাজার সেনাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, যা কিছু ধ্বংস হয়েছে, সেগুলো পুনর্নির্মানের জন্য এবং যারা শহর ছেড়ে চলে গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনার কঠিন কাজ এখন তাদের সামনে।

তবে ওই অঞ্চলে সংঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত জানা কঠিন কারণ সেখানে সব ধরণের ফোন, মোবাইল এবং ইন্টারেনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। রয়টার্সকে পাঠানো একটি ক্ষুদেবার্তায় টিপিএলএফ নেতা দেব্রেতসিয়ন গেব্রেমাইকেল যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য না করলেও অভিযোগ করেছেন যে, সরকার বাহিনীর নৃশংসতার কারণে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করাকেই তারা একমাত্র সমাধান মনে করছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের আত্ম-সংকল্প বজায় রাখার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এটি।’ এর আগে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিন্দা জ্ঞাপন করার আহ্বান জানানো হয়।

মেকেলেতে আক্রমণের জন্য এরিত্রেয়া সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে টিপিএলএফ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিপিএলএফের সদস্যরা এখন পাহাড়ে পালিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারে।

টিপিএলএফের যোদ্ধারা মূলত স্থানীয় মিলিশিয়া এবং প্যারামিলিটারি ইউনিটের সদস্য ছিলেন। ধারণা করা হয়, তাদের সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার। টিপিএলএফের নেতা দেব্রেতসিয়ন গেব্রেমাইকেল বলেছেন, টাইগ্রের সেনাবাহিনী তাদের অঞ্চল শাসনের অধিকার রক্ষা করার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।

দাতব্য সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে যে, এই সংঘাতের কারণে মানবাধিকার সঙ্কট তৈরি হতে পারে এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইথিওপিয়া সরকারের মানবাধিকার কমিশন টাইগ্রের তরুণদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে।

মানবাধিকার কমিশন বলছে, মাইকাদ্রা শহরে ৬শ’র বেশি টাইগ্রের বাইরের বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে তারা। কিন্তু টিপিএলএফ ওই ঘটনার সাথে কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে আবি ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত কয়েক দশক ধরে ইথিওপিয়ার সেনা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে টিপিএলএফের কর্তৃত্ব বজায় ছিল।

গত বছর আবি ক্ষমতাসীন জোট ভেঙ্গে দেন এবং একাধিক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীভিত্তিক আঞ্চলিক দল গঠন করেন এবং তাদের নিয়ে একটি দল গঠন করেন। টিপিএলএফ ওই দলে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

সেপ্টেম্বরে টাইগ্রেতে আঞ্চলিক নির্বাচনের পর ওই দ্বন্দ্ব আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেসময় পুরো দেশে সব ধরণের ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। আবি সেসময় ভোটকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।

টাইগ্রের প্রশাসন আবির সংস্কার কার্যক্রমকে নেতিবাচকভাবে দেখে। তারা মনে করে, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে বেশি ক্ষমতা দিয়ে আঞ্চলিক রাজ্যগুলোর ক্ষমতা সীমিত করতে চান। এরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইস আফওয়ের্কির সাথে আবির নীতি বহির্ভূত বন্ধুত্বের সমালোচক তারা।

২০১৯ সালে এরিত্রিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া আবি মনে করেন টিপিএলএফ তার কর্তৃত্বকে খর্ব করতে চায়। আবি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফেডারেল পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে টিপিএলএফের অপরাধীদের আটক করবে এবং তাদের আদালতে উপস্থাপন করবে। এখনও পর্যন্ত টিপিএলএফের কোনো নেতা আত্মসমর্পন করেছেন কীনা সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।



আমার বার্তা/২৯ নভেম্বর ২০২০/জহির





 


আরো পড়ুন