শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইন ও কৃষকদের দীর্ঘ লড়াই
১৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:২৯:২৭
প্রিন্টঅ-অ+

কৃষিকাজ ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে ২০২০ সালে তিনটি কৃষি আইন প্রণয়ন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কি ছিল সেই আইনে, কেনই বা কৃষকরা তা প্রত্যাহার করে নিতে আন্দোলন চালালেন টানা কয়েক মাস ধরে। কেনই বা মোদী সরকার পিছু হটলো সেই সিদ্ধান্ত থেকে, এসব ইস্যু নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।


সেই কৃষি আইনে যা ছিল তা হলো প্রথমত, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত আইন। দ্বিতীয়ত অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। তৃতীয়ত কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও কৃষি পরিষেবা সংক্রান্ত কৃষক চুক্তি আইন।


এই আইন পাশের পরপরই আন্দোলনে ফেটে পড়েন ভারতীয় কৃষকরা। তাদের যুক্তি ছিল, প্রধানমন্ত্রী যদিও বলছেন এই কৃষি আইন কৃষকদের হাত শক্ত করবে, কিন্তু আদতে দেশের কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে এ আইন। বিশেষ করে প্রান্তিক এবং ছোট কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে আরও বেশি শোষিত হবেন। কৃষকদের ওই দাবি সমর্থন করেন বিরোধীরাও। শুরু হয় আন্দোলন।


২০২০ সালের ৫ জুন সংসদে কৃষি আইনের প্রস্তাব আনা হয়। যার ফলে কেন্দ্রের আয়ত্তাধীন কৃষিক্ষেত্র বেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাবে। একই বছর ১৪ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে অধ্যাদেশ আনা হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর লোকসভায় পাস হয় সেই অধ্যাদেশ। ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায় কৃষি বিল।


এ খবর জানার পর ২৪ সেপ্টেম্বর কৃষি বিলের প্রতিবাদে পাঞ্জাবের কৃষকরা প্রথম তিন দিনের 'রেল রোকো' কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর গোটা দেশে কৃষকরা বিক্ষোভে নামলেন। বিক্ষোভের ডাক দিলো অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ কো অর্ডিনেশন কমিটি। ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়ে কৃষি বিল পরিণত হলো কৃষি আইনে।


২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর দেশজুড়ে কৃষি আইন বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লি অভিযানের ডাক দিলেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা। দিল্লি সীমান্তে করোনা মহামারি নিয়মের অজুহাতে তাদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। হাল না ছাড়ায় কৃষকদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জলকামান, কাঁদানে গ্যাস।


কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন কৃষকেরা। পরের দিনই প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, যারা কৃষকদের উস্কানি দিচ্ছেন, তারা কৃষকদের জন্য কিছু করেননি। তার সরকারই কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেছে।


২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম মুখোমুখি বৈঠকে বসেন কৃষকরা কেন্দ্রের সঙ্গে। মিলেনি সমাধান। এরপর কৃষকরা ভারত বন্ধের ডাক দিলেন কৃষকেরা গত ৮ ডিসেম্বর। এরপর কৃষি আইন সংশোধনের প্রস্তাব ফেরালেন কৃষকরা। ১১ ডিসেম্বর কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলো ভারতের কিসান ইউনিয়ন। চলতি বছর ১২ জানুয়ারি, তিন কৃষি আইন বলবৎ করায় স্থগিতাদেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। গঠন করা হলো চার সদস্যের কমিটিও।


২৬ জানুয়ারি, কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ। সিংঘু এবং গাজিপুর সীমান্ত থেকে পথ বদলে বিক্ষোভকারীরা দিল্লি শহরের কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। লাল কেল্লার দেওয়াল বেয়ে উঠে বিক্ষোভকারীদের একাংশ জাতীয় পতাকা নামে নিশান সাহিবের পতাকা উত্তোলন করে। পুলিশ লাঠি, কাঁদানে গ্যাস চালায়। এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয় সংঘর্ষে।


৪ ফেব্রুয়ারি, কৃষকদের সমর্থনে কথা বলার জন্য দেশের সচেতন নাগরিকদের নিন্দা করলো সরকার। বলা হয়, তারা সঠিক বিষয়ে না জেনেই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছেন। আমেরিকার পপ তারকা রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বোনঝি মীনা হ্যারিসেরও সমালোচনা করা হলো।


আন্দোলনের ৬ মাস পূর্ণ হতে ২৭ মে কালাদিবস পালন করেন কৃষকরা। ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত সেসময় জানিয়ে দেন, দরকার হলে ২০২৪ সালে মোদী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলবে আন্দোলন।


আন্দোলন চলাকালে ছয়শ’র মতো কৃষক প্রাণ হারান বলেও অভিযোগ বিভিন্ন কৃষি সেংগঠনের।


অবশেষে কৃষকদের চাপে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতি স্বীকার করলেন। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে মোদী বললেন,‘‘আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিল।


সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি, বিবিসি


আমার বার্তা/গাজী আক্তার

আরো পড়ুন