শিরোনাম :

  • আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ ঢাকার তাপমাত্রা বাড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে কোভিড সেন্টারে অগ্নিকান্ডে নিহত ৭ ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়াল
ইসলামে প্রতিবেশীর হক
আমার বার্তা ডেস্ক:
২৬ জুলাই, ২০২০ ১৭:০৬:৩০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতিবেশী শব্দটি একটি ব্যাপক শব্দ। প্রতিবেশী বলতে মুসলিম, কাফের, নেক বান্দা, ফাসেক, বন্ধু, শত্রু, পরদেশী, স্বদেশী, উপকারী, ক্ষতি সাধনকারী, আত্মীয়, অনাত্মীয়, নিকটতম বা তুলনামূলক একটু দূরের প্রতিবেশী সবাই অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই মনে করে প্রতিবেশী বলতে শুধু ঘরের পাশের প্রতিবেশী বুঝানো হয়ে থাকে। বিষয়টি এমন নয়, যে শুধুমাত্র ঘরের পাশের প্রতিবেশীকেই প্রতিবেশী বলা হবে আর কাউকে নয়। বরং প্রতিবেশী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন- কর্মক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করলে সে আমার একজন প্রতিবেশী, ছাত্র জীবনে যাদের সাথে পড়া লেখা উঠাবসা করি সেও আমার প্রতিবেশী, আমার জমিনের সাথে যদি কারোও জমি থাকে সে আমার জমিনের প্রতিবেশী, পাশের দোকানদার সে আমার দোকানের প্রতিবেশী, এক সাথে বাজারে গেলে সে আমার বাজারের প্রতিবেশী, এমনকি যদি আমি কোনো গাড়ি বা বিমানে একজন ভাইয়ের সাথে একসাথে বসি সেও আমার কিছু সময়ের জন্য একজন প্রতিবেশী।



প্রতিবেশীর হক বা অধিকার সম্পর্কে সজাগ হওয়া অত্যন্ত জরুরী। ইসলাম প্রতিবেশীর হককে খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বর্তমানে প্রতিবেশীর হক ও অধিকার সম্পর্কে বে-খবর।

পবিত্র কুরআনে প্রতিবেশীর হক:

প্রতিবেশীরা মানবসমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ফলে ইসলামে প্রতিবেশীর হককে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর ইবাদত ও তার সাথে কাউকে শরিক না করা-এই বিধানের সাথে প্রতিবেশীর বিষয়টিও আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। একই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের হক বিষয়ে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মাতা-পিতার হক, আত্মীয় স্বজনের হক, এতীমের হক ইত্যাদি। এসব গুরুত্বপূর্ণ হকের সাথে প্রতিবেশীর হককে উল্লেখ করা থেকেই বোঝা যায়, প্রতিবেশীর হককে আল্লাহ তা‘আলা কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তা রক্ষা করা আমাদের জন্য কতটা জরুরি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

“এবং পিতা-মাতার প্রতি ইহসান, আত্মীয়-স্বজন, এতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার কর”।

হাদিসে প্রতিবেশীর হক বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাকিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাসের অংশীদার বানিয়ে দেওয়া হবে”।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যখন শোন, তোমার প্রতিবেশী তোমাকে বলে, তুমি ভালো করছ, তাহলে তুমি ভালো করছ, আর যখন শোন, তোমার প্রতিবেশী বলে, তুমি খারাপ করছ, তাহলে তুমি খারাপ করছ”।

প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে আল্লাহর রাসূল নিষেধ করেন এবং তার সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দেন।

হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করে”।

প্রতিবেশীরা হকের ক্ষেত্রে সবাই সমান নয়। যারা সম্পর্কের দিক দিয়ে যত বেশি নিকটে তাদের অধিকার বা হক বেশি। আর যদি প্রতিবেশী সম্পর্কের দিক দিয়ে সমান হয় এবং একজন কাছে এবং অপর জন দূরে হয় তবে কাছের প্রতিবেশীর অধিকার বা হক বেশি দূরের প্রতিবেশীর তুলনা।

তোমাদের মধ্যে সে উত্তম প্রতিবেশী বা সে উত্তম সাথী যে তার প্রতিবেশী ও সাথীদের নিকট উত্তম।

প্রতিবেশী কষ্ট না দেওয়া এবং তাদের সাতে ভালো ব্যবহার করা ঈমানের সাথে সম্পর্ক।

প্রতিবেশীর হক কি?

প্রতিবেশীর কষ্ট দূর করা:

প্রতিবেশীর কষ্ট সহ্য করা:

প্রতিবেশীর দোষ ঢেকে রাখা ও ইজ্জত সম্মান বজায় রাখা ।

প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখা ।

প্রতিবেশীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ।

অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া ।

প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা ।

হাদিয়া আদান-প্রদান করা ।

খাবারে প্রতিবেশীকে শরীক করা ।

প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া ।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আদান-প্রদান করা ।

প্রতিবেশীর সালামের উত্তর দেয়া ।

প্রতিবেশীকে উপদেশ দেয়া ।

দরিদ্র প্রতিবেশীর হক:

আর প্রতিবেশী যদি দরিদ্র হয় তাহলে এ বিষয়ে তার হক আরও বেশি। কারণ দরিদ্রকে খানা খাওয়ানো যেমন অনেক সওয়াবের কাজ তেমনি দরিদ্রকে খানা না-খাওয়ানো জাহান্নামে যাওয়ার একটি বড় কারণ। কুরআন মজীদে ‘ছাকার’ নামক জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হিসেবে নামায না পড়ার বিষয়টির সাথে সাথে দরিদ্রকে খানা না খাওয়ানোও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,(জাহান্নামীকে জিজ্ঞেস করা হবে) (অর্থ) “কোন বিষয়টি তোমাদেরকে ‘ছাকার’ নামক জাহান্নামে ঠেলে দিয়েছে? (তারা উত্তরে বলবে) আমরা নামায পড়তাম না এবং দরিদ্রকে খানা খাওয়াতাম না”।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,“ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে এবং সে তার সম্পর্কে জানে”।

অমুসলিম প্রতিবেশীর হক:

ইসলাম মুসলিম প্রতিবেশীর ব্যাপারে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, অনুরূপভাবে অমুসলিম প্রতিবেশীর ব্যাপারেও এভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। অমুসলিম হওয়ার কারণে, তার প্রতি কোনো প্রকার বৈষম্য ইসলাম দেখাননি। সুতরাং, প্রতিবেশীর যেভাবে অধিকার ও হক রয়েছে, অমুসলিম প্রতিবেশীরও অনুরূপ হক ও অধিকার রয়েছে।

মুজাহিদ রহ. বলেন, “একবার আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ছিলাম। তার গোলাম একটি বকরীর চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, তোমার এ কাজ শেষ হলে সর্বপ্রথম আমাদের ইহুদী প্রতিবেশীকে দিবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ আপনার এসলাহ করুন। আপনি ইহুদীকে আগে দিতে বলছেন! তখন তিনি বললেন, (হাঁ) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রতিবেশীর হকের বিষয়টি এত বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে শুনেছি যে, আমাদের আশংকা হয়েছে বা মনে হয়েছে, প্রতিবেশীকে মিরাসের হকদার বানিয়ে দেওয়া হবে”।

প্রতিবেশী মুসলিম হোক অমুসলিম হোক সবারই হক, সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। আর প্রতিবেশী যদি মুসলিম হয় বা মুসলিম ও আত্মীয় উভয়টিই হয় তাহলে এসকল হকের সাথে মুসলিম ও আত্মীয় হিসেবে যত হক আছে সবই তাদের প্রাপ্য। এ বিষয়টিও স্মরণ রাখা জরুরি।



আমার বার্তা/ ২৬ জুলাই,২০২০/এসএফসি



 


আরো পড়ুন