শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
সুর ও সঙ্গীত নিয়ে কাজ করছেন শিল্পী মো. রায়হান উদ্দিন
১০ আগস্ট, ২০২১ ২০:৩৫:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রায়হান ফারুক। ইসলামী সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের একজন প্রতিভাবান শিল্পী। প্রতিনিয়ত নিজেকে মেলে ধরছেন নানাভাবে। মৌলিকভাবে তিনি শিল্পী হলেও গান লিখেন এবং সুরও করেন।

আসল নাম মো. রায়হান উদ্দিন হলেও রায়হান ফারুক নামেই অধিক পরিচিত তিনি। ২০০৯ সালে কলরব ফেনী শাখায় প্রথমে সদস্য তারপর পরিচালনা ও কেন্দ্রীয় কমিটির শাখা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই শিল্পী।

বর্তমানে তিনি কলরবের সাহিত্য বিভাগের পরিচালক। পড়াশুনা করেছেন কওমি,  আলিয়া ও জেনারেল তিন ধারাতেই। হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরা শেষ করার পাশাপাশি ঢাকা আলিয়া থেকে তাফসির নিয়ে কামিল শেষ করেছেন। পড়ছেন হাদিস ও ইফতা নিয়েও।

ঢাবির অধীনে অনার্স করেছেন ঢাকা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা করেছেন ইনফরমেশন সাইন্স অ্যান্ড লাইব্রেরিয়ান কোর্সে।

রায়হান ফারুকের সংগীতের হাতেখড়ি হয় ইসলামী সংগীতের কিংবদন্তি কলরবের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা আইনুদ্দিন আল আজাদের কাছে। সম্প্রতি মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কলরবের উদ্যোগে ‘স্মৃতির মিনারে আইনুদ্দিন আল আজাদ (রহ.)' শীর্ষক আয়োজনে উস্তাদের কথা ও সুরে গাওয়া ‘শাহাদাতের স্বপ্ন ছিল’ গানটি গেয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন রায়হান ফারুক।

এককভাবে তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি মৌলিক গান গেয়েছেন। কলরবের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হলিটিউনে ‘স্বপ্নে বিভোর’ শিরোনামে প্রথম একক গান রিলিজ হয় তার। এরপর একে একে গেয়েছেন ‘ধোঁকাবাজ’ ‘পথহারা পথিক’ ‘পাপ’ ‘শবেবরাত’ ‘বরকতে রমজান’ ‘আমার সোনার বাংলা’ ‘আশার বাতী’ ‘প্রতিটি ধূলিকণা’ ‘প্রিয় নাবী’ ‘চেনা পৃথিবী’সহ বহু গান।

এই ধারাবাহিকতায় তিনি কণ্ঠে তুলেছেন জনপ্রিয় গীতিকার আহমদ আব্দুল্লাহ, শাহনূর শাহীন, জাফর আহমাদ রাবী, আব্দুল কাদির হাওলাদার, ইসমাইল রফিক, আকরাম এইচবি এবং হোসাইন নুরের গান।

রায়হান ফারুকের লেখা এবং সুর করা গানের মধ্যে ‘শবেবরাত’ ‘প্রতিটি ধূলিকণা’ ‘খুঁজি তোমাকে’ ‘রাসূলের প্রেম’ ‘ক্ষমা চাই’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও তার সুর করা গানের মধ্যে ‘পাপ’ ‘চাঁদ উঠেছে’ ‘ওরে আমার প্রাণের ময়নারে’ ‘ক্বদরের ফরিয়াদ’ ‘কী হবে ভাবতে অশ্রু ঝরে’ ‘খুশবুতে মাতোয়ারা’ ‘আমার সোনার বাংলা’ ‘ক্ষমা চাই’ ‘চেনা পৃথিবী' ব্যাপক জনপ্রিয়।

শিল্পী, সুরকার বা গীতিকারের বাইরে তার বড় পরিচয় তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। নিজেকে একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে রায়হান ফারুক বলেন, সংগীতাঙ্গনে আমার পথচলা দীর্ঘদিনের হলেও সময়ের তুলনায় আমি গান গেয়েছি খুব কম। যে করেই হোক নিজেকে গান গাইতে হবে, শিল্পী হতে হতে হবে এমন চিন্তা ভাবনা কখনো লালন করিনি। আমি প্রথমে নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে তৈরি করতে চেয়েছি। বড় কথা হলো শিল্পী হওয়ার আগে আমি গান শিখতে চেষ্টা করেছি; যার কারণে আমার প্রথম একক গান রিলিজ হয় ২০১৮ সালে।

তিনি বলেন, আমি শেখার চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমি চাই মানুষের নিখাদ ভালোবাসা কুড়াতে। ভালো কাজ এবং মেধা-যোগ্যতা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে।





 


আরো পড়ুন