শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
করোনা ভাইরাস মুমিনের করণীয়
১৯ আগস্ট, ২০২১ ২২:০৪:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন করে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। দেশে দেশে আবার লকডাউন হচ্ছে। অতিদ্রæত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম করোনার নতুন ধরনের (স্ট্রেইন) অস্তিত্ব মিলেছে বেশ কয়েকটি দেশে। বিশেষ করে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে করোনা আবার দ্রæতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজন যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা।

এই মুহূর্তে আমাদের মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপর ভরসা করা খুব বেশি জরুরি। পাশাপাশি সতর্কতা হিসেবে আমাদের আচরণগত পরিবর্তনগুলোও খুব জরুরি। হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় মুখটা ঢেকে রাখা, যেখানে-সেখানে থুথু না ফেলা আর প্রতিবার বাইরে থেকে এসে বা খাওয়ার আগে ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড ধরে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে রাখার মতো ব্যক্তিগত সু-অভ্যাসগুলোয় অভ্যস্ত হতে হবে এখন থেকেই। অপ্রয়োজনীয় চলাচল ও ঘোরাঘুরি বাদ দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে যে শিথিলতা চলছে, তা অবশ্যই দূর করতে হবে। এজন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। এ ছাড়াও টিকা নেয়ার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে।

আল্লাহ মানুষকে নানা বিপদ-আপদ দিয়ে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ১৫৫)।

বস্তুত মানুষের পাপের পরিমাণ যখন ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখনই কেবল আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিভিন্ন মহামারি দিয়ে পরীক্ষা করেন। তাদেরকে পাপের পথ থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। বিপদের সম্মুখীন হয়ে বান্দা কী আচরণ করেÑ এটা তিনি দেখতে চান। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, যেসব বিপদাপদ তোমাদের স্পর্শ করে, সেগুলো তোমাদেরই কৃতকর্মের কারণেই। আর অনেক গুনাহ তিনি (আল্লাহ) ক্ষমা করে দেন। (সূরা আশ-শুরা, আয়াত নং- ৩০)। রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

যে কোনো বিপদ-আপদে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুইপক্ষ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির দু’প্রান্তে অবস্থান করে। তৃতীয় পক্ষ মধ্যপন্থা অবলম্বন করে থাকে। একপক্ষ শুধু ভরসা করে কিন্তু বাহ্যিক কোনো উপায় অবলম্বন করে না। আরেক পক্ষ নানাপন্থা অবলম্বন করলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে না, যা সম্পূর্ণ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি পর্যায়ে।

অপরদিকে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখার পাশাপাশি সুরক্ষার নিমিত্তে পূর্ণ সতর্কতা নিয়ে নানা উপায় অবলম্বন করে। আর এটাই ইমানের দাবি।

বাহ্যিক উপায় অবলম্বনে নিজেকে জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। আবর্জনার মাধ্যমে ভাইরাস যেন সংক্রমণ না হতে পারে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সতর্কতামূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা সুন্নাহরই অংশ। তবে সর্বপ্রথম অবশ্যই মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। মনে করতে হবে এই মহামারি আমাদের গোনাহের কারণে এসেছে। তাই অবনত মস্তকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে। বেশি বেশি জিকির করতে হবে এবং গুনাহ একেবারেই বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি মহান আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করতে হবে। পবিত্র কুরআন মাজিদে  ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং- ৪৫)।

আশা করা যায়, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভয়াবহ করোনাভাইরাস থেকে আমাদের হেফাজত করবেন।

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী

আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক



 


আরো পড়ুন