শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
পুণ্যবান ধৈর্যশীল
আমিনুল ইসলাম কাসেমী
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:৩৩:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

আজকাল কিছু মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেশি। তারা কোন কাজে ধৈর্য ধরতে চায় না। সব কাজে তাড়াহুড়ো। অফিস-আদালত, দোকানপাট, হাটবাজার, বাস-ট্রেন, সব জায়গাতে কিছু মানুষকে অধৈর্য্য হতে দেখা যায়। তারা একটুও ধৈর্য ধরবে না। প্রতিটি কাজে থাকে বে-সবর । এই অধৈর্য, বে-সবর হওয়া বা অস্থিরতা কোন ভাল লক্ষণ নয়। তারপরেও তারা সেই দিকে ছুটছে।


অফিসে যাবেন, দেখবেন কিছু লোক যেন ছটফট করছে। ওদের কাজটা আগে করে দিতে হবে। ব্যাংকে যাবেন,  কিছু লোক নিয়ম মানছে না। ওরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আগে আগে তারা কাজ করে নিতে চায়। বহু মানুষ নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু ওরা মোটেও নিয়ম মানার পক্ষে নয়। কখনো অফিসের কর্মকর্তাদের উপর তেড়ে যায় তারা। দুর্ব্যবহার করে। শুধু তাড়াহুড়ো করে সব কাজ করতে চায়। 


বাসে উঠলে দেখা যায় আরো বেকায়দা অবস্থা। কিছু লোকতো বারবার ড্রাইভারকে প্রেসার দিতে থাকে। জোরে চালাও। গাড়ি আস্তে চালালে হবে না। তাদের কথামত ড্রাইভার বেচারা জোরে চালাতে থাকে। কখনো দুর্ঘটনায় পড়ে যায় মানুষ। এসব কারণে হতাহত হয়। অনেকে ক্ষতির সম্মুখিন হয়।


আসলে কোন কাজ তাড়াহুড়া করার মধ্যে কোন ফায়দা নেই। বরং তাতে রয়েছে ক্ষতি। ধৈর্যের সাথে যে কাজ করা হয়, সে কাজের মধ্যে বরকত নিহিত। সে কাজটি পরিপক্ক হয়। কাজটি মজবুত হয়। তাছাড়া ধৈর্য গুণটি অনেক বড়। কারো মধ্যে যদি ধৈর্যের গুণাবলী থাকে তাহলে তার সবকাজ সুন্দরভাবে সমাধা হয়ে যায়। কেননা, আল্লাহ তায়ালা নিজে ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন।


পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইন্নাল্লাহা মায়াছ সাবেরীন’ অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৫৩) 


এজন্য প্রতিটি মানুষকে ধৈর্যশীল হতে হবে। প্রত্যেক কাজ ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করা চাই। কখনো কোন কাজে অধৈর্য হওয়া ঠিক নয়। এখানে আয়াতের প্রথমাংশে রয়েছে, ‘তোমরা নামাজ এবং ধৈর্যের বিনিময়ে সাহায্য প্রার্থনা কর। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, নামাজ এবং সবরের বিনিময়ে সাহায্য প্রার্থনা করতে বলা হচ্ছে। এর দ্বারা বোঝা যায় প্রতিটি মুমিন-মুত্তাকী লোকের  ধৈর্যগুণাবলী অত্যাবশ্যক। সবরমান্দ হওয়া ব্যতিরেকে সফলতা আসবে না।


সাধারণ মানুষ যতই অস্হির বা অধৈর্য হোক, একজন মোমিন কখনো অধৈর্য হতে পারে না। কেননা, মোমিন- মুত্তাকী লোকেরা কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নিজের জীবন গঠন করে থাকে। তারা কুরআনকে ফলো করে, হাদিসকে ফলো করে। কোরআন-হাদিসের বহু জায়গাতে মোমিনদের ধৈর্যশীল হতে বলা হয়েছে। 


কুরআনে কারীমের অন্যত্র বলা হয়েছে,  ‘ইন্নামা ইউয়াফ্ফাছ সাবেরুনা বি গাইরী হিছাব’ অর্থ: ধৈর্যশীলদের আল্লাহ তায়ালা অগণিত ছওয়াব দান করবেন। 


তাই ভাই-বন্ধু, আসুন! আমরা সব কাজ ধৈর্য বা সবরের সাথে মোকাবেলা করি। কোন কাজে তাড়াহুড়া নয়। মোমিনের কাজ সবরের সাথে হবে। আর শয়তানের কাজ হয় জলদি বা দ্রততার সাথে। বে-সবরি হওয়া শয়তানের বৈশিষ্ট্য। আমরা সকলে ধৈর্যশীল হয়ে মহান আল্লাহর কাছ থেকে অগণিত সওয়াব নেয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।


আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সবরের সাথে সকল কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


লেখক : মুহতামিম, নিজামিয়া মাদরাসা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি


আমার বার্তা/ সি এইচ কে

আরো পড়ুন