শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক মাওলানা মুজিবুল্লাহ গুন্ডবি বিড়াল পাশে রেখে কিতাব অধ্যয়ন করছেন
০৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:২৩:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
বিড়াল পালনে ইসলামের নির্দেশনা মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন


বিড়াল একটি সৌখিন প্রাণী। মানুষের সাথে বা মানুষের বাসগৃহের কাছে কাছে ঘেঁষে থাকতে চায় বিড়াল। বিড়াল অন্যান্য প্রাণীদের থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। বিড়াল রাতে মানুষের সাথে ঘুমোতে চেষ্টা করে।  প্রিয় নবী সা.ও বিড়ালকে ভালোবাসতেন। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা উচিৎ যে, প্রাণী জগতের মধ্যে সকল প্রাণীর  প্রতি প্রিয় নবী সা.এর ভালোবাসা ছিলো অগাধ এবং অতুলনীয়  যার কোনো তুলনা হতে পারে না।

পৃথিবীবাসীর জন্য এখানে রাসুল সা.শিক্ষা স্থাপন করে গেলেন। যতদিন যাচ্ছে মানুষের থেকে মানুষের প্রতি মায়া উঠে যাচ্ছে।উঠে যাচ্ছে সৃষ্টি জগতের অন্যান্য জীব জন্তুর মায়া এবং ভালোবাসাও।অথচ এটি যারপরনাই আমরা দিন দিন রাসুল সা.-এর শিক্ষা এবং সুন্নাহ থেকে পিছপা হওয়ার কারণে প্রায় অনেক সুন্নাহ  আমাদের থেকে বিলুপ্তির পথে।

কুরআন সুন্নাহের জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা অনেকেই বিড়াল লালন-পালন করার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্ব,  সংশ্রয় এবং দুটানার মধ্যে থাকি। তাই এখান থেকে আমাদের জেনে নেওয়াই সমিচীন যে, বিড়াল পালা জায়েজ।এতে কোনো প্রকারের সমস্যা নেই।বরং রাসুল সা.এর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশও বটে।

আমাদের সবার সর্বাধিক পরিচিত ব্যক্তি।  বর্ণনার দিক দিয়ে যার হাদিসের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি বলে আমরা জানি। সেই সাহাবীকে অধিকাংশ লোক আবু হুরাইরা নামেই চিনে। কিন্তু এই আবু হুরাইরা নাম কীভাবে এবং কোথা থেকে হলো তা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না। তবে আজ জানা যাবে সেই অজানা রহস্যভেদ।

তিনি যেহেতু বিড়াল ছানাকে নিয়ে খেলাধুলা করতেন বা পছন্দও করতেন তাই রাসুল তাকে ভালোবেসে যখন আবু হুরাইরা ডেকে ছিলেন।এরপর  থেকে তিনি আবু হুরাইরা নামেই প্রসিদ্ধ হয়ে যান।

আর জাহিলিযুগে তার নাম ছিলো আব্দুশ শামশ বিন ছখর। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম ডাক নাম ছিলো আব্দুর রহমান।

বিড়াল পবিত্র প্রাণী। বিড়াল কোনো পানিতে মুখ দিলে তা নষ্ট হয় না। তবে ফুকাহাগণ সেই পানি ব্যবহার করাকে মাকরূহ বলে থাকেন এবং বর্তমান যমানায় এটার উপরই ফতোয়া।

কাবশা বিনতে কাব ইবনে  মালিক রা. থেকে বর্ণিত।আবু কাতাদা তার নিকট আগমন করলেন,তারপর বর্ণনাকারী বললেন -আমি তার জন্য পানিভর্তি একটি উজুর পাত্র উপস্থিত করলাম। এমন সময় একটি বিড়াল তা হতে পান করলো।

তারপর তিনি ঐ বিড়ালটির জন্য পাত্রটি কাত করে দিলেন যাতে করে বিড়াল ইচ্ছানুযায়ী পান করতে পারে। কাবশা বলেন, তখন আবু কাতাদা দেখলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি, তিনি বলেন হে ভাতিজী! তুমি কী আশ্চর্য বোধ করছ?আমি বলাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূল সা. বলেছেন, বিড়াল অপবিত্র নয়। বিড়াল  তোমাদের পাশে বিচরণকারী এবং বিচরণকারিণী। সুনানে নাসায়ী হাদিস নং ৩৪১

অপর হাদিসে আয়েশা রা.আরো বলেন, আমি রাসূল সা. কে বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দ্বারা উজু করতে দেখেছি। সুনানে আবু দাউদ ১মখন্ড হাদিস নং৭৬

বিড়াল আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টজীব। তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। বিড়ালকে কষ্ট দেয়ার ফলে সেই মহিলার কী করুন পরিণতি হয়েছিলো তা আমরা নিচের হাদিস থেকে কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারি।

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফে রাসুল সা.-এরশাদ করেন। জনৈকা মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেওয়া হয়। সেই বিড়ালটিকে বন্দি করে রাখা হয়। সে বিড়ালকে বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি। যাতে বিড়াল জমিনের পোকা মাকড় খেতে পারে।

প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া হাদিস শরীফে কঠোর ভাবে হারাম করা হয়েছে। কেবল বিষধর বিষাক্ত কোনো কীট-পতঙ্গ ছাড়া।

আবার প্রাণীর সেবার মাঝে আছে প্রভুর সন্তুষ্টি। লাভ এবং ক্ষতি এই দুটোই যেহেতু কাজের মাধ্যমেই সাধিত হয়। তাই আমাদেরকে মন্দ এবং ভালো দুটোর বেলায় চোখ কান খোলা রাখা উচিৎ। যাতে করে উপরোন্তু হাদিসের ঘটনার সাথে আমাদের জীবনের কোনো দিকে মিলে না যায়। আমরা অনেকেই অনেক প্রাণীকে বিনা কারণে কষ্ট দেই। আল্লাহ তায়ালা যদি আমাদেরকে এসব বিষয়ে পাকড়াও করেন। তাহলে কিন্তু নিরেট  বাঁচার উপায় নাই। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হেফাজত করেন।

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আনওয়ারিয়া মাদরাসা। শ্রীপুর, গাজীপুর

samsularifinsreepurgazipur@gamil.com


আরো পড়ুন