শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মুহাম্মাদ আবূ মূসা কাসেমী
নববী আদর্শ ও পারস্পরিক ভালোবাসা
১৮ নভেম্বর, ২০২১ ২১:২৫:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+

নৈতিক আলাপন । মুহাম্মাদ আবূ মূসা কাসেমী 


নববী আদর্শ ও পারস্পরিক ভালোবাসা


আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদর্শ প্রান পুরুষ। তাই তার আদর্শ কে আমাদের অনুসরণ করতে হবে। শুধু মুখে মুখে বললাম, কিন্তু বাস্তবে তা পরিণত করলাম না, তাহলে সেটা শুধু মুখের ঈমান, সেটা কার্যত ঈমান হবে না। কারন, ঈমান হলো, মুখেও স্বীকার করতে হবে, দিলেও বিশ্বাস করতে হবে, কার্যেও সেটা পরিণত করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু আমাদেরকে ভালোবেসেছেন, তাই আমাদেরকেও তাকে ভালোবাসতে হবে। রাসূল যেহেতু আমাদের ব্যথায় ব্যথিত ছিলেন, তাই আমাদেরকেও তার সুন্নত যিনদায় ব্যথিত হতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু আমাদের কল্যাণকামনা করেছেন, আমাদেরকেও তার উম্মতের কল্যাণ কামনা করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু আমাদের আদর্শ পুরুষ, তাই তিনি আমাদের সবকিছুর আদর্শ হবেন।


তিনিই আমাদের সবকিছু। তার হুকুমের বাইরে আমরা চলতে পারি না। তিনি যেহেতু মানুষকে ভালোবাসতেন, মানুষের কল্যাণ চিন্তায় সর্বদা পেরেশান থাকতেন। তাই আমাদেরকেও তার এই আদর্শ অনুসরণ করে মাুনষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের কল্যাণ চিন্তায় নিজেকে সবসময় ব্যতিব্যসত থাকতে হবে। তা না হলে বুঝতে হবে আমাদের নবীর ওপর ভালোবাসা এখনো পরিপূর্ণ হয়নি। আমরা এখনো পরিপূর্ণ মুমিন হইনি। তাইতো নবীজী বলেছেন, তোমাদের কেউ মুমিন-ই হবে না যতক্ষণ না সে অপর মুসলমানের তা ভালো না বাসবে,  যা নিজের জন্য ভালোবাসে। আমি এবং আমার আরেক ভাই- উভয়ের মধ্যে এমন ভালোবাসা থাকতে হবে যে, আমি আমার থেকে তাকে আলাদা করে দেখি না। আমি আমার জন্য যা চাইব, তার  জন্যও তাই চাইব। আমি চাই আমার সুনাম হোক, আমি নিরাপদে থাকি, আমি মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকি, তার জন্যও আমি এগুলোই চাইব।


নবীজী আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পন্থা শিখিয়েছেন। কারণ আল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। এ ছিল আমাদের প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহের বর্ণনা পবিত্র কুরআনে মাজীদে এভাবে এসেছেÑ আল্লাহ মুমিনদের প্রতি বড় অনুগ্রহ করেছেন; তিনি তাদেরই নিজেদের মধ্য হতে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদের সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন, যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল। Ñসূরা আলে ইমরান : আয়াত ১৬৪


একজন মোমিনের নবীজীকে ভালোবাসা ছাড়া আর কী সম্বল থাকতে পারে? হযরত আনাস রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ থেকে প্রিয় হব। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ১৫


আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. বলেন, একদিন আমরা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। নবীজী ওমর রা.-এর হাত ধরা ছিলেন। ওমর রা. বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার কাছে সবকিছু থেকে প্রিয়, তবে আমার জান ছাড়া। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না ওমর, এতে হবে না। যে সত্তার হাতে আমার জান তাঁর কসম! (ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না,) যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার জানের চেয়েও প্রিয় না হই। পরক্ষণেই ওমর রা. বললেন, হ্যাঁ, এখন তা হয়েছে; আল্লাহর কসম! (এখন থেকে) আপনি আমার কাছে আমার জানের চেয়েও প্রিয়। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, ওমর! এখন হয়েছে। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৩২


নবীজী আরো বলেছেন, যারা নিজের জন্য যা ভালো বাসে, তা প্রতিবেশীর জন্য ভালো বাসে না, তারা পূর্ণ মুমিন নয়। সুতরাং, মুসলমানদের একে অপরকে ভালো বাসতে হব। সুতরাং, মুসলমানদের একে অপরকে ভালো বাসতে হবে। আর এরজন্য আমাদের তিনটি কাজ করতে হবে। 


এক. একে অপরকে বেশি বেশি করে সালাম দিতে হবে। 


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর জান্নাতে যেতে পারবে না, যদি তোমাদের ঈমান পূর্ণ না হয়, তোমাদের ঈমান পূর্ণ হবে না, যদি তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি না হয়। 


এরপর নবীজী বলেন, আমি কী তোমাদেরকে বলে দেব পরস্পরে ভালো বাসা কীভাবে হয়? নিজেদের মধ্যে একে অপরকে বেশি কিছু করে সালাম করতে থাকো। 


দুই.  একে অপরকে বেশি কিছু করে হাদিয়া তোহফা দাও।


নবীজী বলেন, তোমরা একে অপরকে হাদিয়া দাও, এতে তোমাদের পরস্পরে মহাববত পয়দা হবে। অপর এক হাদিসে প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একে অপরকে হাদিয়া দাও, তাহলে তোমাদের মনের গ্লানি দূর হয়ে যাবে। 


তিন. কোনো রকমের প্রতিশোধ গ্রহণ না করা বরং ভালো দ্বারা মন্দের জবাব দেয়া।


আল্লাহ তাআ’লা বলেন, তোমার সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে, মন্দ আচরণ করলে, তুমি মন্দ দিয়ে মন্দের প্রতিশোধ নিও না বরং আহসিন কামা আহসানাল্লাহু ইলাইক অর্থাৎ মন্দকে তুমি ভালো দ্বারা প্রতিহত করো। অর্থাৎ, সে খারাপ আচরণ করেছে তুমি ভালো আচরণ করো।


সে কটু কথা বলেছে তুমি সুন্দর কথা বলো। সে গালি দিয়েছে, তুমি তার প্রশংসা করো। এতেই তোমার ঘোর দুশমন অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে।


সবিশেষ কুরআনের ভাষায়, হে আল্লাহ! মুমিন মুসলমানদের ব্যপারে আমাদের মনে কোনো রকমের বিদ্বেষ রেখো না বরং ভালোবাসা সৃষ্টি করে দাও। 


লেখক : কলামিস্ট ও শাইখুল হাদিস, জামিআ আফতাবনগর, ঢাকা


 


 

আরো পড়ুন