শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
শামসুল আরেফীন
পরকীয়ার ক্ষতি ও নৈতিকতা
২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:০৮:০৬
প্রিন্টঅ-অ+

পরকীয়ার ক্ষতি ও নৈতিকতা


শামসুল আরেফীন


পরকীয়া একটি মারাত্মক ব্যামো। এই ব্যামোতে যারাই তাদের গা ভাসিয়েছে তারাই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরই তিলে তিলে সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। মন এবং শরীরকে সাময়িক একটু আরাম দেয়ার জন্য আমরা শুধু নিজেকেই নয় বরং আমাদের পরিবারকে বিপাকে ফেলে দিচ্ছি। সুখের স্থলে দুঃখের দাবানল জ্বালিয়ে দিচ্ছি দুই পরিবারের মধ্যে। তিক্ত গ্লানি এবং প্রতিক্রিয়া শুধু এক যুগ নয় বরং জনম জনম পোহাতে হয়, দিতে হয় ভুলের মাশুল। তা ছাড়া এই কষ্টের যন্ত্রণা মৃত্যু অবধি অন্তরে দাগ কেটে যায়। এবার সহজে আমরা বুঝতে পারছি, পরকীয়ার ক্ষতিটা কত ভয়ানক হতে পারে একজন ব্যক্তির জন্য। তারপরও কি আমরা কেউ চাইবো এমন উত্তপ্ত আগুনের অগ্নিশিখাকে জীবনের জন্য খানিক সময়ের উপভোগ্য মুহূর্ত বানানোর! অবশ্যই আমরা চাইবো না। তাহলে আমাদের জন্য উচিৎ হবে এই ভয়ানক ব্যামো থেকে দেশ এবং সমাজের মানুষকে বাঁচানোর উপায়ন্তর খুঁজে বের করা। আপনি হয়তো জানেন যে, এই পরকীয়ার ফলে মানুষ নিজের সংসারের কথা ভুলে যায়। তখন তার কাছে পরকীয়াকে কোনো কঠিন থেকে কঠিন কাজ মনে হয় না। তার কাছে তখন পরকীয়াটা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হয়।


এই তো গেলো কয়েক দিন আগের ঘটনা; স্বামীর অগোচরে যখন একজন মহিলা পরকীয়ার মত ভয়ংকর ব্যামোতে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন অন্য আরেকজন লোকের কাছে, ঠিক তখনি তার সংসারের কথা শয়তান এসে ভুলিয়ে দিলো। শয়তান তার মনের একেবারে গভীরে পরপুরুষকে নিয়ে হরেক প্রকার কুপ্রবৃত্তিকে তুলে ধরেছে। ফলে সেই মহিলা গুনাহের অতল তলে হারিয়ে গেল। ঠিক তখনই তার বিবেক তার কাছে পরাজয় বরণ করলো। একপর্যায়ে এই কুপ্রবণতাটি ঢেকে রাখতে নিজ সন্তানকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি। এরকম উদাহরণ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেইে দেয়া যায়। পত্রিকার পাতায় এরকম খবর প্রায়ই দেখা যায়। আসলে শয়তান যখন কাউকে গুনাহের দিকে আহবান করে তখন কিন্তু একবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় না, একবারেই আহবান করে না। বরং আস্তে আস্তে গুনাহের স্বাদ এবং মজার ব্যাপারটা উপস্থান করে। তখন সেই বস্তুকে জগতের সবচেয়ে ভালো বলে মনে হয় তার কাছে।


আর মহিলারা যেনো জাহিলিয়াতের যুগের ন্যায় খোলাখুলিভাবে চলাফেরা না করে। কারণ এভাবে অর্ধনগ্ন হয়ে বাইরে যেতে শরীয়ত নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, ‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কু-বাসনা করে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।’ (সূরা আহযাব : আয়াত ৩২)। এ হুকুম শুধু নবী পত্নীগণের ওপর বর্তাবে না। বরং যুগে যুগে পৃথিবীতে যত মানুষ আগমন করবে সকল নারীদের জন্য এই হুকুম প্রযোজ্য হবে।


আজকাল বেশির ভাগ নারীরা কথা বলার সময় খুবই কোমল কণ্ঠে কথা বলার দ্বারা কিন্তু একজন পুরুষের মনে কু-বাসনা জেগে ওঠে। তাই খেয়াল রাখা উচিত যে, মেয়েদের গলার আওয়াজও শরীয়াতের সতর বা পর্দার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের সবারই খায়েশাত বা যৌবনের উত্তপ্ততা কালক্রমে বেড়ে থাকে। বিশেষ করে একজন পুরুষ বা মহিলা যেই হোক সবাইকে এ ব্যাপারে তৎপর হওয়া উচিৎ। আমরা কি জানি, যখন আমরা কোনো নারীর দিকে তাকাই তখন শয়তান সেই মহিলাকে আরো সুশোভিত করে তোলে আমাদের দৃষ্টিতে? আর এ কারণেই পুরুষ ব্যক্তি তাকে নিয়ে তার কল্পনার রাজ্যে হরেক প্রকার স্বপ্ন সাজায়। যার কারণে সেই পুরুষ ব্যক্তির মনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় সেই মহিলার সাথে কু-বাসনা সম্পাদনা করার নিমিত্তে। এ জন্যই নিম্নের হাদিসে প্রিয় নবী সা. ভবিষ্যতবাণী দিয়ে গেছেন। প্রিয় নবী সা. বলেন যে, ‘আমার পর আমি পুরুষের জন্য নারীর ফেতনার চেয়ে অধিক ক্ষতিকারক কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।’ (বুখারী, ৫০৯৬ ; মুসলিম, ২৭৪০)।


অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন, ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সূরাহ নুর, আয়াত : ৩০)। এই ধরণীর বুকে বর্তমানে যেই পাপটি বিস্তার লাভ করছে সেটি হচ্ছে চোখের গুনাহ। এই চোখের গুনাহের কারণে আমরা দুনিয়াতে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি এর চেয়েও বেশি ক্ষতি হচ্ছে আমাদের পরকালীন জীবনে। প্রতিটি চোখের পলকে আমাদের আমলনামায় কবিরা গুনাহ যুক্ত হচ্ছে। যে পর্যন্ত না আমরা আমাদের চোখের হেফাজতের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারবো ততদিন অবধি পরকীয়ার ব্যামো থেকে লোকদেরকে বাঁচিয়ে রাখাটা কঠিন ব্যাপার বলে মনে করছি। তাই আসুন, আমরা চোখের হেফাজত করার চেষ্টা করি। পরকীয়া বা কুপ্রবণতা এগুলো সবই চোখের কারণে হয়ে থাকে। এজন্য বলি, পরকীয়া থেকে চোখের হেফাজতের বিকল্প নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এমন সবগুনাহ থেকে হেফাজত করে সঠিকভাবে বুঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুক। আমীন।


লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আনয়ারিয়া মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর 


 

আরো পড়ুন