শিরোনাম :

  • রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ইমরানা উম্মে হাসসান
নবীজীকে চিঠি!
২০ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:৩৪:১৭
প্রিন্টঅ-অ+

হে প্রিয়তম!


আপনাকে লেখা এটা আমার প্রথম চিঠি। এর আগে কতদিন আপনাকে লিখতে চেয়েছি, জানাতে চেয়েছি হৃদয়ে জমানো কত কথা! কিন্তু লেখার কথা ভাবলেই নিজের দৈন্যদশা আমাকে ঘিরে ধরে। ভাবনায় পেয়ে বসে, কোথায় আপনি হে প্রিয়তম আর কোথায় আমি! অবশেষে আজ লিখতে মনস্থির করলাম। বুঝতে পারছি না কিভাবে শুরু করব! শুধু বলি, আমি আপনাকে ভালোবাসি। ভালোবাসি নিজের সত্তার চেয়েও বেশি! আপনার প্রতি এ মনে যে ভালোবাসা রয়েছে তা লিখে পুরোপুরি প্রকাশ করা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ ভালোবাসা ধারণে আমি ধনী হলেও তা ভাষায় প্রকাশের ক্ষেত্রে গরিব। কাঙাল। আমার শব্দভাণ্ডার যদিও অপ্রতুল কিন্তু ভালোবাসা সমৃদ্ধ! নির্ভেজাল! একেবারে খাঁটি। অবশ্য আমার উপরে আপনার দয়া-অনুগ্রহ অসামান্য, অতুলনীয় হে প্রিয়তম! 


এই পবিত্র প্রেমের বীজ আমার কচি মনে সর্বপ্রথম কে বুনে দিয়েছিলেনÑ আপনি জানেন? আমার মা। তিনি আমাকে খুব ভক্তিভরে শেখাতেনÑ আপনি কে? আপনাকে কিভাবে ভালোবাসতে হয়? মা বলতেন, আপনার সুন্নাহ অনুসরণ করলে দোজাহানে সফল হওয়া যাবে। আপনাকে ভালোবাসলে জান্নাত মিলবে... আপনার সান্নিধ্য-সৌভাগ্য জুটবে।


হে প্রিয়তম! তখন থেকেই আপনাকে ধারণ করেছি হৃদয়ের মণিকোঠায়। আপনার প্রেমের সুধা পান করতে হয়েছি পাগলপারা! আপনার রেখে যাওয়া জ্ঞান অন্বেষণে ঘর থেকে বের হয়েছি। বাবা-মার আদরকে তুচ্ছ করেছি। প্রেমের টানে হন্যে হয়ে ঘুরেছি এবই থেকে ওবই! কত রাত সকাল হয়েছে ‘নবীয়ে রহমত’Ñএর শৈল্পিক বর্ণনায়! কত সকাল সন্ধ্যা হয়েছে ‘বিশ্বনবী’র মোহনীয় আলাপচারিতায়! কত অশ্রু ঝরেছে ‘তোমাকে ভালোবাসি হে নবী’র পাতায় পাতায়! কতো বাসন্তী হাওয়া দোলা দিয়ে গেছে ‘প্রিয়তমা’র ফর্মায় ফর্মায়! সে কথা আপনি যদি জানতেন!


কেউ যখন আপনাকে নিয়ে কটু কথা বলে আমার ভেতরটা তখন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। বুক ফেটে কান্না আসে। প্রচণ্ড ক্রোধের সৃষ্টি হয়। তাই তো শাপলা কিংবা বোরহানুদ্দিনে সমবেত হওয়া আপনার প্রেমিকদের সাথে প্রচ্ছন্নভাবে ছিলাম আমিও! বুলেটবিদ্ধ না হয়েও সেদিন ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল আমার বুক! অঝোরে অশ্রু ঝরিয়েছিল দু’চোখ! আপনাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি বলেই আমার এ অস্থিরতা! আপনার প্রেমে মত্ত বলেই আমার এ ব্যাকুলতা!


বিশ্বাস করুন, তায়েফের পাথরের আঘাতে আমিও ব্যথা অনুভব করি! শিয়াবে আবি তালিবের বন্দীদের মধ্যে নিজেকে খুঁজে ফিরি! সাওরের সেই নিভৃত গুহা থেকে আমিও ওদের পা দেখতে পাই! ওহুদের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত আমাকেও বিষাদে ছেয়ে যায়! আমি বাইয়াতে রিদওয়ানে নিজেকে আবিস্কার করি! ৩৬০ প্রতিমাকে যখন আপনি কাবাছাড়া করছিলেন তখন ‘যা’আল হাক্কু ওয়া জাহাকাল বাতিল’ বজ্রধ্বনি আমার কানেও যেন বেজেছিল! জাবালে রহমত ও মিনায় সোয়ালাখ শ্রোতার মতো আমিও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনি বিদায় হজের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ! একাদশ হিজরীর ১২ই রবিউল আউয়ালে আমার আকাশও বেদনায় নীল রঙ ধারণ করে!


প্রিয়তম! আপনি আজ এ পৃথিবীতে নেই তাতে কী! আপনি তো আছেন হৃদয় থেকে হৃদয়ে! থাকবেন প্রতিটি মুসলমানের অন্তরের অন্তঃস্থলে! তাই তো প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজে আপনার আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করি। নিজেকে আপাদমস্তক আপনার রঙে রাঙাই। আপনাকে দরুদ ও সালাম পাঠাই।


হে প্রিয় রাসুল! আপনার উম্মত হতে পারা আমার জীবনের পরম সৌভাগ্য। আমি গর্বিত, আমি মুসলমান। আপনার কথা শুনে শুনে ধন্য হয়েছে কান! আপনার মহান সীরাত জুড়িয়েছে এ প্রাণ! আপনার চারিত্রিক মাধুর্য ও ব্যবহারিক সৌন্দর্যের কথা মনে হলেই আনমনে গেয়ে উঠি গান...


‘ম্যায় তো বে-সাহারা হো


দামান ভি হ্যায় খালি


নাবিয়ো কে নাবি


তেরি শান হে নিরালি’।...


জানেন তো, সেদিনের স্বপ্নের কথা মনে হলে আজও পুলকিত হই। সেই ছোট্ট আমি আর আমার ঘুমঘর। শত মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আপনাকে খুঁজেছি কতো...! সেই দৃশ্য এখনো আমার স্মৃতিপটে জীবন্ত! একেবারে তাজা!


হে খাতামুন নাবিয়্যিন! যে মজলিসে আপনার মুখনিঃসৃত বাণী পাঠ করা হয়, যার জবানে আপনার প্রতি দরুদ উচারিত হয়, যার লিখনীতে আপনার জীবনচরিত ফুটে ওঠে, যার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আপনার গানÑ আমি ভালোবাসি তাকে। তাদেরকে। সেসব মোহিত মজলিসকে। যদি কোনোদিন যেতে পারি আপনার শহরে, দেখতে পারি চক্ষুশীতল সবুজ গম্বুজ, ছুঁ’তে পারি রওজা মোবারক, সরাসরি সালাম দিতে পারি আপনাকেÑ ‘আসসালাতু ওয়াসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ’ বলে, সেটাই হবে আমার জীবনের পরম পাওয়া। সেই স্মৃতি রোমন্থন করেই কাটিয়ে দেব বাকিটা জীবন। প্রিয়তম! আমৃত্যু আপনার ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। আপনার প্রিয় হতে চাই। জানি, তাহলেই মিলবে হাশরে আপনার সুপারিশ আর হাউজে কাউসারের পানি। আপনি দেবেন তো?


পরিশেষে এ পাগলপ্রেমীর পক্ষ থেকে সামান্য উপহার... 


‘মুর্খতার নিকষ অন্ধকারে


আপনি আলোকবর্তিকা।


দুস্তর পারাবারে


উম্মতের মহান কাণ্ডারি।


অশান্তির দাবানলে পুড়তে থাকা ধরাধামে


আপনি শান্তির বারিধারা।


প্রগাঢ় জাহালতে হারিয়ে যাওয়া সমাজে


আপনার আদর্শ শুদ্ধতার আলোকরশ্মি।’


 


ইতি, প্রিয়তমের সাক্ষাৎ ও সুপারিশ লাভের আশায় পথ চেয়ে থাকা পাগলপ্রেমী...


 

আরো পড়ুন