শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
ইমাম ও সামাজিক অগ্রগতি
২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ২১:১৮:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+

সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে অন্যতম হলো মসজিদের ইমাম। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা ও বুকে জমানো ব্যাথা ও কথাগুলো ইমাম সাহেবের কাছে আমানত রাখেন। ইমামগণও বিভিন্ন উপায়ে সমাজের মানুষের দৈনন্দিন হাজারো সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। ইসলামের শান্তিময় জীবন ব্যবস্থা আদব শিষ্টাচার ও নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইমাম সমাজ প্রতিনিয়ত জ্ঞানের আলো বিতরণ করে থাকেন। সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, দুর্নীতি, ইভটিজিং, জুলুম ও ধর্ষণ দূর করে ন্যায়, ইনসাফ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইমাম সমাজের বিকল্প নেই। সঙ্গত কারণেই আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ইমামদের গুরুত্ব অপরিসীম।


 


কিন্তু  পরিতাপের বিষয় হলো, আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর এই ইমাম সমাজ আজও দারিদ্রের কশাঘাতে জর্জরিত। বর্তমান বাজারে একজন দিনমজুর শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা পাঁচ শত থেকে ছয় শত টাকা হলেও সমাজ প্রতিনিধি একজন ইমামের দৈনিক হাজিরা হয় মাত্র এক শত পঞ্চাশ টাকা থেকে দুই শত টাকা। এমনকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে মসজিদ কমিটির পর্যাপ্ত বেতন প্রদানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ইমামের বেতন দশকের ঘরের কম; যা দিয়ে একজন ইমাম ফ্যামিলিসহ ঢাকা থাকবেন তো দূরের কথা; মা বাবা স্ত্রী সন্তান গ্রামে রেখেও সংসার চালানো দূরূহ ব্যাপার। অথচ ইমাম সাহেব সামাজিক ও আত্মমর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে দারিদ্রতার এই যন্ত্রণা কারো নিকট শেয়ার করতে পারেন না; বরং সব দুঃখ কষ্ট বুকে চেপে  স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যান। এ ছাড়া আরো অসংখ্য সমস্যা ও প্রতিকুল অবস্থা মোকাবেলা করে ইমাম সমাজ তাদের মহান দায়ীত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। নিম্নে কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরা হলো:


১. সমাজের অবক্ষয় তথা মাদক জুয়া সুদ হত্যা ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করলে এহেন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণ ইমামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপবাদ আরোপ করে। এমনকি তাঁর প্রাণনাশেরও চেষ্টা করে থাকে।


২. মসজিদ কমিটির সাথে ইমামের কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলেই তাৎক্ষণিক বিনা নোটিশে ইমামকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো আইনের তোয়াক্কা করা হয় না।


৩. একজন ইমাম ২৫-৩০ বছর কোনো মসজিদের দায়িত্ব পালন করার পরও বিদায়ের সময় তাকে কোনো ধরনের পেনশন বা ভাতা প্রদান করা হয় না। যা শুধু অমানবিকই নয়, বরং মানবতাবিরোধীও বটে।


 


২০০৮ সালে পরিচালিত ইসলামি ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ টি। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই রয়েছে ২ হাজার ৭৭৭ টি। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানামুখী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন; যা বিশ্ব দরবারে আজ ব্যাপক প্রসংশিত। তবে এ কথাটিও সবাইকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, এই আড়াই লাখ মসজিদের ইমাম তথা সমাজ প্রতিনিধিদের পেছনে রেখে সুষ্ঠু সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং আদর্শ সমাজ ও উন্নত দেশ গঠনে ইমামগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।


 


 


লেখক : 


খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ


helaluddinhabibi87@gmail.com


 

আরো পড়ুন