শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
পরিবারের সঙ্গেই আসল ঈদ
২৮ এপ্রিল, ২০২২ ২১:২৬:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+

পবিত্র ঈদুল ফিতর আমরা উদযাপন করবো চাঁদ দেখা গেলেই। আমরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করবো। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে ঈদ পালন করতেন। সাহাবায়ে কেরামও কি দুঃস্থ ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার চেষ্টা করতেন? এমন অনেক বিজ্ঞদের মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন দৈনিক আমার বার্তা জীবন ও ইসলাম প্রতিবেদক আদিব সৈয়দ। 


পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে আসল ঈদ


জহির উদ্দিন বাবর


আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনেক উৎসবই আজ নিষ্প্রাণ ও নিষ্প্রভ। উৎসব আছে, প্রাণ নেই; মাতামাতি আছে, হারিয়ে গেছে মূল আবেদন। ঈদও তেমনি। ঈদ মানেই আনন্দ। তবে আনন্দের মাত্রা যেন শরিয়তের সীমা অতিক্রম না করে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আমরা অনেকেই মনে করি, এই দিনে যা খুশি তাই করবো। না, ইসলাম সেই অনুমতি দেয়নি। ঈদের আনন্দটা সবাইকে নিয়ে করতে হবে। যারা অভাব-অনটনের কারণে ঈদ-আনন্দে অংশ নিতে পারছে না তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে নিজে কম খেয়ে, কম পরে পাড়া-প্রতিবেশীর অভাব মোচন করতে হবে। এটাই নবীজীর আদর্শ, এটাই তাঁর সুন্নত। ঈদ যেহেতু একটি ইবাদত তাই সেভাবেই এটা উদযাপন করতে হবে।


-কথাসাহিত্যিক ও গণমাধ্যমকর্মী


দুঃস্থ মানবতার পাশে থাকলে ঈদ-আনন্দ পূর্ণতা পায়


মুফতী আবূ বকর সাদি


হাদিস এর ভাষ্য অনুযায়ী রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি রোজার শেষে ঈদ উদযাপনের সময় অপরটি পরকালে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে যখন। তাই ঈদ যেন গরিব-দুঃখী ছোট বড় সকলের জন্য আনন্দ বয়ে আনতে পারে সে বিষয়ে সবার যতœবান হওয়া উচিত। বিশেষভাবে সমাজের বিত্তবান যারা আছেন এ বিষয়ে তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। যাকাত ও সদকাতুল ফিতর আদায়সহ অন্যান্য নফল দান খায়রাতের মাধ্যমে দুঃস্থ মানবতার পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে হবে। পাশাপাশি সকলের অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ দূর করে আত্মীয়তা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে মজবুত করে শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত। ঈদের শিক্ষাকে কেন্দ্র করে আমরা ভালোবাসায় পূর্ণ একটি সমাজ গড়তে পারি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।


মুহতামিম, মারকাযুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, ঢাকা


মুফতী আবুল ফাতাহ কাসেমী 


স্বর্গীয় আনন্দ দেয় ঈদ


ঈদ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্বন। ঈদকে ঘিরে আমাদের জীবন ঘুরে দাঁড়ায়। পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর এ আমাদের ব্যক্তি জীবনে এক স্বর্গীয় আনন্দ এনে দেয়। সামাজিক জীবনে প্রীতি ও ভালোবাসা এক মেলবন্ধন নির্মাণ করে। 


আমার কাছে ঈদকে কেবল আনন্দের মনে হয় না। মনে হয় বেদনারও। আমি বলি, বিয়োগ বেদনা। এক বছরের জন্য সিয়ামকে বিদায় জানানো। বন্ধু বান্ধবদের সাথে প্রতিদিনের ইফতার, পরিবারের সাথে ভোরে উঠে সাহরি, এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে তারাবি, আশেপাশের গরিবদের দান সাদকাহকে এক দিনের ঈদের মাধ্যমে বিদায় জানানো খুবই কষ্টের। বেদনার। তবে একজন প্রকৃত মুমিন এসবকে বিদায় জানায় না বরং এক মাসের চর্চিত সাধনা বুকে ধারণ করে এগারো মাসের পাথেয় সংগ্রহ করে। বলি, হায়! প্রকৃত মুমিন যদি হতে পারতাম! 


ঈদের খুশিতে আমরা অনেকে একটি বিষয় বেমালুম ভুলে যাই, ‘ঈদ’ (খুশি)কে অনেকে ‘অঈদ’ (গুনাহের উপকরণ) বানিয়ে ফেলি। এজ এ মুসলিম হিসেবে আমাদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত। ঈদ নিছক একটি ইবাদত। ঈদের খুশিতে মহান প্রভু আল্লাহ তায়ালার শানে জামাল তথা সৌন্দর্য ও দয়ার অভূতপূর্ব ভাব ফুটে ওঠে। 


ঈদের এ খুশি এ আনন্দ সূচিমময় হোক আমদের জীবনজুড়ে। সাধনা, প্রেম প্রীতি ও সহমর্মিতার ঈদের এ শিক্ষা জীবনজুড়ে ফিরে আসুক আমাদের যাপিত জীবনে। সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দে থাকুক ঘরে ঘরে। ঈদ মোবারক। তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ও মিনকুম।


লেখক ও শিক্ষক


 


 

আরো পড়ুন