শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
ঈদ হোক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার
০৭ জুলাই, ২০২২ ২২:১৬:০৫
প্রিন্টঅ-অ+

আর একদিন আছে ঈদুল আজহার। ঈদের তিন দিন। তিন দিনই মোমিন আল্লাহর নামে কুরবানি করে অর্জন করতে পারবেন বিশেষ পুণ্য। আর পাঁচ দিন আইয়্যামে তাশরিকের। এবার বন্যায় প্রচ- ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। আলোকিত মানুষদের ত্রাণ ও ভালোবাসা পৌঁছেছে এবার দুর্গত এলাকায়। পবিত্র ঈদের এই সময়ে আমাদের কী করা উচিত। ভ্রাতৃত্বের ঈদ পরিপালনের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেনে দেশের শীর্ষ আলেম লেখক, কথাসাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। নিচে তুলে ধরা হলো তাদের বক্তব্য। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হাসান শাহরিয়ার। 


 


বন্যার্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই ঈদ


মুফতি জাবের কাসেমী


ঈদ আমাদের জীবনে বয়ে আনে শান্তি। সুখসমৃদ্ধি। প্রশান্ত হয় হৃদয়-মন। প্রতিবারের মতো এবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। আমার দেশের হাওর অঞ্চলের মানুষ ভালো নেই। বন্যায় তলিয়ে গেছে তাদের ভিটে মাটি ঘর। থাকার শেষ সম্বল টুকুও নেই। তাই এবারের ঈদ ভাগাভাগি করে নিতে চাই বন্যার্তদের সঙ্গে। দেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ যেসব অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, সেসব মানুষদের সঙ্গে কাটবে আমার ঈদ।


আমরা কোরবানির পশু জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন জবাই করি আমাদের মনের পশুত্বকে। হৃদয় থেকে হিংসা-বিদ্বেষ,ঘৃণা-কপাট, রাহাজানি-মারামারি-খুনোখুনি দুঃখ-যাতনা সবকিছু ঝেড়ে ফেলে খালেস মোমিন ও আল্লাহওয়ালা হতে পারি। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে সেই প্রার্থনা করে শেষ করছি ঈদ শুভেচ্ছা।


মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা


 


নিজের আমিত্ব¡কে কোরবানি করতে হবে


জহির উদ্দিন বাবর


পবিত্র ঈদুল আজহা দুয়ারে হাজির। এই ঈদ ত্যাগ ও বিসর্জনের। এই ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে অনাবিল আনন্দ। মূলত নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে, নিজের কথা না ভেবে পরের জন্য কিছু করতে পারাই প্রকৃত প্রশান্তির বিষয়। এ কারণেই ত্যাগ ও বিসর্জনের মধ্যেও ঈদুল আজহা আনন্দের উপলক্ষ্য। এই ঈদের প্রকৃত দাবি হচ্ছে, আল্লাহর দরবারে নিজেকে সর্বোতভাবে সমর্পণ। হজরত ইবরাহিম আ. নিজের প্রিয় ছেলেকে কোরবানি করার হিম্মত দেখিয়ে নজিরবিহীন যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন সেটারই প্রতীকী রূপ ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির মাধ্যমে মূলত বান্দা তার নিজের আমিত্ব ও বড়ত্বকে কোরবানি করেন। যারা খালেস অন্তরে সেটা করতে পারেন তারাই আল্লাহর কাছে সেরা। ঈদুল আজহা আমাদেরকে আল্লাহর কাছে সেরা হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রত্যেকের উচিত সেই সুযোগটি কাজে লাগানো।


অভিভাবক পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম


 


পশুর গোশত বিতরণে আলাদা প্রশান্তি


মিরাজ রহমান


ঈদুল আজহার আনন্দটা অন্য ঈদের তুলনায় একটু ভিন্ন আঙ্গিকের- দুস্থ, অসহায়-গরিবদের মাঝে কোরবানীর পশুর গোশত বিতরণ করার মাধ্যমে আলাদা শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়। বন্যা-বিদ্ধস্ত একটি সময়ে বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারে এবারের ঈদুল আজহা উপস্থিত- আসুন আমরা সবাই নানান আঙিকের নানা মতামতকে ছাপিয়ে এবারের ঈদুল আজহায় নিজে কোরবানী দেই, পাশাপাশি অন্যকে কোরবানী দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করি এবং সবাই মিলে কোরবানীর পশুর গোশত দুস্থ, অসহায়-গরিবদের মাঝে বিলি করার পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝেও বিতরণ করি।


কোরবানীর বিধানের তাৎপর্যপূর্ণ আত্মত্যাগ ও সহমর্মিতার মহিমায় আলোকিত হোক আমাদের জীবন। আলোড়িত হোক আমাদের সমাজব্যবস্থা। এ ত্যাগের; এ উৎসর্গের বিধানের শিক্ষায় উদ্ভাসিত হোক আমাদের মন-মানসিকতা-এই কামরা রইলো। 


চেয়ারম্যান, সুলতানস


 


সুন্দর সোনালী সমাজের বার্তা ঈদ


জিয়াউল আশরাফ


ঈদ। আনন্দ আর শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। অশান্ত পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দেয় সাম্যের পয়গাম। দুখি-অনাথ, নির্যাতিত মানুষের হৃদয়ে আনে খুশির ছোঁয়া। ঈদ আমাদের উৎসব। মুসলমানদের উৎসব। ঈদ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ।  সুন্দর সোনালী সমাজের বার্তা বহন করে ঈদ। প্রেম ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয় সবার মনে-হৃদয়ে।


ঈদ আসছে। কাল বাদে পরশু ঈদুল আযহা। কুরবানীর ঈদ। পশু কুরবানীর সাথে সাথে কুরবানী হোক আমাদের মনের কালিমা।  এই ঈদে আমাদের মাঝে গড়ে উঠুক একতা। দূর হোক হিংসা বিদ্বেষ। আগামীদিনে নতুন পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে আমরা জেগে উঠি নতুন করে। সুন্দর-সাম্য সুখময় সমাজ প্রতিষ্ঠা হোক। আমাদের মাঝে তৈরি হোক মানবিকতা। অসহায় দুখি সব মানুষের পাশে আমরা থাকবো। যার যতটুকু সাধ্য আছে তাই নিয়ে ঈদের দিনে সহযোগিতা করবো গরীবদের। শিশুদের জন্য হোক নতুন জামা-জুতো। ঈদ হোক সবার। আনন্দ ছড়িয়ে যাক সব গ্রামে, পাড়া মহল্লায়। খুশির রেখা ভেসে উঠুক ধনী গরীব ছোট বড় সবার ছোটে। এবারের ঈদে এই আমার প্রত্যাশা।


নির্বাহী সম্পাদক, শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীব


 


মুসলিম জীবনে কোরবানির গুরুত্ব 


এহসান বিন মুজাহির


কোরবানি গুরুত্বপুর্ণ একটি ইবাদত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব। কোরবানির গুরুত্ব প্রসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন কারিমে এরশাদ করেন-‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি যাতে তাঁরা হালাল পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (সূরা হজ : ৩৪)। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও বলেছেন-‘নিশ্চই আমার নিকট কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার নিকট পৌছে একমাত্র তাকওয়া। (সূরা হজ : ৩৭)। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) পবিত্র মদিনায় দশ বৎসর জীবন-যাপন করেছেন প্রত্যেক বছরই তিনি পশু কোরবানি করেছেন। 


পিতা পুত্রের এই মহা আত্মত্যাগ আজও আমাদের প্রেরণা যোগায়। এই অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের ইতিহাসকে স্মরণ রাখার জন্য আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মোহাম্মদির উপর কোরবানি ওয়াজিব করেছেন। 


অধ্যক্ষ, শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুল, মৌলভীবাজার


 


ত্যাগই হোক আমাদের জীবন চলার গতিপথ


কাজী সিকান্দার


কয়েকদিন পরই ২০২২ সালের ঈদুল আযহা। প্রথমেই সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমাদের সারা বছরের সময়গুলো কাটুক ঈদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের মত করে। প্রতিটি ঈদ আমাদের মাধ্যে যে শিক্ষা ও দীক্ষার রূপরেখা নিয়ে আগমন করে, সে শিক্ষা ধারণ করে জীবনের গতিপথ নির্ণয় ও পরিচালনা যেন হয় এটিই প্রতিটি মুসলমানের কাছে আল্লাহ তাআলার চাওয়া। রাসূল (সা.)-এর সারা জীবনের মেহনত। দ্বীন বা ইসলাম এবং ঈমানের দাবি। প্রকৃত মুমিন ও মুসলামের উচ্ছ্বাসের দিন সে দিন, যেদিন সে জানতে পারবে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ বিষয়টি এখনও আমরা নির্ণয় করতে পারি, আমাদেরকে কি মহান প্রভু ক্ষমা করেছেন? সন্তুষ্ট কি তিনি আমাদের উপর? আমাদের কর্মই তা বলে দেবে। ত্যাগই হোক আমাদের জীবন চলার গতিপথ। কারণ ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ শিক্ষা দেয়।


নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক মুসলিম নারী


 


মুসলিম উম্মাহর আনন্দ ঈদ


সাইফুল ইসলাম রিয়াদ


ঈদ। মুসলিম উম্মাহর আনন্দ ও উৎসবের একটি দিন। এই দিনটি যেমন সকলের, তেমনিভাবে এর সুখ-দুঃখের ভাগাভাগিটাও যেন হয় সকলের।


ঈদুল ফিতরে সিয়াম পালনের মাধ্যমে যেমন রয়েছে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার শিক্ষা, তেমনি ঈদুল আজহায় ধনীদের জন্য রয়েছে গরীবের মুখে হাসি ফুটানোর শিক্ষা। রয়েছে দানশীলতা ও উদারতার শিক্ষা। ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ভুলে একে অন্যের হয়ে যাওয়াটাই ঈদের প্রকৃত বার্তা। এতে মহানুভবতা ও মনুষ্যত্বের উৎকর্ষতা বিকশিত হয়। 


এই দিনে খুশির আনন্দধারা প্রবাহিত হোক প্রতিটি মুসলিম অন্তরে। প্রতিটি হৃদয়ে ছুঁয়ে যাক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা। হৃদয়ে জাগরিত হোক তাকওয়াপ্রাপ্তির প্রবণতা।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, (কুরবানীর পশুর) রক্ত ও গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না বরং তোমাদের তাকওয়াই শুধু পৌঁছে থাকে। (সূরা হজ : ৩৭)


আল্লাহ তায়ালা কুরবানীর মাধ্যমে আমাদের মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


পরিচালক, গোল্ডেন ফাউন্ডেশন, কদমতলী, সিলেট


 


কুরবানির পশুর বর্জ্য যততত্র না ফেলি


নাজমুল ইসলাম কাসিমী 


দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ হলো মুসলিম উম্মাহের অন্যতম একটি আনন্দের দিন। ঈদ আমাদেরকে একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ ভুলে একাত্মতা, সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে শেখায়। নিজের সাধ্যমতো উপার্জন নিয়েই আনন্দ উৎসব করে মানুষ। তাই ঈদ দ্বারাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নিয়ামত কিংবা অনুগ্রহে ধন্য করে থাকেন। মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাহর প্রতি নিয়ামত হিসেবেই ঈদ দান করেছেন।


১০ জিলহজ্জের প্রথম প্রহরেই দেশের বিভিন্ন মসজিদ আর ঈদগাহে আদায় হবে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত। নামাজ শেষেই শুরু হবে পশু কুরবানি। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনে যারা কুরবানি দেবেন, আল্লাহ তাদের কুরবানি কবুল করুন। যারা কুরবানি করবেন তাদের প্রতি অনুরোধ, কুরবানির পশুর বর্জ্য যততত্র ফেলে রেখে আমাদের চারপাশের পরিবেশ দূষিত করা থেকে সতর্ক থাকবো।


সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ আপনাদের জন্য মোবারক হোক।


লেখক ও সম্পাদক


 


কুরবানির ঈদে বন্যাদুর্গত লোকেদের কথা ভুলবেন না


আমিন আশরাফ


ঝুমঝুম বিষ্টির মওসুমে এক পশলা আনন্দ বার্তা বয়ে নিয়ে আসতে যাচ্ছে এবার ঈদুল আযহা। সোনালি রোদ্দুরে আচমকা আকাশে দেখা যায় মেঘের ঘনঘটা, পরক্ষণেই ছিঁচকে কাঁদুনি বুড়ির মতো বিষ্টি চারপাশে ভিজে একাকার হয়ে যায়। এমন পরিবেশে ও ঈদুল আযহায় মহান আল্লাহর জন্য কুরবানি করাটা অনেক আনন্দের।


কুরবানি পশু কেনাটা যেন খাঁটি নিয়তের উপর হয়। নিয়তে সমস্যা নিয়ে যতোই বড় গরু কুরবানি করা হয় না কেন তা মহান আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। কুরবানি মহান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে চাইলে নিয়তটা পাকাপোক্ত করা জরুরি।


আপনার কুরবানিকরা গোশতের কিছু অংশ বন্যা দুর্গত এলাকার লোকদের জন্য তুলে রাখতে পারেন। কংক্রিটের শহরে যারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে গোশত সংগ্রহ করেন তারা যথেষ্ট গোশত পেয়ে যান বরং অতিরিক্তটা তারা বিক্রিও করে দেন। আপনার গোশতের অংশ অভাবীদেরকে দিতে পারেন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুন্দর ও সমৃদ্ধময় জান্নাতি ঈদুল আযহা পালন করবার তাওফিকদিন। আমীন।


প্রকাশক, যিয়ান


 


ঈদের খুশিতে খুলে যাক মানবতার দুয়ার


মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী


আনন্দ ও মানবতার বার্তা নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমাদের মাঝে আগমন করেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসব উদযাপনের নির্দিষ্ট দিবস রয়েছে; মহান আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের আনন্দ উদযাপনের জন্য দু’টি দিবস দান করেছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের এক বিশেষ নেয়ামত। এই দিনে মুমিনের হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার আসে। প্রত্যেক খোদাপ্রেমিক বান্দা পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান ¯্রষ্টার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য আর্জনের প্রয়াসে ব্যকুল থাকে। সঙ্গত কারণেই মুসলিম উম্মাহর জীবনে ঈদুল আজহার গুরুত্ব অপরিসিম। মূলত: মহান আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করাটাই হল ঈদুল আজহার মুল আনন্দ।  


সে সব এলাকায় এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের তীব্র সংকট। সুতরাং পশু কোরবানি করার পাশাপাশি এ বছরের ঈদ উদজাপিত হোক বানভাসী অসহায়  দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। ঈদের খুশিতে খুলে যাক মানবতার দুয়ার। 


প্রিন্সিপাল, মারকাজুল উলূম আজিজিয়া মাদরাসা, কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা 


 


ত্যাগই ঈদের মূল প্রেরণা


মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী


পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। ত্যাগই এই ঈদের মূল প্রেরণা যা আমাদেরকে পাপ, লোভ, হিংসা সহ সব ধরনের অপরাধ পরিত্যাগের শিক্ষা দেয়। ঈদুল আযহায় সার্মথবান সবাইকে ইখলাসের সাথে পশু কুরবানী করে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সীমাহীন নেকী অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। কারণ কুরবানীকৃত পশুর রক্ত, গোশত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; আল্লাহর কাছে পৌঁছে কেবল তাকওয়া ও ইখলাস। কুরবানীর পশুকে ঘিরে লোক দেখানো এবং নিজের কৃতিত্ব প্রকাশের যে অশুভ প্রতিযোগিতা সমাজে চলে তা চরম নিন্দনীয় ও পরিত্যায্য। হযরত ইবরাহীম ও ইসমাইল আ. এর ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করে মহান আল্লাহর যাবতীয় নির্দেশের কাছে নিজেদের সমর্পণের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে করোনা ও বন্যার কারণে অসহায় বনী আদমের পাশে পাশে দাঁড়াতে হবে। বর্জ্য ইত্যাদি দ্রুত অপসারণ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করেন, আমীন।


সিনিয়র মুহাদ্দিস, যাদুরচর মাদরাসা সাভার ঢাকা।


 


সবার সুখে হাসবো এবং কাঁদব সবার দুঃখে


উমর ফারুক শাবুল


ঈদের আনন্দ সব বয়সী মানুষের মধ্যেই বিরাজমান। ঈদ ঘনিয়ে আসলেই ঈদ মোবারাক ও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় ঈদের প্রহর গননা। কবে ঈদ আসবে। ঈদের সকালে নুতন পোশাক পড়বো। ঈদগাহে যাবো। নামজ পড়বো, কোলাকোলি করবো। কর্মময় ব্যস্ত জীবনে ইচ্ছে করলেই একে-অপরের সাথে দেখা হয় না। কারণ, জীবিকার তাগিদে সবাই যার যার কর্ম নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ঈদের ছুটিতে সবাই জন্মভূমিতে আসার চেষ্টা করে। বন্ধু বান্ধবরা মিলে সুখ দুঃখ ও রম্যরসের গল্প হবে, আড্ডা হবে, খানাপিনার আয়োজন হবে। তাই, সারা বছর ঈদের জন্য উম্মুখ হয়ে থাকতাম। কিন্তু এবারের ঈদ আনন্দহীন, নিরানন্দ। আমি সিলেটের সন্তান। আমি নিজেই বন্যায় বিপর্যস্ত পরিবারের সদস্য।  সিলেটের হবিগঞ্জে আমার জন্ম। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্থ এবং ক্ষতিগ্রস্ত। এখনও মানুষ পানিবন্ধি। এমনকি সামর্থের আলোকে বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য নুতন পোশাক পরিচ্ছদ দেয়ার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। কবির সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই-


সবার সুখে হাসবো আমি/কাঁদব সবার দুঃখে, নিজের খাবার বিলিয়ে দিব/অনহারীর মুখে।


অর্থ সম্পাদক, বানিয়াচং উপজেলা প্রেসক্লাব


 


 


 


 


 


 


 

আরো পড়ুন