শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
আজ পহেলা আষাঢ়
মাসউদুল কাদির
১৪ জুন, ২০২১ ২২:০১:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


বৃষ্টিভেজা আষাঢ়ের শুরু। আষাঢ়ে ধূসর মেঘের বান ডেকে যায় প্রতিদিন। আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সকাল অন্যরকম। ‘আষাঢ় দিনে বৃষ্টিমধু ঝরেপড়ে রোজ/খুকুর ভিজে জামাকাপড় কে রাখে তার খোঁজ।’ বাংলা ভাষাভাষি মানুষের হৃদয়ে ভিন্নরকম দোলা দিয়ে যায় এই আষাঢ়। আষাঢ়ে গ্রাম ও পাহাড়ে আসে ঢল। ঢলের মাছও স্বাদে ভরপুর।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আষাঢ়কে যেন এখনও জিইয়ে রেখেছেন। শিশু মনে, আষাঢ়ের ঢল আর শ্রাবণের ধারা মনজুড়ে যেন বয়ে চলে। তিনি সুন্দর বলেছেন,

‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে,/আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।/এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি/পুলকে দুলিয়া উঠেছে আবার বাজি,/নুতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে।/আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।’

আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষার শুরু আষাঢ় দিয়ে। ১৪২৮ বঙ্গাব্দের আষাঢ়ীয় প্রথম। কদমফুলের ছবি দিয়েই যেন বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষা প্রবেশ করে। কদম না হলে বর্ষা হয় না।

বিশ্বকবি তার ‘আষাঢ়’ কবিতায় বলেছেন, ‘বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর, আউশের ক্ষেত জলে ভরভর, কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিছে দেখ্ চাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।’

ঘরের বাইরে গেলেই ভিজে একাকার হতে হবে। কবি এটাই বোঝাবার চেয়েছেন। ঠাকুরের কবিতার মতো করেই যেন পৃথিবীতে নেমে আসে বর্ষা। আকাশ ঘুমরো মুখ করে আষাঢ় আগমনের বার্তা শোনায়। বৈশাখ শেষ হতে না হতেই এবার বৃষ্টি এসেছে বারবার। আষাঢ় বার্তা দিচ্ছিল প্রায় প্রতিদিন।  

আমরা জানি, আষাঢ় বাংলা সনের তৃতীয় মাস। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে জুন-জুলাই মাসের মধ্যবর্তীসময়ে আষাঢ় মাস। আষাঢ় নামটি এসেছে পূর্বাষাঢ়া ও উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্রে সূর্যের অবস্থান থেকে। এমাসে প্রচুর বৃষ্টি হয়। গ্রীষ্মের দাবদাহ শেষে আষাঢ়ে বৃষ্টির ছোঁয়ায় বাংলার প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পায়। নতুন আনন্দে জেগে উঠে প্রকৃতির চাদর। গ্রীষ্মের রুদ্র প্রকৃতির গ্লানি আর জরাকে ধুয়ে মুছে প্রশান্তির স্নিগ্ধতা আর সবুজে ভরে তোলে প্রিয় বর্ষা। পথঘাট সবখানে পরিচ্ছন্নতার একটা আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির পরের পরিবেশ নিয়ে রীতমতো গর্ব করা যায়।

আর বাঙালি মননে সবচেয়ে বেশি রোমান্টিকতা-আধ্যাত্মিকতার সুর বেজেছে এই বর্ষায়। সাহিত্য জুড়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে নানাভাবে। বহুকাল আগে কালিদাস তার ‘মেঘদূত’ কাব্যে বর্ষা বন্দনা করেছিলেন এভাবে ‘আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসে মেঘমাসৃষ্টসানুং/বপ্রক্রীড়াপরিণতগজ প্রেক্ষণীয়ং দদর্শ।’ আরো আগে বৈষ্ণব কবি বিদ্যাপতি লিখেছিলেন, ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।/এ ভরা ভাদর/মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।’

বর্ষায় শীতলতা আছে প্রেমের বাহুতে কারো স্পর্শ পাওয়ার মতো। প্রকৃতি রাঙিয়ে দেয়। গ্রীষ্মের খর তাপ যেন চুষে নেয়। প্রকৃতি প্রেমিক মানুষের কাছে তাই বর্ষা নিয়ে আসে অভিনব ব্যঞ্জনা নিয়ে। কবিরা যেন বর্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকে। বর্ষাবিলাপে নিজেদের ভালোবাসার কথা সবসময় বলতে ব্যাকুল কবিরা। তাই গানে-কবিতায় বাংলার কবিরা করেছেন বর্ষা-বন্দনা।  

জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলামের কাছে বর্ষাকে মনে হয়েছে ‘বাদলের পরী’। তিনি লিখেছেন, ‘রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে/কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে।’

আনন্দঘন বাদল দিনের বার্তাও দেয় এ বর্ষা। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে যাক সব জরা ও পাপের কালিমা। সেই আশায় পথচেয়ে থাকি সবসময় আমরা।





 


আরো পড়ুন